|

চন্দ্রকান্ত পাটনকর

২৪ নভেম্বর, ১৯৩০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের পেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহারাষ্ট্র ও বোম্বে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বোম্বে দলে মাধব মন্ত্রী’র পর স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করেন। ভারতীয় উইকেট-রক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদেহের অধিকারী ছিলেন। বিস্ময়করভাবে তিনি ক্ষীপ্রগতিময়তার পরিচয় দিতেন। তবে, রুইয়া কলেজের বন্ধু নরেন তামানে’র তুলনায় নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি ও তাঁর কারণে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন। সর্বত্র বিরাজমান নানা জোশী তাঁকে সহায়তা করেননি কিংবা বুধি কুন্দরনের আবির্ভাবের ফলে তাঁর আর দলে খেলা হয়নি।

স্থায়ী আসন গাড়তে না পারায় রাজস্থান কিংবা বাংলা দলেও নিয়মিতভাবে খেলতে পারেননি। ফলশ্রুতিতে, ১৯ বছরের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র ২৬ খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। এ পর্যায় ৩৭ ক্যাচ ও ২০ স্ট্যাম্পিংয়ের পাশাপাশি সাধারণমানের ১৫.৭১ গড়ে একটি শতক সহযোগে ৫০৩ রান পেয়েছেন।

পিতা চিকিৎসক ছিলেন। পড়াশোনার বিষয়ে কিশোর চন্দ্রকান্ত পাটনকর বেশ গুরুত্ব দিতেন। খুব ছোট বয়সেই তাঁর মাঝে ক্রিকেটীয় প্রতিভা লক্ষ্য করা যায়। ১৯৪৯-৫০ মৌসুমের রোহিতন বাড়িয়া ট্রফিতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছিলেন। তেমন দর্শনীয় খেলা উপহার দিতে পারেননি। তবে, তিন খেলায় দশটি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন ও চূড়ান্ত খেলায় ৫৮ রান তুলতে পেরেছিলেন।

অনেকটা বিস্ময়করভাবে সফররত কমনওয়েলথ একাদশের বিপক্ষে খেলার জন্যে বোম্বে দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন ও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরপর, একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার জন্যে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। প্রথম ইনিংসে তিনটি স্ট্যাম্পিং করেন। সবকটিই দীপক সোধনের বল থেকে করেছিলেন। নরেন তামানে বাদ পড়ায় ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফির সেমি-ফাইনালে তাঁর অভিষেক ঘটে। ৪টি ডিসমিসাল ঘটান তিনি। পরবর্তীতে আরও একটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন যা অনেকটা আশাতীত ছিল।

১৯৫৫ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারি কেভের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। আঘাতপ্রাপ্ত নরেন তামানে’র পরিবর্তে ইডেন গার্ডেন্সে সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এটি তাঁর সপ্তম খেলা ছিল। ২৮ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় তিনি ১৩ ও অপরাজিত ১ রান তুলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করাসহ একটি স্ট্যাম্পিং করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

নরেন তামানে ও নানা জোশী’র ক্রমাগত খেলায় অংশ নেয়ার কারণে তাঁকে আর দলে রাখা যায়নি। পরবর্তীকালে এটিই তাঁর একমাত্র ও সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও বোম্বে দলের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। বেস্ট, কিলিক ইন্ডাস ও লক্ষ্মী বিষ্ণুতে চাকুরী করেন। বেস্টে চাকুরীকালীন ১৯৬১ সালে সাতদিনব্যাপী টাইমস শীল্ডের চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

Similar Posts

  • |

    ক্লিফোর্ড রোচ

    ১৩ মার্চ, ১৯০৪ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। রক্ষণাত্মক ধাঁচে খেলতে ভালোবাসতেন। তবে, বোলার বরাবর বলকে ঠেলতেন। এমনকি নতুন বলেও এ ধারায় ব্যাটিং করতেন। দারুণ স্ট্রোক খেলতেন। শুরুতে মাঝারিসারির…

  • | |

    স্কচ টেলর

    ২৫ জুলাই, ১৯২৫ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, উইওয়াটারস্রান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে খনিবিষয়ক ডিগ্রীধারী হন। ইনিংস উদ্বোধনে নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিতেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম…

  • |

    মার্ক রাশমেয়ার

    ৭ জানুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কিশোর অবস্থাতেই তাঁর মাঝে ব্যতিক্রমী প্রতিভা লক্ষ্য করা যায়। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৩-৮৪…

  • | |

    পলি উমরিগড়

    ২৮ মার্চ, ১৯২৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের শোলাপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেন। ১৯৪৪-৪৫ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে…

  • |

    শাহীন শাহ আফ্রিদি

    ৬ এপ্রিল, ২০০০ তারিখে খাইবার এজেন্সিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। অল-রাউন্ডার হিসেবেও নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মিষ্ট চেহারা, শিশুসূলভ হাসি ও শান্ত শিষ্ট গড়নে অধিকারী। শিশুসূলভ মুখশ্রী হলেও উচ্চতায় ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি…

  • |

    আতিফ রউফ

    ৩ মার্চ, ১৯৬৪ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইসলামাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন…