২ জানুয়ারি, ১৮৮৬ তারিখে ট্রান্সভালের লিডেনবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
কেপটাউনভিত্তিক গ্রীন এন্ড সী পয়েন্ট হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেন। প্রিটোরিয়ার সদস্যরূপে পচেফস্টুমের বিপক্ষে ১৮০ রানের ইনিংস খেলে প্রথমবারের মতো সকলের দৃষ্টিগোচরে পড়েন। শক্ত প্রতিরক্ষাব্যূহ গড়ে সকল ধরনের শট খেলায় পটু ছিলেন। এছাড়াও, দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। ১৯০৫-০৬ মৌসুমে প্রিটোরিয়ার সদস্যরূপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের খেলায় অংশ নেন। তবে, পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে নিজেকে তেমন মেলে ধরতে পারেননি।
১৯০৮-০৯ মৌসুম থেকে ১৯২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৮-০৯ মৌসুমে কেপটাউনে বর্ডারের বিপক্ষে ১১২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে প্রথম উইকেটে আর্চিবল্ড ডিফোর্ডের (৯১) সাথে ১৯০ রানের জুটি গড়েন। পরের মৌসুমে বুলাওয়েতে এইচ. ডি. জি. লেভসন-গাওয়ার একাদশের সদস্যরূপে রোডেশিয়ার বিপক্ষে ১৬৮ রান তুলেন।
১৯১০ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৬ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। অধিকাংশ খেলাই ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছেন। কিন্তু, কখনো ইংল্যান্ড সফরে যাবার সৌভাগ্য হয়নি তাঁর। ১৯০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে হেনরি লেভসন-গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। মিক কোমেইল, লুইস স্ট্রিকার ও টম ক্যাম্পবেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৯ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ১৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৭ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১ ও ৩৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
বার্নার্ড ট্যানক্রেডের (২৬*) পর দ্বিতীয় দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েন। ১১ মার্চ, ১৯১০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৪ রান অতিক্রম করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৩* ও ১৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৯ উইকেটে পরাজিত হলেও স্বাগতিকরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯১০-১১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেছিলেন। দুইটি টেস্ট শতকই অজিদের বিপক্ষে করেছেন। সিডনিতে ১৫০ রান ও অ্যাডিলেডে ১০৫ রানের ইনিংস খেলেন।
৯ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ১ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১১৪ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৩ মার্চ, ১৯১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৯ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১৫ ও ১৫০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে হার্বি কলিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৬ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫০ ও ৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ৩২.৭৬ গড়ে ৯৮৩ রান সংগ্রহ করেছেন। কয়েক বছর দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন। ১৯১৯-২০ মৌসুমে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া ইম্পেরিয়াল ফোর্সেসের বিপক্ষে ১৩৫ রান করেন। ১৯২০-২১ মৌসুমে ট্রান্সভাল একাদশের সদস্যরূপে বর্ডারের বিপক্ষে ৬ ও ৬৪, গ্রাহামসটাউনের বিপক্ষে ১৭১, ইস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে ১২৪, গ্রাফ রেইনেটের বিপক্ষে ৭৬ এবং অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে ১৮৫ ও ১২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরফলে, সাত ইনিংসে তাঁর ব্যাটিং গড় দাঁড়ায় ১০৭.২৮।
১৯ মে, ১৯২৪ তারিখে নাটালের আমকোমাস এলাকায় বিছানায় মাত্র ৩৮ বছর ১৩৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। স্বাস্থ্যহানীর কারণে মানসিক বৈকল্যের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।
