২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে মাসভিঙ্গো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০১০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
শক্ত মজবুত গড়নের আক্রমণধর্মী বামহাতি বোলার হিসেবে বিবেচিত। জিম্বাবুয়ের উদীয়মান বোলারদের অন্যতম। ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বলকে বাঁক খাওয়াতে পারেন। বামহাতি ব্যাটসম্যানদেরকে পেস বোলিংয়ে কাবু করতেন। ১৫ বছর বয়সে প্রাদেশিক ক্রিকেটে অংশ নেন। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটকে তলানী নিয়ে যাওয়া ঘরোয়া একদিনের প্রতিযোগিতা ফেইদওয়্যারে অংশ নেন। তবে, ২০০৮ সালে বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত ধাঁচে খেলা প্রবর্তন করা হলে নিজেকে আরও মেলে ধরার সুযোগ এনে দেয় ও নিজেকে সেরা বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সম্ভাবনা খুঁজে পান।
২০০৮ থেকে ২০১৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাসভিঙ্গো, সাউদার্ন রক্স ও সাউদার্নসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সাবেক ইংরেজ ও সারের খেলোয়াড় মন্টে লিঞ্চের সহযোগিতায় ২০১১ সালের শুরুতে জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। জিম্বাবুয়ীয় কোচ অ্যালেন বুচার তাঁর প্রতিভা ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে অবগত হন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বীয় দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পান ও প্রতিপক্ষের কাছে গোপন রাখেন।
২০১১ থেকে ২০১৮ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট, ২৪টি ওডিআই ও ১১টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে টেস্ট ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ে দলের ফিরে আসার পর ২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৪ আগস্ট, ২০১১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে ক্রেগ আরভিন, কাইল জার্ভিস ও টিনো ময়ুয়ু’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় সব মিলিয়ে পাঁচ উইকেট পান। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে ৪/৬৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। একই সাথে অভিষেক ঘটা কাইল জার্ভিসের সাথে নতুন বল নিয়ে অবিস্মরণীয় জুটি গড়েন। দলনায়ক ব্রেন্ডন টেলরের ব্যাটিংয়ের কল্যাণে তাঁর দল ১৩০ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
১২ আগস্ট, ২০১১ তারিখে হারারেতে নিজস্ব প্রথম ওডিআইয়ে একই দলের বিপক্ষে ৫/৩০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। অভিষেকে এটিই যে-কোন জিম্বাবুয়ীয় বোলারের সেরা ছিল ও বৈশ্বিকভাবে ষষ্ঠ সেরার মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। এছাড়াও, নিজস্ব দ্বিতীয় ওডিআইয়ে আবারও পাঁচ-উইকেট দখল করেন। এরফলে, প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নিজের প্রথম দুই খেলায় দুইবার পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। এছাড়াও, প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে উপর্যুপরী দুই খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১৯* ও ০* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৬১ ও ১/৬৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ২৪ রানে জয় পায় ও ১-১ ব্যবধানে সিরিজটি সমতায় আনে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
শারীরিক সচেতনতার অভাব ও খেলায় অবদান রাখার বিষয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হওয়ায় দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পাননি। ৩০ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে তাঁর বোলিংয়ের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে ১২ মাসের জন্যে বোলিংয়ের উপর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। ২০ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে আন্তর্জাতিক খেলায় পুণরায় বোলিং করার অনুমতি পান। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে তাঁকে জিম্বাবুয়ে দলে রাখা হয়। ৮ মার্চ, ২০১৮ তারিখে তৃতীয়বারের মতো বোলিং করার উপর নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হন।
