| |

ব্রেন্ডন কুরুপ্পু

৫ জানুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান-উইকেট-রক্ষক হিসেবে দৃশ্যতঃ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং বার্গার রিক্রিয়েশন ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮৩ থেকে ১৯৯১ সময়কালে সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ৫৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ৩০ এপ্রিল, ১৯৮৩ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। নিজেকে একদিনের আন্তর্জাতিকে উপযোগী করে গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জোড়া অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে জেফ ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৬ এপ্রিল, ১৯৮৭ তারিখে কলম্বোর সিসিসিতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টিপ ফস্টার ও লরেন্স রো’র পর বিশ্বের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেট অভিষেকে দ্বি-শতক হাঁকানোর কৃতিত্ব অর্জন করেন। পরবর্তীকালে ম্যাথু সিনক্লেয়ার ও জ্যাকুয়েস রুডল্ফ তাঁর এ কৃতিত্বের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। এরপূর্বে শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সদস্যরূপে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে একটিমাত্র অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন।

কলম্বোয় রিচার্ড হ্যাডলিসমৃদ্ধ তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এ সাফল্য পান। ১৯ এপ্রিল, ১৯৮৭ তারিখে ৫৪৮ বল মোকাবেলা করে ২০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলাকালীন ৭৭৭ মিনিট সময় ক্রিজে অবস্থান করেছিলেন। এরফলে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের ইতিহাসে মন্থরতম দ্বি-শতক হাঁকানোর রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। হানিফ মোহাম্মদের ৯৭০ মিনিট ও লেন হাটনের ৭৯৭ পর তৃতীয় মন্থরতম রেকর্ড গড়েন। পরবর্তীকালে অবশ্য সনথ জয়সুরিয়া ৭৯৯ মিনিট, গ্যারি কার্স্টেন ৮৭৮ মিনিট, ব্রায়ান লারা ৭৭৮ মিনিট ও হাশিম আমলা ৭৯০ মিনিট ব্যাটিং করে তাঁকে টপকে যান। তাঁর ইনিংসটি ২৪টি বাউন্ডারি সহযোগে গঠিত হয়েছিল। এটিই তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম ও টেস্টে সর্বশেষ শতরানের ইনিংস ছিল। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এটিই তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস হিসেবে রয়ে যায়। রঞ্জন মাদুগালে’র সাথে ১০৯ রানের জুটি গড়েছিলেন। প্রথম শ্রীলঙ্কান হিসেবে টেস্ট অভিষেকে শতরান করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। পরবর্তীকালে রমেশ কালুবিতরাণা ও থিলান সামারাবীরা তাঁর এ কৃতিত্বের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

টেস্টে ৫৩.৩৩ গড়ে ৩২০ রান তুলেছিলেন। কমপক্ষে তিন শতাধিক রান সংগ্রহকারী শ্রীলঙ্কানদের মধ্যে কেবলমাত্র কুমার সাঙ্গাকারা গড়ের দিক দিয়ে তাঁর তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। তন্মধ্যে, ১৯৮৮ ও ১৯৯১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট ছিল। ধীরলয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দ্বি-শতক হাঁকালেও ব্যাট হাতে নিয়ে বেশ ভালোমানের রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯৯১ সালে অরবিন্দ ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ আগস্ট, ১৯৯১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ৫ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, রুমেশ রত্নায়েকে’র অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও অ্যালেক স্টুয়ার্টের ব্যাটিংনৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৩৭ রানে জয় পায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

Similar Posts

  • | | |

    কিথ অ্যান্ড্রু

    ১৫ ডিসেম্বর, ১৯২৯ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ওল্ডহামের গ্রীনাক্রেস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়েও দক্ষ ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরব্যাপী প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের…

  • | | |

    সিকে নায়ড়ু

    ৩১ অক্টোবর, ১৮৯৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯১৬-১৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…

  • | |

    বেঙ্কটেশ প্রসাদ

    ৫ আগস্ট, ১৯৬৯ তারিখে কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটক দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভারতের জ্যেষ্ঠ দলীয়…

  • |

    ফ্রাঙ্ক ওলি

    ২৭ মে, ১৮৮৭ তারিখে কেন্টের টনব্রিজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। প্রচলিত রয়েছে যে, খুবই স্বল্পসংখ্যক ব্যাটসম্যানদের অন্যতম হিসেবে নিজের স্বর্ণালী সময়ে পেস ও স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে উভয়ক্ষেত্রেই পায়ের সমান ব্যবহার করতেন। তড়িৎগতির…

  • | |

    টাপ স্কট

    ২৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার টুরাক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। জন স্কট ও এলিজাবেথ দম্পতির সন্তান ছিলেন। ১৮৭১ সালে ওয়েসলি কলেজে অধ্যয়ন করেন। এ পর্যায়ে তিনি…

  • |

    লরেন্স রো

    ৮ জানুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে জ্যামাইকার হুইটফিল্ড টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। হাত ও চোখের অপূর্ব সমন্বয় ঘটাতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…