২৮ মে, ১৯১১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ও ১৪ স্টোন (প্রায় ৯০ কেজি) ওজনধারী ছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৩৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২/১৫ ও ৩/৮৮ নিয়ে ট্রান্সভাল দলকে গুটিয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন। এরপর, কেপটাউনে চলে যান। ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে অভিষেক খেলায় চমক দেখান। কিংসমিডে নাটালের বিপক্ষে ৭/৫৬ পান। কয়েক বছরের মধ্যেই হার্বি টেলর তাঁর মাঝে ভবিষ্যতের টেস্ট খেলোয়াড়ের সম্ভাবনা দেখতে পান।
১৯৩৫ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩৫ সালে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৫ জুন, ১৯৩৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হার্বি ওয়েড, চাদ ল্যাংটন, ডাডলি নোর্স, ডেনিস টমলিনসন ও এরিক রোয়ানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে খেলতে নামেন। বব ওয়াটকে বিদেয় করে প্রথম উইকেটের সন্ধান পান ও সাত রানের ব্যবধানে হার্বার্ট সাটক্লিফকে ফেরৎ পাঠান। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি আমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২৭ জুলাই, ১৯৩৫ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। ৫/৯৯ লাভ করেন। এটিই টেস্টে তাঁর একমাত্র পাঁচ-উইকেট লাভ ছিল। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ১/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। এ সিরিজে ৩৪.১৫ গড়ে ১৩ উইকেট পেয়েছিলেন। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতে অংশ নেন ও ১-০ ব্যবধানে তাঁর দল সিরিজ জয় করতে সমর্থ হয়।
নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। আবারও উঁচু আসরে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। চার টেস্ট থেকে ৪৩.২৮ গড়ে ৭ উইকেট পেয়েছিলেন। এছাড়াও, শেষ দুই টেস্টে দুইবার জোড়া শূন্য লাভ করেন। ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ভিক রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৩৫ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৮৭ ও ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৬ রানে পরাজিত হলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ঐ সময়ে তুলনামূলকভাবে দূর্বলতর দক্ষিণ আফ্রিকা দলে থেকে এক বছরে ৩৭.৫৫ গড়ে ২০ উইকেট পেয়েছিলেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ১৯.৮৮ গড়ে ২৭৬ উইকেট দখল করেছিলেন।
অসাধারণ জীবন অতিবাহিত করেছেন। চার বল থেকে দুইবার চার-উইকেট লাভ করেছেন। এছাড়াও, একবার পাঁচ বল থেকে একই সাফল্য পেয়েছিলেন। দুইবার কিলিমাঞ্জারো আরোহণ করেছেন। লচ লমন্ডে উলঙ্গ অবস্থায় সাঁতার কেটেছেন। অর্থাৎ, ইতোপূর্বে যে-সকল বিষয়ে ক্রিকেটারদের কোনরূপ সম্পর্ক ছিল না, সেখানে তিনি সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। গোলাবর্ষণে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। যুদ্ধ অভিজ্ঞতাকে ঘিরে দুইটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। ডিএসও, এমসি উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। সাংবাদিক ছিলেন। উইজডেনে প্রতিবেদন লিখতেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে ঘিরে ড্রাম নামীয় ট্যাবলয়েড প্রতিষ্ঠা করেন।
৩ মার্চ, ১৯৯৪ তারিখে ইংল্যান্ডের কোলচেস্টার এলাকায় ৮২ বছর ২৭৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। অ্যান্ডি বুল দ্য গার্ডিয়ানে উল্লেখ করেছেন যে, ‘সর্বাপেক্ষা অসাধারণ ব্যক্তি হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।’
