| |

বিলি বার্নস

২৭ মে, ১৮৫২ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের সাটন-ইন-অ্যাশফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৮৭২ সালে উইচেস্টারভিত্তিক গ্যারিসনের পক্ষে প্রথমবারের মতো পেশাদারী পর্যায়ে যুক্ত হন। পরবর্তী গ্রীষ্মে লিচেস্টারভিত্তিক ভিক্টোরিয়া পার্ক ক্লাবে চলে যান। তৃতীয় পর্যায়ে ট্রেন্ট ব্রিজভিত্তিক নটিংহাম অ্যামেচার্সের পক্ষে ১৮৭৪ থেকে ১৮৭৫ – এ দুই বছর মেয়াদে যুক্ত হন। স্বভাবতঃই কাউন্টি গ্রাউন্ডে তাঁর এ পদে যুক্ত থাকার বিষয়টি নটিংহ্যামশায়ার কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়।

১৮৭৫ থেকে ১৮৯৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২৯ জুলাই, ১৮৭৫ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো যাচাই-বাছাইয়ের খেলায় অংশ নেন। এ পর্যায়ে নটস দল গ্লুচেস্টারশায়ারের মুখোমুখি হয়। তাঁর এ অভিষেক পর্বটি অপ্রত্যাশিত ছিল। এরপূর্বে তিনি নটিংহ্যামশায়ার কোল্টসের কোন খেলায় অংশ নেননি। ১৮৭৫ সালের বাদ-বাকী খেলাগুলোয়ও কাউন্টি দলটির পক্ষে খেলেন। এরপর থেকে পরবর্তী আঠারো মৌসুম পর্যন্ত প্রথম একাদশের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পান। কেবলমাত্র আঘাতের কারণে দুই কিংবা তিনটি খেলায় অনুপস্থিত ছিলেন এবং ১৮৮১ সালে নটিংহ্যামশায়ারের পেশাদার খেলোয়াড়দের ধর্মঘটের কারণে অধিকাংশ খেলায় অংশগ্রহণ করেননি।

১৮৭৫ ও ১৮৭৬ সালে কাউন্টি দলটিতে কেবলমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন। তবে, পরবর্তী মৌসুমগুলো সর্বাপেক্ষা কার্যকর বোলার হিসেবে নিজের উত্তরণ ঘটান এবং ব্যাটিংয়েও ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। এক পর্যায়ে নটিংহ্যামশায়ার একাদশে সেরা অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিগণিত হন ও কয়েক মৌসুম ডব্লিউ.জি. গ্রেস বাদে সেরার মর্যাদা পান।

রিচার্ড ডাফ্টের খেলার মান নিম্নমূখী ও আর্থার শ্রিউসবারি’র উত্থানকালীন নটিংহ্যামশায়ার একাদশের সর্বাপেক্ষা কার্যকর ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৮৮০ সালে কাউন্টির গড়ে শীর্ষে থাকেন। ৩৪.০০ গড়ে ৫৪৪ রান সংগ্রহ করেন। ১৮৮২ সালে ৩২.১৮ গড়ে ৭০৮ রান, ১৮৮৩ সালে ৩৩.৩০ গড়ে ৬৬ রান পেয়েছেন। তবে, ১৮৮৭ সালে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেছিলেন। ৩৮.০০ গড়ে ৭২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ ১৮৭৮ সালে উপর্যুপরী চারবার কাউন্টির পক্ষে খেলে শূন্য রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। ট্রেন্ট ব্রিজে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ও ব্রামল লেনে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে পেয়ার লাভ করেন।

১৮৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৮৯০-৯১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮০ সালে নিজ দেশে বিলি মারডকের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন। ৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৮০ তারিখে লন্ডনের ওভালে পনেরোজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২৮ ও ৫ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এরফলে, ইংল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট জয়ের সন্ধান পায়। সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করে।

১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১২ ডিসেম্বর, ১৮৮৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩৪ ও ২৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ০/৩৭ ও ৩/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২১ মার্চ, ১৮৮৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। রাবার নিষ্পত্তির খেলায় দলের একমাত্র ইনিংসে তিনি ৭৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৯৮ রানে জয় পেলে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৮৮৬ সালে নিজ দেশে টাপ স্কটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১২ আগস্ট, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২১৭ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৮৮৮ সালে নিজ দেশে পার্সি ম্যাকডোনেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৩ আগস্ট, ১৮৮৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১৮ ও ৫/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে ৬২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৩৭ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনতে সমর্থ হয়।

একই সফরের ৩০ আগস্ট, ১৮৮৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ২১ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১১ আগস্ট, ১৮৯০ তারিখে একই মাঠে ও একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন। ১৮৯০ সালে নিজ দেশে ডব্লিউ. এল. মারডকের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ আগস্ট, ১৮৯০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ৫ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। জ্যাক বারেট সহজ রান-আউট করতে ব্যর্থ হলে স্বাগতিকরা ২ উইকেটের নাটকীয় জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। একটি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনা করেছিলেন। ১৮৯৫ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত এমসিসি’র মাঠ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। প্রত্যেক মৌসুমেই কয়েকটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছিলেন। এছাড়াও, স্থানীয় নটিংহ্যামশায়ারের দল ম্যান্সফিল্ড উডহাউজের পক্ষে খেলেন।

পেশায় তিনি তুলাচাষী ছিলেন। কিন্তু, ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ না করা অবস্থায় ম্যান্সফিল্ড উডহাউজের অ্যাঞ্জেল ইন পানশালা পরিচালনা করতেন। তিন সপ্তাহ অসুস্থ থাকার পর ২৪ মার্চ, ১৮৯৯ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের ম্যান্সফিল্ড উডহাউজ এলাকায় মাত্র ৪৬ বছর বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর ভ্রাতা থমাস বার্নস নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর ব্যাট নটিংহ্যামশায়ারের লং রুমে ৮০ নম্বরধারী ব্যাটের মর্যাদা পাচ্ছে।

সম্পৃক্ত পোস্ট