|

ব্রুক ওয়াকার

২৫ মার্চ, ১৯৭৭ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ম্যাকলিন্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০০৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটের পুরো খেলোয়াড়ী জীবনই অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিস্ট-এ ক্রিকেট – উভয় ধরনের খেলাতেই অংশ নেন। ১৮.৬৫ গড়ে ২০ উইকেট দখল করে প্রথম মৌসুমকে স্মরণীয় করে রাখেন। পরের মৌসুমে অবশ্য সুবিধে করতে পারেননি। ৫৯.৫৭ গড়ে মাত্র সাত উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে আরও একটি স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করেন। ৩৪.৭৭ গড়ে ২৭ উইকেট দখল করেন। এ সময়ে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরে চলে আসেন। এক পর্যায়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

তবে, ঘরোয়া আসরের বীরোচিত ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুণরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র একাধিপত্যের কারণে নিউজিল্যান্ড দলের প্রধান স্পিনার হিসেবে নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে পারেননি। কেবলমাত্র ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র আঘাতপ্রাপ্তি কিংবা অনুপস্থিতির কারণেই মাঝে-মধ্যে নিউজিল্যান্ড দলে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

২০০০ থেকে ২০০২ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও ১১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২২ অক্টোবর, ২০০০ তারিখে বেনোনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তবে, শন পোলক, জ্যাক ক্যালিসঅ্যালান ডোনাল্ডের ন্যায় ফাস্ট বোলারদের দাপটে টিকতেই পারেনি তাঁর দল। এগারো নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ রানে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ছাড়েন। মামুলী ১৯৫ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বাগতিক দল সফল হয়। কিম্বার্লীতে দ্বিতীয় ওডিআইয়েও তিনি উইকেট শূন্য ছিলেন ও প্রতিপক্ষ আবারও জয়ী হয়।

অবশেষে তৃতীয় ওডিআইয়ে দুই উইকেটের সন্ধান পান। ৪ নভেম্বর কেপটাউনে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে সফরকারীরা ২৫৬/৯ তুলে। স্বাগতিকদের সংগ্রহ ১৭১/৪ হলে জন্টি রোডসকে স্ট্যাম্পিংয়ে বিদেয় করেন। কয়েক ওভার পর অধিনায়ক শন পোলককে বিদেয় করলে ১৮৯/৭ হয়। তবে, ল্যান্স ক্লুজনার ৪২ বলে ৫৯ রান তুলে শেষ বলে দক্ষিণ আফ্রিকা জয় পায়। ছয়-ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজ ৫-০ ব্যবধানে পরাজয়বরণ করে নিউজিল্যান্ড দল।

এরপর, ১৭ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে ব্লুমফন্তেইনে একই দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ক্রিস মার্টিনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/৯২ ও ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৭* ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জ্যাক ক্যালিস ও মাখায়া এনটিনি’র অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৮ মার্চ, ২০০১ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মোহাম্মদ সামি’র অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৯৯ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০০১-০২ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সফরে যান। ১ মে, ২০০২ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তান দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ২/৯৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ইনজামাম-উল-হকের অসাধারণ ত্রি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩২৪ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুবিধে করতে না পারলেও ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে উন্নততর ফলাফল আনয়ণ করেন। ৮৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১৬৪ উইকেট দখল করেছেন। নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করেন। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে একটি শতরানের ইনিংস খেলেছেন। সব মিলিয়ে ৩৯বার অকল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তন্মধ্যে, তিনবার স্টেট চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন।

১৫ জুন, ২০০৫ তারিখে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

Similar Posts

  • | |

    স্বরাজ বাহুতুলে

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে অন্ধ্র, আসাম, মহারাষ্ট্র, বোম্বে ও বিদর্ভের…

  • | | |

    টম লরি

    ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৮ তারিখে হকস বে’র ফার্নহিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ও ডানহাতে স্লো-মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। নিউজিল্যান্ড দলের টেস্ট ক্রিকেটের সূচনালগ্নে অন্যতম ভূমিকা রাখেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্বে থেকে…

  • | |

    ডব্লিউজি গ্রেস

    ১৮ জুলাই, ১৮৪৮ তারিখে ব্রিস্টলের ডাউনএন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সন্দেহাতীতভাবেই সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের প্রতীকি খেলোয়াড়ের পরিচিতি লাভ করেছেন। পরিচিতিমূলক দাঁড়ি রাখার পাশাপাশি অসম্ভব ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে ঊনবিংশ ও বিংশ শতকের সূচনালগ্নে অন্যতম…

  • | |

    আসিফ মুজতবা

    ৪ নভেম্বর, ১৯৬৭ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড়ী জীবন তেমন দর্শনীয় ছিল না। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    রেজিনাল্ড অ্যালেন

    ২ জুলাই, ১৮৫৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্লেব এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৮৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত দলটির পক্ষে খেলেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী…

  • |

    ভিনসেন্ট ট্যানক্রেড

    ৭ জুলাই, ১৮৭৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ১৮৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে লর্ড…