২৪ নভেম্বর, ১৯৫২ তারিখে গুজরাতের বরোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে অন্যতম তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে গুণ্ডাপ্পা বিশ্বনাথকে সাথে নিয়ে কর্ণাটকের ব্যাটিংয়ে নেতৃত্ব দিতেন। পাশাপাশি জাতীয় দলে নিয়মিতভাবে খেলেন। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে উইকেটের সর্বত্র স্ট্রোক খেলায় পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। উপযুক্ত পরিবেশে নিজেকে মেলে ধরলেও ফাস্ট বোলারদের বিপক্ষে হিমশিম খেয়েছেন। ব্যাটিংয়ে দক্ষতা প্রদর্শনের পাশাপাশি ফিল্ডার হিসেবেও যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন। সচরাচর সীমানা এলাকায় ফিল্ডিং করতেন ও ডিপ অঞ্চলে বেশ কিছু বিস্ময়কর ক্যাচ মুঠোয় পুড়েছেন। অফ-ব্রেক বোলিং করলেও তেমন সফলতা পাননি।
১৯৬৯-৭০ মৌসুম থেকে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটক এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিশোর অবস্থাতেই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঐ সময়ে তাঁর মাঝে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর লক্ষ্য করা যায়। তবে, ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে নিজেকে মেলে ধরতে কিছুটা সময় ব্যয় করেন। কয়েক মৌসুম পরই জাতীয় দলের খেলার জন্যে আহুত হন।
১৯৭৪ থেকে ১৯৭৯ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট ও ১০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৪ সালে অজিত ওয়াড়েকরের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে ভারতের টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ৬ জুন, ১৯৭৪ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। মদন লালের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৫ ও ৩ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। স্বাগতিকরা ১১৩ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। একই সফরের ১৩ জুলাই, ১৯৭৪ তারিখে লিডসে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
অভিষেক ঘটা ঐ সিরিজে সুইং বলের বিপক্ষে তেমন ভালো খেলেননি। তবে, এরপর রুখে দাঁড়ান ও এক পর্যায়ে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম অনুসঙ্গ হয়ে উঠেন। তাঁর খেলার ধরন সর্বদাই একরূপ না হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলেন।
১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৭৪ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। ৮১ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ৩৩ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়েছিল।
১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে বিষেন বেদী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১৬ রানের ব্যবধানে নাটকীয়ভাবে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৩ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে স্বাগতিক দল দুই উইকেটে জয় পেয়ে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
কর্ণাটকের পক্ষে প্রচুর রান তুলেছেন। এক সময় রঞ্জী ট্রফিতে সর্বকালের শীর্ষ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। রঞ্জী ট্রফিতে ২৬টি শতরানের ইনিংসসহ ৫৭ গড়ে ৭১২৬ রান পেয়েছেন। অবসরগ্রহণকালীন সর্বাধিক রান সংগ্রহ ও শতক হাঁকান। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৭ শতক সহযোগে ৪৬ গড়ে ১১৯১১ রান তুলেছেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর অক্টোবর, ২০০২ সাল থেকে সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সাল পর্যন্ত জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি হন। কিন্তু হৃদযন্ত্র ক্রিয়ায় আক্রান্ত হলে সৈয়দ কিরমানি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। এনসিএর পরিচালক হিসেবে মনোনীত হন। ২০০৫ সালে শিবলাল যাদবের স্থলাভিষিক্ত হবার পূর্ব পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৯ সালে সি নাগরাজের কাছে পরাজিত হবার পূর্ব পর্যন্ত কেএসসিএ’র সম্পাদক ছিলেন। ২০০৭ সালে জি কস্তুরি রঙ্গনকে পরাজিত করে পুণরায় এ স্থানে চলে আসেন। পরবর্তীতে কর্ণাটক ক্রিকেট সংস্থায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
মে, ২০০৮ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের সিইও হিসেবে চারু শর্মা’র পরিবর্তে দায়িত্ব লাভ করেন। বেঙ্গালুরুর লভেল রোডে ব্রিজেশ প্যাটেল ক্রিকেট একাডেমি পরিচালনা করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তাঁর সন্তান উদিত ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার পাশাপাশি কর্ণাটক ও ত্রিপুরার পক্ষে রঞ্জী ট্রফিতে অংশ নিয়েছে।
