| |

ববজি নরসীমা রাও

১১ আগস্ট, ১৯৫৪ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের সেকান্দারাবাদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া পর্যায়ের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আয়ারল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে সফলতম অল-রাউন্ডার ছিলেন।

১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সময়কালে ভারতের পক্ষে মাত্র চার টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে নিজ দেশে আলভিন কালীচরণের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এক পর্যায়ে তাঁকে ভাগবত চন্দ্রশেখরের অনুগামী হতে দেখা যায়। অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ঠাঁই পান ও ভাগবত চন্দ্রশেখরের স্থলাভিষিক্ত হন। ছয় নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ও লেগ-স্পিন বোলিং করেন। কলকাতার ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে সাফল্য পাননি। ০/৩৩ ও ১/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করলেও একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তবে, দলনায়ক সুনীল গাভাস্কার জোড়া শতক হাঁকালেও শিবু শিবনারায়ণের অসম্ভব ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা পরাজয় এড়াতে সক্ষম হয় ও ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

তবে, মাদ্রাজে তিনদিনে শেষ হওয়া টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। নিম্নমূখী রানের খেলায় ভারত দল জয় পেলেও তাঁকে বোলিং করতে হয়নি। ঐ সময়ে পরিস্থিতি বেশ বিরূপ ছিল। কোচবিহীন অবস্থায় কেবলমাত্র একজন ব্যবস্থাপক ও অধিনায়কের তত্ত্বাবধানে খেললেও তেমন নির্দেশনা পেতেন না। কেবলমাত্র একটি সিরিজের মাধ্যমেই খেলোয়াড়কে চিত্রিত করা হতো। আশানুরূপ খেলা উপহার না দেয়া হলে সোজা রঞ্জী ট্রফিতে চলে যেতে হতো। এ সময়ে তিনিও ক্রান্তিকালের মুখোমুখি হন। নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টের পূর্বে বিষেন সিং বেদী’র স্থলাভিষিক্ত হতে ধীরাজ প্রসন্ন চেষ্টা চালিয়েছিলেন। ভারতে বিষেন সিং বেদী’র শেষ টেস্টটিই তাঁর প্রথম টেস্ট ছিল।

পরের বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও দুই টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে নিজ দেশে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। দিল্লিতে সফরকারীদের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১২ ওভার বোলিং করে দুই উইকেট দখল করেছিলেন। এরপর, ২৬ অক্টোবর, ১৯৭৯ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। গুণ্ডাপ্পা বিশ্বনাথের জন্যে নিজের উইকেটকে বিসর্জন দিয়েছিলেন। গুণ্ডাপ্পা বিশ্বনাথ তখন আশি রানের কোটায় ছিলেন ও এক রানের কথা বলে পরবর্তীতে না বলে বসেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় ঠিকই সফলতার স্বাক্ষর রাখতে থাকেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে নিজের স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ১৯৮২ সালে ইংল্যান্ড সফরের জন্যে মনোনীত হলেও সুরু নায়েককে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে ভারতের পক্ষে অধিক টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি।

আয়ারল্যান্ডে অভিবাসিত হন। ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ঐ দেশের ক্রিকেটের অবকাঠামো সংস্কারে শীর্ষ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। উত্তর আয়ারল্যান্ডে জাতিগোষ্ঠীর মাঝে ক্রান্তিকালে ক্রিকেটের উত্তরণে বিরাট ভূমিকা রাখেন। এক পর্যায়ে আয়ারল্যান্ড দলের পরামর্শক হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন। আয়ারল্যান্ডের প্রথম পূর্ণাঙ্গকালীন কোচ মাইক হেনড্রিকের অধীনে পাঁচ বছর ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁরা উভয়ে দেশের সর্বত্র ক্রিকেটের উন্নয়নে অগ্রসর হন।

ইসিবি থেকে বিভিন্ন স্তরে কোচিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। কমনওয়েলথ গেমসে উত্তর আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ক্যাথলিক বিদ্যালয়গুলোয় ক্রিকেটের প্রচলনের পর অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোতে এর সূচনা ঘটান। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় আয়ারল্যান্ডের নয়জন খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড, বয়েড র‍্যাঙ্কিন, এড জয়েস, ও’ব্রায়ান ভ্রাতৃদ্বয় – কেভিন ও উইকেট-রক্ষক নায়ল, গ্যারি উইলসন, অ্যান্ড্রু হোয়াইট, পল স্টার্লিংকে অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে থাকাকালে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন।

তিন-দিনের খেলায় নর্থ ওয়েস্ট ওয়ারিয়র্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। জোসেফিন নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। বিয়ের পর হায়দ্রাবাদে চলে যান। একাধারে আট বছর দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ইংল্যান্ডে ল্যাঙ্কাশায়ার দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেছেন। সেখানের অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের বিষয়টি পরবর্তীতে কাজে লাগান। হায়দ্রাবাদের অধিনায়কের দায়িত্বে থাকাকালীন ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে দলটি রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার শিরোপা জয় করেন। দুই মৌসুম পর সর্বশেষ খেলায় অংশ নেন। শচীন তেন্ডুলকরের পঞ্চম প্রথম-শ্রেণীর ঐ খেলায় বোম্বের বিপক্ষে খেলেন। এরপর, আয়ারল্যান্ডে পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নেন।

আগস্টে তাঁর সন্তানের জন্ম হয়। এরপর, চিকিৎসকের কাছ থেকে চার মাসের অধিক সময় বিদেশে অবস্থান না করার পরামর্শের কারণে ভারতে যেতে পারেননি। অন্ধ্র ব্যাংকে এক বছর চাকুরী করা থেকে বিরত থাকেন। পরবর্তীতে, আর যাননি। রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় অংশগ্রহণকালীন পাঁচ দিনের জন্যে ₹৩৫০ রূপী লাভ করতেন। দিল্লির বিপক্ষে খেলে শিরোপা লাভ করলেও কোন পুরস্কার পাননি। তবে, অন্ধ্রপ্রদেশের তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী এনটি রামা রাও প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ₹৫,০০০ রূপী প্রদান করেছিলেন।

ডিসেম্বর, ২০১২ সালে এমবিই উপাধী লাভ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট