|

বুস্টার ফারার

৮ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিং উইলিয়ামস টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ডেল কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বর্ডারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বর্ডারের পক্ষে খেলতে শুরু করেন। এছাড়াও, ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে বর্ডারের সদস্যরূপে ববি সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ৯৫ ও চার বছর পর বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন দলের বিপক্ষে ১৫৪ ও ৪২ রানের ইনিংস খেলেন।

১৯৬২ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, তিনটি দক্ষিণ আফ্রিকায় ও অপর তিনটি নিউজিল্যান্ডে খেলেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিজ দেশে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। সিডনি বার্কের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১১ ও ২০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জ্যাক অ্যালাবাস্টারের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। সফরকারীরা ৭২ রানে জয় পেলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। প্রসঙ্গতঃ এটিই নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ও বিদেশের মাটিতে প্রথম জয় ছিল।

দুই বছর পর ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর করেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে ওয়েলিংটনে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩০ ও ৩৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ১৩ মার্চ, ১৯৬৪ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২১ ও ৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। পাশাপাশি, টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার নিষেধাজ্ঞার কবলের পূর্বে এটিই নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সর্বশেষ খেলা ছিল।

১৫ বছরব্যাপী প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে বারোটি শতক সহযোগে ৪৩.৩৭ গড়ে রান তুলেছেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে অফ-স্পিন বোলিং করে চারটি উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন।

বহুমূখী ক্রীড়াবিদ হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে। বর্ডারের পক্ষে ক্রিকেট, হকি, টেনিস, স্কোয়াশ, গল্ফ ও বোলসে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ক্রিকেট, হকি ও স্কোয়াশে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। হকিতে জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে অংশ নেন। ১৯৫৫ সালে উইম্বলেডন প্রতিযোগিতায় টেনিস খেলেন। ডেভিস কাপের বাছাই পর্বে অংশ নেন। এ পর্যায়ে তিনি দেশের সাত নম্বর শীর্ষ খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত ছিলেন। ১৯৭৭ সালে বর্ডারের পক্ষে গল্ফ খেলেন ও ১৯৮৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথিতযশা স্কোয়াশ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন।

১৯৬২ সালে ভোটের মাধ্যমে সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেট অ্যানুয়েল কর্তৃক বর্ষসেরা খেলোয়াড়, ১৯৬৮ সালে ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভোটের মাধ্যমে বর্ডার বর্ষসেরা স্পোর্টস স্টার ও ১৯৭১ সালে হকিতে অসামান্য অবদানের কারণে একই পুরস্কারে ভূষিত হন।

৩১ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ৮৮ বছর ৫৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    মোহাম্মদ রমজান

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৯৭০ তারিখে পাঞ্জাবের লায়লপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ২০০৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ফয়সালাবাদ, খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, পাকিস্তান কাস্টমস, পাকিস্তান…

  • |

    ট্রাভিস ফ্রেন্ড

    ৭ জানুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে মিডল্যান্ডসের কেউইকেউই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদেহী, শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী। দলীয় সঙ্গীদের কাছে ‘চাঙ্কস’ কিংবা ‘টেস্টোস্টারোন’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। প্রকৃত মানসম্পন্ন পেস বোলার হিসেবে খেলতেন। পাশাপাশি, ব্যাট…

  • | |

    ক্রিস হ্যারিস

    ২০ নভেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘লাগস’ ডাকনামে পরিচিতি পান। কিউই তারকা ব্যাটসম্যানের খ্যাতি অর্জন করেন। প্রথম নিউজিল্যান্ডীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওডিআইয়ে দুই সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন ও প্রথম…

  • |

    ববি অ্যাবেল

    ৩০ নভেম্বর, ১৮৫৭ তারিখে সারের রদারহিদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ওভাল মাঠে অনেকগুলো বছর ‘গাভনর’ নামধারী ববি অ্যাবেল দর্শকদের কাছে অতি পরিচিত ছিলেন। শক্তিধর সারে দলের অন্যতম বিশ্বস্ত ব্যাটসম্যানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ৫…

  • |

    আতিক-উজ-জামান

    ৩০ নভেম্বর, ১৯৭৫ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ২০০০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, করাচী, খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, পাকিস্তান কাস্টমস ও পাকিস্তান রিজার্ভসের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    কামরান আকমল

    ১৩ জানুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার অ্যাডাম গিলক্রিস্টের পর ক্রিকেট জগতে সর্বাধিক গুরুত্বতা তুলে ধরেছেন। ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ের কারণে দিন, ইনিংস, ধাঁপ পরিবর্তনে ব্যাট হাতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। তাঁর ব্যাটিং…