|

চার্লস ক্যালাওয়ে

২৫ এপ্রিল, ১৮৮৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের লিসমোর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার আগে-পিছে অংশগ্রহণকারী প্রকৃত অল-রাউন্ডার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলেছেন। ১৯০৭-০৮ মৌসুম থেকে ১৯২৮-২৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯১০ থেকে ১৯২৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২৬ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৯ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৪* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৩ ও ২/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ১১৪ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলতে নামেন। খেলায় তিনি ২০ ও ৭০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ৩/৪৬ ও ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৪৬ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯১২ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর সিড গ্রিগরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৭ মে, ১৯১২ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে অংশ নেন। বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ২৮ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৭০ রান অতিক্রম করেন। এছাড়াও, টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়েও সফল ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক এফ মিচেলকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৪৬। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। ০/২৭ ও ৫/৩৩ লাভ করেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৮৮ রানে জয়লাভ করে।

যুদ্ধের পর ক্রিকেট খেলা শুরু হলে ১৯২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বাপক্ষে সফলতম সিরিজ খেলেন। জানুয়ারি, ১৯২১ সালে অ্যাডিলেডে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অপূর্ব খেলেন। ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের সাথে ২০৬ মিনিটে ১৯৪ রানের জুটি গড়েন। সাত ঘণ্টা সময় নিয়ে ১৪৭ রানে বিদেয় নেন। পরবর্তীতে এটিই তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান ছিল। ঐ খেলায় তাঁর দল ১১৯ রানে জয়লাভে সমর্থ হয়। এ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া দল একাধিপত্য বজায় রাখে। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই জয়ী হয়েছিল তাঁর দল। দলের সাফল্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। ৪৭ গড়ে ৩৩০ রান ও ২১ গড়ে ১৫ উইকেট পেয়েছিলেরন।

১৯২৮-২৯ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ নভেম্বর, ১৯২৮ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে আঘাতের কারণে ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামতে পারেননি। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৬৭৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলে তাঁর দল পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে তিন শতক সহযোগে ৩৭.৪২ গড়ে ১৪২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩২.৪২ গড়ে ৫২ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, একবার পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ১৫ শতক সহযোগে ৩৫.১০ গড়ে ৬৩৮৯ রান তুলেন ও ২৬.৩৩ গড়ে ৩৩৯ উইকেট পান। কিথ মিলারের আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত জর্জ গিফেন ও মন্টি নোবেলের ন্যায় তিনিও অস্ট্রেলিয়ার স্বল্পসংখ্যক প্রকৃত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন।

উইজডেন মন্তব্য করে যে, তিনি জিব্রাল্টরের প্রাচীর। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। অস্ট্রেলিয়ান আর্মড ফোর্সেসে ক্যাপ্টেন পদবীধারী ছিলেন। জীবনের শেষদিকে দূর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ১৬ নভেম্বর, ১৯৪৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের লিন্ডফিল্ড এলাকায় ৫৮ বছর ২০৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    বাজিদ খান

    ২৫ মার্চ, ১৯৮১ তারিখে পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। চমৎকার ব্যাটিং কৌশল অবলম্বনকারী ও ফুরফুরে মেজাজের অধিকারী। ফলশ্রুতিতে, পাকিস্তানের ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে বড় ধরনের রান সংগ্রহে বিরাট ভূমিকার স্বাক্ষর রেখেছেন।…

  • |

    তানজিম হাসান সাকিব

    ২০ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০২০-২১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সিলেট স্ট্রাইকার্স, লিজেন্ডস অব…

  • |

    সেস ডিক্সন

    ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯১ তারিখে ট্রান্সভালের পচেফস্ট্রুম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা পালন করেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অফ-স্পিনের আদলে প্রায় মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে-পিছে ১৯১২-১৩…

  • |

    গ্রায়েম ওয়াটসন

    ৮ মার্চ, ১৯৪৫ তারিখে ভিক্টোরিয়ার কিউ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘বিটল’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১.৮২ মিটার ও ৭৩ কেজি ওজনের অধিকারী ছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া…

  • |

    কাভেম হজ

    ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩ তারিখে ডোমিনিকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ২০১২ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের পক্ষে খেলেছেন। একই বছর উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের পক্ষে প্রথমবারের…

  • | |

    কলিন ক্রফ্ট

    ১৫ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার ল্যাঙ্কাস্টার ভিলেজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ক্রফ্টি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির লিকলিকে গড়নের অধিকারী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে গায়ানা এবং ইংরেজ…