|

ব্রায়ান অ্যান্ড্রুজ

৪ এপ্রিল, ১৯৪৫ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাট হাতে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি, সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খাঁটিমানের ডানহাতি মিডিয়াম-পেস বোলার হিসেবে শুরুতে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস, পরবর্তীতে ক্যান্টারবারিতে খেলার পর অবশেষে ওতাগোর পক্ষে সফলতার সন্ধান পান। সবকটি দলেই তিনি ২৫-এর কম গড়ে উইকেট পেয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে সফলতা লাভ করলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ দেরীতে খেলার সুযোগ পান। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে বিস্ময়করভাবে তাঁকে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে, দৃশ্যতঃ নিজের সেরা বছরগুলো অতিক্রম করে ফেললেও পূর্বেকার দুইটি সাধারণমানের ঘরোয়া মৌসুম অতিবাহিত করার পর তাঁকে দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে বেভান কংডনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। প্রস্তুতিমূলক খেলাগুলোয় নিউজিল্যান্ডীয় একাদশ বেশ হিমশিম খেতে থাকে। কিন্তু, তিনি অনঢ় ছিলেন। প্রথম টেস্ট শুরুর পূর্বে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ৫/৮৫ পান। এরফলে, প্রথম একাদশে তাঁকে নিউজিল্যান্ড দলে রাখা হয়। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রথম দুইটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। জন মরিসনের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। রিচার্ড হ্যাডলি’র সাথে বোলিং উদ্বোধনে নামেন। ০/১০০ লাভের খেসারত গুণতে হয়। ব্যাট হাতে ০* ও ৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দল ইনিংস ও ২৫ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিলে সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, একই সফরের ৫ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও তাঁকে খেলানো হয়। ২/৪০ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলাটি অবশ্য ড্রয়ে পরিণত হলেও স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। এ পর্যায়ে একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১৭ রান তুলেছিলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ঐ মৌসুমের শেষদিকে সফরকারী অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে আর একটিমাত্র প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এরপর, তিনি খেলার জগৎকে বিদেয় জানান।

২০১৫ সালে সম্প্রদায় ও ক্রীড়ায় অনন্য সাধারণ ভূমিকা গ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ রাণীর জন্মদিনের সম্মাননায় কুইন্স সার্ভিস পদক লাভ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট