২ অক্টোবর, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কর্ণাটকের মাল্কি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং ও ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহীশূর ও রেলওয়েজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, স্কটল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। সময়ের চেয়েও নিজেকে এগিয়ে রেখেছিলেন। দারিদ্র্যতার মধ্যে বড় হন। তাঁর নিজস্ব কোন কক্ষ ছিল না। এমনকি রঞ্জী ট্রফির খেলাগুলোয় অংশ নেয়ার সময়ও এর ব্যতয় ঘটেনি। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে বাগানের বাইরে উন্মুক্ত আকাশে টেস্ট খেলাকালীন উইকেটের উপর মাথা রেখে ঘুমান।
প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ হয়নি তাঁর। পিতা ভোল্টাস এয়ারকন্ডিশনার্সের কেরাণী ছিলেন ও ক্রিকেট খেলতে নিরুৎসাহিত করেন। বিদ্যালয় দলে ঠাঁই পেলে তাঁর মাতা স্বামীর সাদা পোশাক দিয়ে ক্রিকেটের পোশাক মিল করেন। প্রথম প্রয়াসেই ২১৯ রান তুলেন। পরের দিন সংবাদপত্রে সন্তানের ছবি প্রকাশ পেলে পিতা তাজ্জ্বব বনে যান।
জন্মকালীন তাঁর নাম বুধিসাগর কৃষ্ণাপ্পা কুন্দরন হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বর্ণালী সময়ে এসে ১৯৬৪ সালে স্বীয় নাম পরিবর্তন করে বুধি কুন্দরন রাখেন। আধুনিক যুগের বিখ্যাত তারকা ক্রিকেটার এমএস ধোনি’র পূর্বসূরী ছিলেন।
১৯৬০ থেকে ১৯৬৭ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে নিজ দেশে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে বোম্বের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। সেলিম দুরানি’র সাথে একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তাঁর। এ সময়ে তাঁর বয়স ছিল ২০ বছর। অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তিন নম্বর অবস্থানে খেলার সুযোগ পান। তবে, ইয়ান মেকিফের বলকে পুল মারতে গিয়ে তিন রানে হিট উইকেটে তাঁকে বিদেয় নিতে হয়। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে এগুতে থাকে। নরেন তামানে’র কাছ থেকে গ্লাভস ধার করে উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসেন। ভদ্র হাই স্কুলের অধ্যক্ষ বেরাম মারজানের কাছ থেকে টুপি এবং নিজ ক্লাব ফোর্ট বিজয় থেকে ব্যাট ও প্যাড নেন।
১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দুইটি শতক হাঁকান। দূর্ভাগ্যবশতঃ এগুলোই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র শতরানের ইনিংস ছিল। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্বে না থাকা অবস্থায় চমৎকার ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে পতৌদির নবাবের অধিনায়কত্বে ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। স্বল্পকালীন খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বশেষ টেস্টে ভারতের বোলিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। ১৩ জুলাই, ১৯৬৭ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। সফরকারীরা ১৩২ রানে পরাজয়বরণ করে ও ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। ২ ও ৩৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন।
কেবলমাত্র অসময়েই তাঁর জন্ম হয়নি; বরঞ্চ নিজের সেরা সময়ে অবস্থান সত্ত্বেও উইকেট-রক্ষণে আরেক ক্রিকেটারের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। কুশলতার স্বাক্ষর রাখা সত্ত্বেও কখনো জাতীয় দলে নিজেকে স্থান করে নিতে পারেননি। খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময়ই ফারুক ইঞ্জিনিয়ারের সাথে স্থান অদল-বদল করতে হয়।
সব মিলিয়ে ১৮ টেস্টে অংশ নিয়ে ৩২.৭০ গড়ে ৯৮১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। উইকেট-রক্ষক হিসেবে ১৫ টেস্টে ৭ স্ট্যাম্পিং ও ২১ ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছেন। পাশাপাশি উইকেট-রক্ষকবিহীন অবস্থায় ২ ক্যাচ তালুবন্দী করেন।
তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা ভরত কে কুন্দরন ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় দলের পক্ষে একটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে লিন্ডা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন ও পরের বছর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অভিবাসিত হন। ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। অতঃপর, ২৩ জুন, ২০০৬ তারিখে ৬৬ বছর ২৬৪ দিন বয়সে স্কটল্যান্ডে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
