| |

চান্দু সরবটে

২২ জুলাই, ১৯২০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মধ্যপ্রদেশের সাগর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৩৬-৩৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল প্রভিন্সেস ও বেরার, হিন্দু, হোলকার, মধ্য ভারত, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বোম্বে ও বিদর্ভের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অসাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তবে, উঁচু স্তরের ক্রিকেটে প্রত্যাশামাফিক খেলতে পারেননি। ভারতের পক্ষে সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলেও ভারতীয় খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বেশ দীর্ঘদিন অতিবাহিত করেছিলেন। যে-কোন অবস্থানে মাঠে নেমে রান সংগ্রহ করতে পারতেন। অফ-ব্রেক ও লেগ-ব্রেক–উভয়টিতেই তাঁর দক্ষতা ছিল। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে যে-কোন অধিনায়কের পছন্দে তালিকায় ছিলেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৩ গড়ে ৭৪৩০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, ২৪ গড়ে ৪৯৪ উইকেট দখল করেছেন। ৩১ মৌসুমের অধিক সময় রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় সরব ছিলেন। ৪৩ গড়ে ৪৯২৩ রান ও ২১ গড়ে ২৮৫ উইকেট পেয়েছিলেন।

১৯৪৬ থেকে ১৯৫১ সময়কালে ভারতের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৪৬ সালে ইফতিখার আলি খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ সফরে খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের শেষ উইকেট জুটিতে প্রথমবারের মতো শুটে ব্যানার্জীকে নিয়ে উভয়ে শতরান করার কৃতিত্বের অধিকারী হন। ওভালে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় সারের বিপক্ষে শেষ উইকেটে তাঁরা ২৪৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় ভারতীয় একাদশ ইনিংস ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল।

সচরাচর মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ভারতের পক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। কিন্তু ঐ খেলায় দশ নম্বর অবস্থানে মাঠে নামেন। ১১ নম্বর অবস্থানে নামা শুটে ব্যানার্জী’র সাথে জুটি গড়াকালীন প্রথম দিনের চা বিরতির পূর্ব-পর্যন্ত দলের সংগ্রহ ২০৫/৯ ছিল। দ্বিতীয় দিন খেলা শুরুর অর্ধ-ঘণ্টা পর তাঁদের জুটি ভেঙ্গে যায়। কিন্তু, ততক্ষণে এ দু’জন নিজেদেরকে রেকর্ড বহিতে ঠাঁই করে নেন স্ব-মহিমায়। তিনি ১২৪ রানে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করলেও শুটে ব্যানার্জী ১২১ রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, সারের দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন তিনি।

একই সফরে আবারও ইতিহাসের পর্দায় নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। দুই মিনিটের ব্যবধানে পিটার জাজ তাঁর আবেদনে সাড়া দেন। এ পর্যায়ে স্বাগতিক দল ফলো-অনের কবলে পড়েছিল। ২০ জুলাই, ১৯৪৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। রঙ্গা সোহনী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

দূর্ভাগ্যজনকভাবে বড় আসরের ক্রিকেটে নিজেকে মোটেই মেলে ধরতে পারেননি। টেস্টগুলো থেকে ৩ উইকেট ও ২০৮ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনে কেবলমাত্র একবার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। এমসিজিতে রে লিন্ডওয়াল, কিথ মিলার, বিল জনস্টনসমৃদ্ধ দলের বিপক্ষে বিনু মানকড়ের সাথে ৯১ মিনিটে ১২৪ রানের জুটি গড়েন।

১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে লালা অমরনাথের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২৮ নভেম্বর, ১৯৪৭ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১২ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ২২৬ রানে জয় পায় এবং পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৫১-৫২ মৌসুমে নিজ দেশে নাইজেল হাওয়ার্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৫১ তারিখে বোম্বের বিএসে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১৮ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৮০-এর দশকের শুরুরদিকে জাতীয় দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত জীবনে আঙ্গুলের ছাঁপ চিহ্নিতকরণ বিশেষজ্ঞ ছিলেন। ২৩ ডিসেম্বর, ২০০৩ তারিখে ৮৩ বছর ১৫৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    জন গাই

    ২৯ আগস্ট, ১৯৩৪ তারিখে নেলসনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দ্রুত পদসঞ্চালনায় মজবুত প্রতিরক্ষাব্যূহ সহকারে ও অসম্ভব ধৈর্য্যশক্তির পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়াও, বলকে সজোরে আঘাত করাসহ উঁচুতে বলকে প্রেরণ করার অধিকারী ছিলেন। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে ১৯ বছর বয়সে ৫৭ ও ১১৫ রানের ইনিংস…

  • |

    সিরিল ফ্রাঁসোয়া

    ২০ জুন, ১৮৯৭ তারিখে ইংল্যান্ডের লুইশাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। মারকুটে ব্যাটিং করতেন। ১৯২০-২১ মৌসুম থেকে ১৯২৭-২৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের…

  • | |

    ডিক পাওয়ার

    ১৯ এপ্রিল, ১৮৬৫ তারিখে লিচেস্টারের হাম্বারস্টোন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৬ থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। বেশ উচ্চ ভঙ্গীমায় মিডিয়াম-পেস…

  • |

    গ্লেন ম্যাকগ্রা

    ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ডাব্বো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কেভিন ম্যাকগ্রা ও বেভার্লি ম্যাকগ্রা দম্পতির সন্তান। ডাব্বোয় জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর পরিবার ন্যারোমাইনে চলে যায়। সেখানে তিনি তাঁর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী…

  • | |

    গ্যারি ট্রুপ

    ৩ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে ওয়াঙ্গানুইয়ের তৌমারুনুই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে অগ্রসর হতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। উদ্বোধনী বোলার হিসেবে ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে রিচার্ড হ্যাডলি’র সাথে নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণ কার্য পরিচালনা করতেন। বলে পেস না থাকলেও ক্রমাগত…

  • |

    মঈন আলী

    ১৮ জুন, ১৯৮৭ তারিখে বার্মিংহামে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলে থাকেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘মো’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী মঈন আলী মোজলে স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। কিশোর বয়সেই তাঁর মাঝে দ্রুত রান সংগ্রহের প্রবণতা লক্ষ্য…