| |

সিডি গোপীনাথ

১ মার্চ, ১৯৩০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মাদ্রাজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে অন্যতম দর্শনীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন। তবে, এ সাফল্যকে উচ্চ স্তরে বহমান রাখতে পারেননি। ভারতের পক্ষে মাঝে-মধ্যে খেলার সুযোগ পেতেন। রঞ্জী ট্রফিতে মাদ্রাজের নেতৃত্বে ছিলেন ও প্রায়শঃই সফররত দলগুলোর বিপক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের অধিনায়কের দায়িত্বে থাকতেন। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম পর্যন্ত স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ২৩ খেলায় ৫৬ গড়ে ১৪৪৯ রান তুলেন।

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে মহীশূরের বিপক্ষে নিজের সেরা ইনিংস খেলেন। দলের সংগ্রহ ২৩/৩ থাকা অবস্থায় ২৩৪ রান সংগ্রহ করে দলকে ৪২৯ রানে নিয়ে যান। এরপর, অন্ধ্রের বিপক্ষে পরের ইনিংসে ১২০ রান তুলেন।

১৯৫১ থেকে ১৯৬০ সময়কালে আট বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে ভারতের পক্ষে মাত্র আট টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে নিজ দেশে নাইজেল হাওয়ার্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৫১ তারিখে বোম্বেতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। এম.কে. মন্ত্রী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দারুণ খেলে অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংসসহ দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২ রান তুলেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর এ সংগ্রহ দলের সর্বোচ্চ ছিল। টেস্টটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নেয়া সিরিজটি ০-০ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।

তবে, পরবর্তী ৭ টেস্টে মাত্র ১৫ গড়ে ১৫০ রান তুলেছিলেন। এ পর্যায়ে ১২ ইনিংসের চারটিতে শূন্য রান পেয়েছিলেন ও পাঁচ ইনিংসে ১৬ রান পেয়েছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে নয় শতক সহযোগে ৪২ গড়ে ৪২৫৯ রান পেয়েছেন। তবে, ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে বিপর্যয়কর সফরে অংশ না নিলে তাঁর গড় ৪৬ হতে পারতো। রঞ্জী ট্রফিতে ৫১ গড়ে রান সংগ্রহ করেছেন।

ধ্রুপদীশৈলী বিস্তৃত স্ট্রোক খেলায় পারদর্শী ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রান সংগ্রাহক হলেও তাঁর টেস্ট রেকর্ড মোটেই সুবিধের ছিল না। তবে, টেস্ট অভিষেক পর্বটি বেশ চিত্তাকর্ষক ছিল। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংসসহ দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২ রান তুলেছিলেন। প্রথমটিতে স্ট্রোকের পূর্ণাঙ্গতা দেখাতে সচেষ্ট হলেও দ্বিতীয়টিতে তাঁকে রুখে দাঁড়াতে দেখা যায়। এ পর্যায়ে ভারতীয় উইকেটের তড়িৎ পতন ঘটছিল।

মাদ্রাজের চূড়ান্ত টেস্টে ৩৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। সপ্তম উইকেটে পলি উমরিগড়ের সাথে ৯৩ রানের জুটি গড়েন। এরপর থেকে দলে আসা-যাবার পালায় ছিলেন। ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ড সফরে দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের মাধ্যমে এর সূচনা ঘটে। তুলনামূলকভাবে পাকিস্তানের মাটিতে বেশ সফল ছিলেন। সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ৫৮.৩৩ গড়ে রান পেয়েছিলেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে কলকাতায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৩৯ রান তুলে দলের শীর্ষ রান সংগ্রাহক হন। এরপর, আবারও পুরনো রূপে ফিরে যান।

১৯৫৯-৬০ মৌসুমে নিজ দেশে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৩ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। এ টেস্টে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পান। দলের ১৯৪ রানের মধ্যে ৩৯ তুলে শীর্ষ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

তবে, রঞ্জী ট্রফিতে ঠিকই রানের ফুলঝুড়ি ছুটিয়েছিলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে মহীশূরের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৩৪ রান তুলেন। এ মৌসুমে ৫১.০৬ গড়ে ২৩৪৯ রান তুলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে সফররত নিউজিল্যান্ডীয় একাদশের বিপক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের সদস্যরূপে ১৭৫ রানের অন্যতম স্মরণীয় ইনিংস খেলেন। কয়েক বছর মাদ্রাজের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ত্রিশের শুরুতে ক্রিকেট খেলাকে বিদেয় জানান। ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত থাকায় তুলনামূলকভাবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে কম খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তাসত্ত্বেও, সত্তুরের দশকে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে ক্রিকেট জগতে পুণরায় আবির্ভূত হন। প্রধান দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে ভারত দলের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব নিয়ে ইংল্যান্ড গমন করেছিলেন। স্নাতকধারী ছিলেন। গর্ডন উডরোফের জাহাজীকরণ প্রতিনিধি ছিলেন। এরপর, নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।

Similar Posts

  • | |

    জসপ্রীত বুমরা

    ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে গুজরাতের আহমেদাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জসবীর সিং ও দলজিৎ বুমরা দম্পতির সন্তান। সাত বছর বয়সে পিতৃহারা হন। মাতা দলজিৎ বুমরা বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল। জুলিকা নাম্নী…

  • | |

    ইজাজ বাট

    ১০ মার্চ, ১৯৩৮ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ছিলেন। তারচেয়েও কার্যকরী উইকেট-রক্ষক হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটাতে সচেষ্ট ছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে লাহোর, মুলতান,…

  • | |

    ব্রুস টেলর

    ১২ জুলাই, ১৯৪৩ তারিখে ক্যান্টারবারির তিমারু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, বামহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ১৯৭০-এর দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড দলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। বল হাতে নিয়ে উভয় দিক দিয়ে বোলিং আক্রমণে…

  • | |

    ডেভিড ওয়ার্নার

    ২৭ অক্টোবর, ১৯৮৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্যাডিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে লেগ-ব্রেক কিংবা ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। অসাধারণ ফিল্ডিং করে থাকেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিধ্বংসী ও ক্ষীপ্রতা সহকারে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হয়ে থাকেন। হাওয়ার্ড ওয়ার্নার…

  • | | |

    বার্ট স্ট্রাডউইক

    ২৮ জানুয়ারি, ১৮৮০ তারিখে সারের মিচাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ছাত্র অবস্থায় মধ্যাহ্নভোজনকালীন মিচামে ক্রিকেট দেখতে যেতেন। এছাড়াও, অন্যান্য বালকের সাথে ক্রিকেট খেলতেন। মিস উইলসন তাঁকে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হবার জন্যে উদ্বুদ্ধ করেন।…

  • | |

    মাইকেল হোল্ডিং

    ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে জ্যামাইকার হাফ ওয়ে ট্রি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘হুইস্পারিং ডেথ’ ডাকনামে পরিচিত মাইকেল হোল্ডিং ছয় ফুট সাড়ে তিন ইঞ্চি (১.৯২ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। রাল্ফ হোল্ডিং ও…