২০ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৭ তারিখে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং উদ্বোধন কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
আইনজীবী অর্টন লুকাস ও মেরি র্যাচেল দম্পতির সন্তান ছিলেন। আপিংহামে ভর্তি হন। ১৮৭৩-৭৪ মৌসুমে সেখানকার প্রথম একাদশ দলের সদস্য ছিলেন। আপিংহামে অধ্যয়ন শেষে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ক্লেয়ার কলেজে পড়াশুনো করেন। ১৮৭৮ সালে বি. এ. ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বুথ ব্রাদার্স নামীয় ফার্মের সদস্য হন। তাঁর কাকাতো ভাই সি. এফ. লুকাস ১৮৬৪ থেকে ১৮৮০ সাল পর্যন্ত হ্যাম্পশায়ার দলের পক্ষে ১৪ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
১৮৭৪ থেকে ১৯০৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স, মিডলসেক্স ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৭৪ সালে সারের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলায় অংশ নেন। এরপর থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত ২৫৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, সারের পক্ষে ৪১টি, মিডলসেক্সের পক্ষে ১১টি ও এসেক্সের পক্ষে ৯৮টি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ১৮৭৫ থেকে ১৮৭৮ সাল পর্যন্ত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ক্রিকেট খেলেছেন।
১৮৭৯ থেকে ১৮৮৪ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে পাঁচটি টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৭৮-৭৯ মৌসুমে লর্ড হ্যারিসের নেতৃত্বাধীন শৌখিন দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন। ২ জানুয়ারি, ১৮৭৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। আলেকজান্ডার ওয়েব, মাঙ্কি হর্নবি, চার্লি অ্যাবসলম, ফ্রান্সিস ম্যাককিনন, লেল্যান্ড হোন, লর্ড হ্যারিস, স্যান্ডফোর্ড শ্যুলজ ও দ্য রেভারেন্ড ভার্নন রয়েলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ ও ১৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ফ্রাঙ্ক অ্যালেনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, ০/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করেছিল।
১৮৮০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওভাল টেস্টে তিন নম্বর অবস্থানে খেলেন। ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন। ডব্লিউজি গ্রেসের সাথে ১২০ রানের জুটি গড়েন। পরবর্তীতে এটিই তাঁর একমাত্র অর্ধ-শতকে পরিণত হয়। পরের আট টেস্টে খুব কমই মাঝামাঝি পর্যায়ে রান তুলতে পেরেছিলেন।
১৮৮৪ সালে নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ জুলাই, ১৮৮৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় ইংল্যান্ড দল ইনিংস ও ৫ রানের ব্যবধানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যর্থ হলেও শুরুতে সারে ও পরবর্তীতে এসেক্সের পক্ষে অগণিত রানের সন্ধান পেয়েছেন। আকর্ষণীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। চমৎকার পদসঞ্চালন ও সঠিকমানের কৌশল অবলম্বন গ্রহণে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, সামনে ও পিছনে – উভয় পায়ের উপর ভর করে খেলতে পারতেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এলসি মেরি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ডগলাস নামীয় সন্তানের জনক ছিলেন। ১২ অক্টোবর, ১৯২৩ তারিখে এসেক্সের গ্রেট ওয়ালথাম এলাকায় ৬৬ বছর ২৩৪ দিন বয়সে নিজ গৃহে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
