| |

বিলি ওয়েড

১৮ জুন, ১৯১৪ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে অপ্রচলিত পন্থায় ব্যাটিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৫-৩৬ মৌসুম থেকে ১৯৪৯-৫০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। নাটাল দলের কিংবদন্তীতুল্য ক্রিকেটারের মর্যাদা পেয়েছিলেন।

১৯৩৮ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে-পিছে টেস্টগুলো খেলেন। তবে, একবারের জন্যেও বিদেশ সফরে যেতে পারেননি। ১৯৩৮-৩৯ ও ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে ইংল্যান্ড এবং ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐ টেস্টগুলো খেলেন।

১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অ্যালান মেলভিল, জেরাল্ড বন্ড, নরম্যান গর্ডন ও পিটার ফন ডার বিলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে টম গডার্ডের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। এ সিরিজে তিন টেস্ট খেলেন।

একই সফরের ২০ জানুয়ারি, ১৯৩৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০ রান অতিক্রম করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে এ সফলতাকে আরও ছাঁপিয়ে যান। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ ও ২৮ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে কেন ফার্নসের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণের সাথে নিজেকে জড়ান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে নিজ দেশে জর্জ মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৬৩ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ২ উইকেটে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। একই সফরের পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র শতক হাঁকান।

একই সফরের ৫ মার্চ, ১৯৪৯ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৮৫ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি ১২৫ ও ৩৪* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিং ও দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৪৯-৫০ মৌসুমে নিজ দেশে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২০ জানুয়ারি, ১৯৫০ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ১৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২৪ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও জন আর্লট দেখেছেন যে, উইকেট-রক্ষণের দিকে খুব কমই আগ্রহ ছিল তাঁর ও প্রায়শঃই নাটালের পক্ষে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে নিউল্যান্ডসে আম্পায়ার হিসেবে একটি টেস্ট পরিচালনা করেছিলেন। ৩১ মে, ২০০৩ তারিখে নাটালের ডারবানে ৮৮ বছর ৩৪৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর ভ্রাতা হার্বি ওয়েড দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

Similar Posts

  • | | |

    বাল দানি

    ২৪ মে, ১৯৩৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের দুধানি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম, ডানহাতে অফ-ব্রেক ও লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অসাধারণ অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করেছিলেন। ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী হলেও বিশ্বস্ত…

  • | |

    শহীদ আফ্রিদি

    ১ মার্চ, ১৯৮০ তারিখে খাইবার এজেন্সিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকরী ও মারকুটে ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে এগিয়ে আসতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাকিস্তানের প্রথিতযশা অল-রাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন। সুইংয়ের সুলতান, স্পিনের যাদুকর ও বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান…

  • | |

    হারুন রশীদ

    ২৫ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘জেকিল ও হাইড’ ধরনের ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিষ্প্রাণ পিচে অন্যতম দর্শনীয় ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত…

  • |

    সিরিল ফ্রাঁসোয়া

    ২০ জুন, ১৮৯৭ তারিখে ইংল্যান্ডের লুইশাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। মারকুটে ব্যাটিং করতেন। ১৯২০-২১ মৌসুম থেকে ১৯২৭-২৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের…

  • |

    রোল্যান্ড বিউমন্ট

    ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৪ তারিখে নাটালের নিউক্যাসল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সহজাত প্রকৃতির স্ট্রোকপ্লে মারার অধিকারী ছিলেন। তবে, বড় আসরের ক্রিকেটে নিজেকে সঠিকভাবে মেলে ধরতে পারেননি। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান…

  • |

    এনজাবুলো এনকুবে

    ১৪ অক্টোবর, ১৯৮৯ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতে পারেন। ২০১০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ছোটখাটো গড়ন হলেও বৃহৎ হৃদয়ের অধিকারী হিসেবে পরিচিত। কার্যকর অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। মাখায়া এনটিনিকে ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেছেন। আগ্রাসী ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ…