৭ মে, ১৮৮৬ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের র‍্যাডক্লিফ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৭ সাল থেকে ১৯২৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। অদ্ভূত ধরনের বোলিং ভঙ্গীমা প্রদর্শন করতেন। একবার স্ট্যাম্পে বল লেগে ৫৫ গজ দূরে বেইল ছিটকে যায় ও নিজের প্রকৃত ফাস্ট বোলিংয়ের নজির গড়েন।

কেমব্রিজশায়ারের পক্ষে খেলাকালীন টম হেওয়ার্ড তাঁকে চিহ্নিত করেন। ১৯০৭ সালে সারে দলে যোগ দেয়ার পর থেকে পরবর্তী ১৯ মৌসুম খেলেছেন। উইকেট লাভের প্রাচুর্য্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯১১ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্যে ইংরেজ দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

১৯১১ থেকে ১৯২১ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯১১-১২ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া অভিমুখে জাহাজযোগে গমন করেন। ৩ টেস্ট থেকে ৫ উইকেট লাভে তাঁকে বিস্তর রান খরচ করতে হয়েছিল। ৩০ ডিসেম্বর, ১৯১১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। টাইগার স্মিথের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৩ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩৭ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮ উইকেটে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় চলে আসে।

১৯১২ সালে নিজ দেশে ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা সিড গ্রিগরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জুলাই, ১৯১২ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়; ওভালে তাঁকে কোন বোলিং করতে হয়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আরও একবার অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। এ সফরে ইংল্যান্ড দল শোচনীয় ফলাফল করে ও তিনিও এর বাইরে ছিলেন না।

এরপর, তিনি আর একটিমাত্র টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২১ সালে নিজ দেশে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৩ আগস্ট, ১৯২১ তারিখে ওভালে বল হাতে সাধারণমানের সফলতা পান। বল হাতে নিয়ে ২/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও অধিনায়ক লিওনেল টেনিসন তাঁকে চার নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নামেন। ৩৭ বল থেকে ৭ চার ও এক ছক্কা সহযোগে ঝড়োগতিতে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট জগৎ থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। চারটি টেস্ট খেলা পরিচালনা করেছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটার হয়েও যুক্তরাজ্যভিত্তিক বোল্টন লীগে খেলেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে টডমর্ডেনের পক্ষে খেলেন। এরপর, গ্ল্যামারগনের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি সাউথ ওয়েলস কোম্পানিকে কর্মরত অবস্থায় ৬০ বছর বয়সে এসেও দাপ্তরিক দলের পক্ষে খেলেছেন। ৭ জুলাই, ১৯৬৫ তারিখে ওয়েলসের রামনি এলাকায় ৭৯ বছর ৬১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট