|

চার্লি লক

১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৬২ তারিখে ম্যাশোনাল্যান্ডের মারান্ডেলাস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘চিভারো’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ডানহাতি পেস বোলার। মূলতঃ সিম ও সুইংয়ের উপর নির্ভর করে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড ও ম্যাশোনাল্যান্ড কান্ট্রি ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, ম্যাশোনাল্যান্ড কান্ট্রি ডিস্ট্রিক্টসে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম এবং ম্যাশোনাল্যান্ডের পক্ষে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম পর্যন্ত খেলেন। ৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ তারিখে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবুয়ে বনাম নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

ছয় বছর ইংল্যান্ডের ক্লাব ক্রিকেট খেলেছেন। সেখানে মূলতঃ কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৯৫ সালে জিম্বাবুয়ে প্রত্যাবর্তন করেন। রুজাউইর সাথে জড়িত হন। ম্যাশোনাল্যান্ড কান্ট্রি ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে দুইবার ছয়-উইকেট লাভের পর জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলার জন্যে জিম্বাবুয়ে দলে অন্তর্ভুক্ত হন।

১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও আটটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা দলের মুখোমুখি হন। ১৩ অক্টোবর, ১৯৯৫ তারিখে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্রেগ উইশার্টের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একমাত্র টেস্টে পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন। অভিষেক টেস্টের এক সপ্তাহ পূর্বে অনুশীলনকালে তর্জনী ভেঙ্গে ফেলেন। তাসত্ত্বেও বোলিং করা চালিয়ে যান। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে মূল্যবান ৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। এ পর্যায়ে হিথ স্ট্রিকের সাথে জুটি গড়েছিলেন। ঐ রানগুলো দুইটি বাউন্ডারির সাহায্যে করেছিলেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিক দল ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করে।

তবে, আঘাতের কারণে পরবর্তী তিন মাস ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন। তাসত্ত্বেও, নিউজিল্যান্ড গমনসহ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকল্পে জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে নিজেকে ঠাঁই করে নেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। তবে, তিন-ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজের শেষ দুইটি ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার জন্যে মনোনীত হন। তন্মধ্যে, নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ওডিআইয়ে এক পর্যায়ে ১১ বলের ব্যবধানে ৫ রান খরচ করে ৫ উইকেট নিয়ে খেলার গতিধারা পরিবর্তন করেন। ঐ খেলায় ৫/৪৪ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে দলকে ২১ রানের জয়লাভে জিম্বাবুয়ে দলকে বিরাট সহযোগিতা করেন। বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ের সবগুলো খেলায় অংশ নেন। তবে, আঘাত নিয়ে দেশের প্রত্যাবর্তন করেন। এরপর, আর জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে পারেননি।

৩৩ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করে এক মৌসুম স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। হঠাৎ আলোর ঝলকানীর ন্যায় আবির্ভূত হয়ে দ্রুত পর্দার অন্তরালে চলে যান। ক্রিকেটের বাইরে কৃষি পরামর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

Similar Posts

  • |

    আড্রিয়ান কুইপার

    ২৪ আগস্ট, ১৯৫৯ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ওয়েস্টার্ন কেপের এলগিনে তাঁদের ফলমূল ও পোল্ট্রি খামার রয়েছে। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান তিনি। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা জেন কুইপার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার ও ভ্রাতৃষ্পুত্র…

  • | |

    অব্রে স্মিথ

    ২১ জুলাই, ১৮৬৩ তারিখে সিটি অব লন্ডনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ড দলে খেলেছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। চার্লস জন স্মিথ ও সারাহ অ্যান দম্পতির সন্তান ছিলেন। চার্টারহাউজে অধ্যয়ন শেষে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সেন্ট জোন্স কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্র বিষয়ে পড়াশুনো করেছেন।…

  • | | |

    গর্ডন গ্রীনিজ

    ১ মে, ১৯৫১ তারিখে বার্বাডোসের ব্ল্যাক বেস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইংল্যান্ডের রিডিংভিত্তিক সাটন সেকেন্ডারি স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। বিধ্বংসী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের পরিচিতি পেয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট…

  • |

    হ্যারি মাসগ্রোভ

    ২৭ নভেম্বর, ১৮৫৮ তারিখে সারের সারবিটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৮৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৮৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন।…

  • |

    জো পারট্রিজ

    ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ তারিখে রোডেশিয়ার বুলাওয়ে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ্বে অন্যতম সেরা সুইং বোলার ছিলেন। সুদর্শন ও শক্ত-মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। খেলায় বেশ প্রতিদ্বন্দ্বীসুলভ মনোভাব নিয়ে খেলতেন। নিখুঁততা, অসম্ভব…

  • | | |

    সেম্যুর নার্স

    ১০ নভেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে বার্বাডোসের জ্যাক-মাই-ন্যানি গ্যাপ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের কাছাকাছি এলাকায় দূর্দান্ত ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আক্রমণাত্মক ধাঁচে ব্যাটিং করতেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে…