|

চামারা কাপুগেদেরা

২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭ তারিখে ক্যান্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। পাশাপাশি, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়ে থাকেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সহজাত প্রকৃতির আক্রমণাত্মক গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন ও বলকে বাউন্ডারি সীমানার বাইরে ফেলার দিকেই অধিক তৎপরতা দেখাতেন। স্বল্পসংখ্যক প্রকৃত মানসম্পন্ন ও বিনোদনধর্মী ব্যাটসম্যান হিসেবে শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য ছিলেন। ১১ বছর বয়স থেকে ক্রিকেট খেলার সাথে জড়িত রয়েছেন। ক্যান্ডিভিত্তিক ধর্মরাজা কলেজে সর্বপ্রথম প্রথম চিহ্নিত হন। কিন্তু, নিজেকে উপরের সারিতে তুলে ধরতে বেশ সময় ও সুযোগ নষ্ট করেন।

তাঁর পিতা ধর্মরাজার সাবেক ক্রিকেটার ছিলেন। শুরুরদিকে তাঁকে প্রশিক্ষণ দিতেন ও খেলার মান উন্নয়নে সকল ধরনের সহায়তার হাত প্রশস্ত করেন। তাঁর প্রথম কোচ ডেভিড করুণারত্নে ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ সুমিত্র বার্নাকুলাসুর্য্য খেলোয়াড়ী জীবনে বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন অনূর্ধ্ব-১৩ পর্যায় থেকে শুরু করে প্রথম একাদশের অধিনায়কত্ব করেছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছেন। এ পর্যায়ে সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। পরের বছর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে একদিনের খেলায় ১৩১ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলেন।

‘কাপু’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ২০০৫-০৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কন্দুরাতা ও কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপারকিংস, দূরন্ত রাজশাহী ও কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের পক্ষে খেলেছেন। ১৯ অক্টোবর, ২০০৫ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যেম প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। প্রথম খেলায় ৭০ রান তুলেন। এ সংগ্রহটি তাঁর অন্যতম সেরা ইনিংস ছিল। দল নির্বাচকমণ্ডলী নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে অনেকাংশেই বেশ ঝুঁকি ও উন্নয়নের সাথে জড়িত কোচের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে তাঁকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করে। নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে খেলার জন্যে জাতীয় দলের সদস্যরূপে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে, আঘাতের কারণে এ সফর করা থেকে বঞ্চিত হন।

২০০৬ থেকে ২০১৭ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আটটিমাত্র টেস্ট, ১০২টি ওডিআই ও ৪৩টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২৮ জানুয়ারি, ২০০৬ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। এরপর থেকে সীমিত-ওভারের খেলায় দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা লাভ করেছিলেন।

২০০৬ সালে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১১ মে, ২০০৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের অসম্ভব ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। টেস্টগুলো থেকে চারটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেন ৯৬ রান।

২০০৯ সালে নিজ দেশে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৬ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৩৫ ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মাহেলা জয়াবর্ধনে’র অসামান্য ব্যাটিং নৈপুণ্যের কারণে সফরকারীরা ৯৬ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুরদিকের বেশ কয়েকবছর শ্রীলঙ্কার সর্বাপেক্ষা সংক্ষুদ্ধ খেলোয়াড়দের অন্যতম ছিলেন। ২০০৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে খুব কমই খেলার সুযোগ পেয়েছেন। দলে সর্বদাই আসা-যাবার পালায় অবস্থান করেন ও স্থায়ী আসন গাড়তে পারেননি। সন্দেহাতীতভাবে দূর্লভ প্রতিভাবান খেলোয়াড় ছিলেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তবে, সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামানোও এতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল।

তাসত্ত্বেও, টি২০ ক্রিকেটে নিজের পুণর্জাগরণ ঘটান। ২০১৫ সালে জাতীয় দলে পুণরায় খেলানো হয়। দ্বিতীয়বার দলে ফিরে এসে শুরুতে নিজেকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা চালান। কিন্তু, আবারও মিশ্র ফলাফলের কারণে আসা-যাবার পালায় অবস্থান করতে বাধ্য হন।

Similar Posts

  • |

    ডিকি রিচার্ডস

    ২৬ মার্চ, ১৮৬২ তারিখে কেপ কলোনির গ্রাহামসটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৮৮০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮৮৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ১৮৮৮-৮৯ মৌসুমে অব্রে স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হয়েছিলেন।…

  • |

    গ্রেভিল স্টিভেন্স

    ৭ জানুয়ারি, ১৯০১ তারিখে লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, উইকেটের কাছাকাছি এলাকায় দূর্দান্ত ফিল্ডার ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ স্কুলে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ১৯২০ থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত চার বছরের প্রতিটিতেই ব্লু…

  • |

    রবার্ট স্টুয়ার্ট

    ৩ সেপ্টেম্বর, ১৮৫৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের আজমগড় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংকর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৮৮০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৭২ থেকে ১৮৭৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েলিংটন একাদশের পক্ষে খেলেন। তন্মধ্যে, ১৮৭৪ সালে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। এ পর্যায়ে তিনি ৩৩ গড়ে ৭৪৫…

  • |

    মনোজ প্রভাকর

    ১৫ এপ্রিল, ১৯৬৩ তারিখে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৪ থেকে…

  • |

    ফ্রাঙ্ক কিং

    ১৪ ডিসেম্বর, ১৯২৬ তারিখে বার্বাডোসের ডেলামেরে ল্যান্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে পরিচিতি পান। প্রধানতঃ নতুন বল নিয়ে আক্রমণ কার্য পরিচালনা করতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। প্রথমদিকের কয়েকটি সিরিজে উৎসাহব্যঞ্জক ক্রীড়াশৈলী…

  • | |

    অরুণ লাল

    ১ আগস্ট, ১৯৫৫ তারিখে উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে তাঁর জন্ম। ‘পিগ্গি’ ডাকনামে পরিচিতি পান। পিতা, কাকা, কাকাতো ভাই – সকলেই তাঁর পূর্বে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।…