| |

সিবি ফ্রাই

২৫ এপ্রিল, ১৮৭২ তারিখের সারের ওয়েস্ট ক্রয়ডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত শৌখিন ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

রেপটনে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, ওয়াডহাম কলেজ অক্সফোর্ডের বৃত্তিলাভ করেন। সেখান থেকে ক্লাসিক মডারেশন্সে প্রথম-শ্রেণীর স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার ও সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইউরোপিয়ান্স, লন্ডন কাউন্টি ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯২ থেকে ১৯২১-২২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। খুব সম্ভবতঃ নিজের কিংবা যে-কোন প্রজন্মের সময়কালে সর্বশ্রেষ্ঠ অল-রাউন্ডারের মর্যাদা পেয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে মাত্র তিনজন ব্যাটসম্যানের অন্যতম হিসেবে উপর্যুপরী ছয়টি ইনিংসে শতরান করেছিলেন।

১৮৯৬ থেকে ১৯১২ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৬ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে ‘মাদার কান্ট্রি’ কোন টেস্টে পরাজিত হয়নি। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুমে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৬ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হ্যারি বাট, আর্থার হিল, অডলি মিলার, চার্লস রাইট, হিউ ব্রোমলি-ডেভেনপোর্ট, লর্ড হক ও টম হেওয়ার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৩ ও ১৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বোনর মিডলটনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। খেলায় তাঁর দল ২৮৮ রানে জয়লাভ করলে সিরিজে এগিয়ে যায়। স্মর্তব্য যে, ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড দলের সর্বনিম্ন ২৬ রান সংগ্রহের পূর্ব-পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ৯৪ বলে মাত্র ৩০ রান সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে।

একই সফরের ২ মার্চ, ১৮৯৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে খেলেন। পরবর্তীতে খেলাটি টেস্টের মর্যাদা পায়। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৯৭ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯০৫ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ আগস্ট, ১৯০৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৪৪ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯১২ সালে ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে নিজ দেশে সিড গ্রিগরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুন, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪২ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়।

১৯ আগস্ট, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের ওভালে একই প্রতিযোগিতায় সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫ ও ৭৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। স্বাগতিকরা ২৪৪ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় দলের পাশাপাশি করিন্থিয়ান্স, সাউদাম্পটন ও ইংল্যান্ডের পক্ষে ফুটবল খেলেছেন। ১৮৯৫ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ১৯৩৯ সালে ‘লাইফ ওর্থ লিভিং’ শীর্ষক আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। এতে তিনি আলবেনিয়ার রাজা হবার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হবার কথা তুলে ধরেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৮৯৮ সালে ২৬ বছর বয়সে তিনি বিট্রাইস হোম-সামনার নাম্নী দশ বছরের জ্যেষ্ঠ এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালে বিট্রাইস হোম-সামনারের দেহাবসান পর্যন্ত তাঁদের সম্পর্ক বজায় থাকলেও যতদূর সম্ভব দূরে অবস্থান করতেন। এ দম্পতির তিন সন্তান ছিল। তন্মধ্যে, ১৯০০ সালে জন্মগ্রহণকারী স্টিফেন ফ্রাই হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে খেলেছে। তাঁদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আর.এন.আরের সম্মানসূচক ক্যাপ্টেন পদবীধারী ও স্ত্রী ওবিই উপাধিতে ভূষিত হন। স্ত্রীর অংশগ্রহণে ১৯০৭ সালে ‘এ মাদার্স সন’ শীর্ষক উপন্যাস প্রকাশ করেন।

১৯২০-এর দশকের শেষদিকে রঞ্জিতসিংজী’র সাথে মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় ভারত গমন করেন। ১৯৩০-এর শুরুতে তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়। ছয় বছর পর নাজি জার্মানিতে যুববিষয়ক আলোচনায় আমন্ত্রিত হন। ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৬ তারিখে লন্ডনের চাইল্ডস হিল এলাকায় নিজ গৃহে ৮৪ বছর ১৩৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    কেন উইলিয়ামসন

    ৮ আগস্ট, ১৯৯০ তারিখে তৌরাঙ্গা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৭ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে…

  • |

    মালিঙ্গা বান্দারা

    ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে নাগোদা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শৈশবকাল থেকেই লেগ-স্পিনার হিসেবে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। বিদ্যালয় জীবনে ক্রিকেট খেলতেন। খেলায় ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের উপর ভিত্তি করে ১৯৯৭ সালে ভারত গমনার্থে শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের…

  • |

    ডেনিস ডায়ার

    ২ মে, ১৯১৪ তারিখে নাটালের বেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৪০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘাকায় গড়ন ও সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। অসম্ভব ধৈর্য্যশক্তির অধিকারী হিসেবে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। তবে, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পাল্টা…

  • মিলিন্ডা সিরিবর্ধনা

    ৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে নাগোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সচরাচর, শর্ট কভার অঞ্চলে ফিল্ডিং করেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। মাঝারিসারির মারকুটে ব্যাটসম্যান ও কার্যকর বামহাতি স্পিনার। কালুতারা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। অল-রাউন্ডারের প্রাচুর্যতায় পরিপূর্ণ…

  • |

    পিটার অ্যালান

    ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার…

  • |

    রোনাল্ড ড্রাপার

    ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের আউটশুর্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স ও গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…