১৯ অক্টোবর, ১৯৩৩ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের পার্থভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাথহার্স্ট ও সিডনি টিচার্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। আগ্রাসী ভঙ্গীমায় খেলতেন। তবে, স্বাভাবিক জীবনযাপনে বেশ নম্র-ভদ্র ব্যবহার করতেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৬১ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২৯ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬১ সালে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ফেনার্স গ্রাউন্ডে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ১১৩ রান তুলেন। টানটনে সমারসেটের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। পরের খেলায় ওল্ড ট্রাফোর্ডে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে অপর লেগ-স্পিনার ব্রায়ান বুথের বলে কট বিহাইন্ডে বিদেয় নেন।

১৯৬১ সালে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে রিচি বেনো’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। কলিন ম্যাকডোনাল্ড আঘাতের কবলে পড়লে ওল্ড ট্রাফোর্ডের আলোচিত টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ২৭ জুলাই, ১৯৬১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় তাঁর দল ৫৪ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা আনতে সমর্থ হয়। পরবর্তীতে, তিনি এ সাফল্যকে অ্যাশেজের উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। খেলায় তিনি ৪৬ ও ৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। দলের সংগ্রহ ১০৬/৪ থাকা অবস্থায় মাঠে নামেন। বিল লরি’র সাথে ৪৪ রানের জুটি গড়েন। সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদেয় নেন।

অ্যাশেজ করায়ত্ত্ব করার পর রিচি বেনো রাবার জয় করতে চেয়েছিলেন। ১২ বাউন্ডারিতে ৭১ রান তুলেন। পিটার বার্জের সাথে ১৯৯ মিনিটে ১৮৫ রান যুক্ত করেন। ওভাল টেস্টে শতক হাঁকানো থেকে বঞ্চিত হলেও নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের দলের বিপক্ষে অ্যাশেজ থেকে বঞ্চিত হন। গাব্বায় দলের সংগ্রহ ১০১/৪ থাকাকালে মাঠে নামেন। ২১৫ মিনিটে ১৪টি বাউন্ডারিতে ১১২ রান তুলেন।

১৯৬২-৬৩ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১১ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ ও ৫* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নিজ দেশে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১১২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৬৪ সালের অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিতে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৩ জুলাই, ১৯৬৪ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৯৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। দলীয় অধিনায়ক বব সিম্পসনের ৩১১ রানের বদৌলতে সফরকারীরা ৬৫৬/৮ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৪ মে, ১৯৬৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে চার্লি গ্রিফিথের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। ১০ উইকেটে জয় পেলেও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

নিয়মিত অধিনায়ক ববি সিম্পসনের আঘাতের কারণে অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৭ জানুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৮ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৯৩ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে পাঁচ শতক সহযোগে ৪২.২১ গড়ে ১৭৭৩ রান তুলেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে কিঞ্চিৎ অধিক গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৪৫.৪২ গড়ে ২৬ শতক সহযোগে ১১২৬৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি হকি খেলায় সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। ১৯৫৬ সালের অলিম্পিক গেমসে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে হকি খেলেন। এছাড়াও,জর্জ ও পার্থভিলের সদস্য ছিলেন। ইডব্লিউ সোয়ানটন মন্তব্য করেছেন যে, ‘অবহেলিত ও নিষ্প্রভ ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্রায়ান বুথ আদর্শস্থানীয়। তিনি ও তাঁর ক্রিকেট জীবন নিজ দোষে দোষী ছিল।’ ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর সিডনিতে শিক্ষকতা পেশায় পূর্ণাঙ্গকালীন মনোনিবেশ ঘটান। নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় ১২ বছর এ দায়িত্বে ছিলেন। এরপর, ১৯৬৭ সালে সিডনি টিচার্স কলেজের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের প্রশিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। একই বছর ইয়ুথ অ্যাডভাইসরি কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন।

১৯৮২ সালে রাণীর জন্মদিনের সম্মাননায় ক্রিকেটে অনবদ্য ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ এমবিই উপাধীতে ভূষিত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ১৯৫১ সালে জুডিথ উইলিয়ামস নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির দুই কন্যা রয়েছে। ২০ মে, ২০২৩ তারিখে ৮৯ বছর ২১৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট