জুন, ১৮৫১ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের লোয়ার মিন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হবার পাশাপাশি মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া – উভয় দলের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতা ও ১৪ স্টোন ওজনের অধিকারী ছিলেন। ‘দ্য বেন্ডিগো জায়ান্ট’ ডাকনামে ভূষিত হন। উইলিয়াম জন মিডউইন্টার ও রেবেকা দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন। গ্লুচেস্টারশায়ারে জন্মগ্রহণ করলেও স্বর্ণ উদগীরণকালে নয় বছর বয়সে পরিবারের সাথে লিভারপুল থেকে জাহাজে চড়ে ঐ বছরের ২৪ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসিত হন। বেন্ডিগো গোল্ডফিল্ডসে ক্রিকেট খেলা শিখতে শুরু করেন। ১৮৭৩-৭৪ মৌসুমে ভিক্টোরিয়া অষ্টাদশ দলের সদস্যরূপে ডব্লিউ.জি. গ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীবিহীন খেলায় অংশ নেন।

১৮৭৪-৭৫ থেকে ১৮৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার এবং অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৭৪-৭৫ মৌসুমে ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। ব্যাটিংয়ে বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এবং কার্যকর মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন।

১৮৭৭ থেকে ১৮৮৭ সময়কালে সব মিলিয়ে ১২ টেস্ট খেলেছেন। ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম দুই টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৮৭৬-৭৭ মৌসুমে নিজ দেশে জেমস লিলিহোয়াইট জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন দলের মুখোমুখি হন। মেলবোর্নে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সদস্যরূপে ঐ দুই টেস্ট খেলেন। ১৫ মার্চ, ১৮৭৭ তারিখে সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে খেলার গৌরব অর্জন করেন। ঘটনাবহুল ঐ টেস্টে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইনিংসে পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। খেলায় তিনি ৫/৭৮ ও ১/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৫ ও ১৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৪৫ রানে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর, ইংল্যান্ডে ফিরে যান ও ১৮৭৭ সালে গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলেন।

১৮৭৮ সালে অস্ট্রেলীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। কয়েকটি খেলায় অংশ নেন। এরপর, অস্ট্রেলীয় একাদশের সদস্যরূপে লর্ডসে মিডলসেক্সের বিপক্ষে খেলার প্রস্তুতি নেয়াকালে দৃশ্যতঃ ডব্লিউজি গ্রেস তাঁকে জোরপূর্বক ওভালে গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলান। ঐ মৌসুমের বাদ-বাকী সময়ে ঐ দলে খেলেছেন। ১৮৭৭ থেকে ১৮৮২ সময়কালে দলটির পক্ষে ৫৮ খেলায় অংশ নেন।

চার বছর পর ১৮৮১-৮২ মৌসুমে আবারও তিনি মেলবোর্নে খেলেন। তবে, পরিচিতি ভিন্ন ছিল। এবার তিনি ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেন। এরফলে, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী দলের প্রথমদিকের খেলোয়াড় ছিলেন। ঐ সিরিজের চার টেস্টের সবকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে এসে ভিক্টোরিয়ার পক্ষে খেলতে থাকেন।

এরপর, ১৮৮৪ সালে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ জুলাই, ১৮৮৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ও ৫ রানের ব্যবধানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। এ পর্যায়ে সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আট টেস্টে অংশ নেন।

এক বছর পর ইংল্যান্ড দল অ্যাশেজ জয় করলে আরও একটি অতিরিক্ত টেস্টের আয়োজন করা হয়। এবার ইভো ব্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন দল তাঁকে প্রতিপক্ষের সাথে খেলতে দেখতে পান। ১৮৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত উভয় সিরিজেই তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন।

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলেছেন। ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে জর্জ লোহমানের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২ ও ১/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৭১ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৮৮৫ সালে মেলবোর্নের কাছাকাছি কার্লটনের ক্লাইড হোটেলের ব্যবস্থাপক হন। তবে, ১৮৮৮ সালের দিকে সাউথ মেলবোর্নের ভিক্টোরিয়া হোটেলে চলে যান। এছাড়াও, মেলবোর্নে শেয়ার ও স্টকব্রোকার হন। সর্বোপরী তাঁর ব্যবসা সফলতার সন্ধান পায়নি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দূর্দান্ত সফল হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে পারেননি। অবসর গ্রহণের পর ব্যক্তিগত ও পেশাদারী পর্যায়ে জীবন বেশ দূর্বিসহ হয়ে উঠে। মানসিক অশান্তির সৃষ্টি হয় ও শেষ দিনগুলোয় তাঁকে পাগলা গারদে অবস্থান করতে হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। দুই সন্তানের জনক ছিলেন। জীবিত অবস্থাতেই পরিবারের সকলেই মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এক পর্যায়ে অসহায় হয়ে পড়েন ও ১৮৯০ সালের শুরুরদিকে বেন্ডিগো হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর, কেরা পাগলা গারদে তাঁকে স্থানান্তরিত হন। এক বছর পর ৩ ডিসেম্বর, ১৮৯০ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ইয়ারা বেন্ড এলাকার পাগলা গারদে মাত্র ৩৯ বছর ১৬৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মেলবোর্ন জেনারেল সিমেট্রি’র রোমান ক্যাথলিক অংশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট