|

বিল ব্রাডলি

২ জানুয়ারি, ১৮৭৫ তারিখে লন্ডনের সিডেনহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। এলিয়েন্স স্কুল একাদশের অধিনায়কত্ব করেছেন। তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল মিচামে লয়েড রেজিস্টারের পক্ষে ৬ বল থেকে উপর্যুপরী ৬ উইকেট লাভ করা। ১৮৯৫ থেকে ১৯০৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। নিজের দিনগুলোয় অন্যতম সেরা শৌখিন বোলার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। লর্ড হ্যারিসের স্নেহধন্য ছিলেন। নিখুঁত নিশানা বরাবর দীর্ঘ দূরত্ব নিয়ে বোলিং করতেন। অসম্ভব ধৈর্য্যের পরিচয় দিতেন। দীর্ঘক্ষণ গতির ভারসাম্য বজায় রেখে বোলিং কর্ম চালিয়ে যেতেন। ১৮৯৯ সালে ১৯.১০ গড়ে ১৫৬ উইকেট দখল করেন। এরফলে, ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন।

১৮৯৯ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। ১৮৯৯ সালে ইংল্যান্ডে সফররত জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐ দুই টেস্ট খেলেন। ১৭ জুলাই, ১৮৯৯ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দারুণ খেলা প্রদর্শনের মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবনের যাত্রা শুরু করেন। ১১ নম্বর অবস্থানে মাঠে নেমে ২৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এরপর, প্রথম ইনিংসে ৫/৬৭ লাভ করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর বলে যদি ডিক লিলি কয়েকটি ক্যাচ ফস্কে না ফেলতেন তাহলে হয়তোবা ইংল্যান্ড দল জয়লাভ করতো।

ফলশ্রুতিতে, ১৪ আগস্ট, ১৮৯৯ তারিখে ওভালের চূড়ান্ত টেস্টে তাঁকে সামনের দিকে নিয়ে আসা হয়। শূন্য রানে রান-আউটের শিকার হন। খেলায় পাঁচ-বলে গড়া ৪৬ ওভার বোলিং করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। এভাবেই তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। ঐ বছর ট্রেন্ট ব্রিজে ৮৩ রান খরচায় নটিংহ্যামশায়ারের ১২ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯০১ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ১৩৪ রান খরচায় ১৪ উইকেট ও ক্যান্টারবারিতে সারের বিপক্ষে ১৪২ রান খরচায় ১২ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৮৯৯ সালে দুইবার হ্যাট্রিকের সন্ধান পান। লেটনে এসেক্স ও টনব্রিজে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে এ সফলতা পান।

ব্যাট হাতে তিনি মোটেই সুবিধের ছিলেন। অধিকাংশ ফাস্ট বোলারের ন্যায় সবশেষে ব্যাটিংয়ে নামতেন। রান সংগ্রহের বিষয়ে নিজে যেমন সন্দিহান ছিলেন তেমনি কেউ তাঁর কাছ থেকে রান সংগ্রহের প্রত্যাশা করতেন না। তাসত্ত্বেও ১৮৯৭ সালে ক্যান্টারবারিতে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ৪৫ মিনিটে সংগৃহীত ৯৫ রানের মধ্যে নিজে ৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে মাত্র ৬.০১ রান গড়ে রান তুলেছিলেন। ১৯০৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। কেন্টের পক্ষে ৫৩৬ উইকেট দখল করেন ও ক্রিস্টাল প্যালেসে নব প্রতিষ্ঠিত লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেন। ১৯ জুন, ১৯৪৪ তারিখে লন্ডনের ওয়ান্ডওয়ার্থ কমন এলাকায় অবস্থিত নিজ গৃহে ৬৯ বছর ১৬৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    ভরত অরুণ

    ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৬২ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়াবাদা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্ষীপ্র গতিসম্পন্ন মিডিয়াম-পেস বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে কার্যকর মারকুটে ব্যাটিং করতে পারতেন। আশির দশকে বেশ কয়েকজন উদীয়মান খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে…

  • |

    ব্লেয়ার হার্টল্যান্ড

    ২২ অক্টোবর, ১৯৬৬ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির নিয়মিত সদস্যের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁর পিতা ইয়ান হার্টল্যান্ড একই দলের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট…

  • |

    নাথান স্মিথ

    ১৫ জুলাই, ১৯৯৮ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৩০ মার্চ, ২০১৬ তারিখে হোয়াঙ্গারেইয়ে অনুষ্ঠিত ওতাগো বনাম নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের…

  • |

    জন ওয়ার্ড

    ১১ মার্চ, ১৯৩৭ তারিখে ক্যান্টারবারির টিমারু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সর্বদাই তাঁকে আর্টি ডিক ও এরিক পেট্রি’র সহকারী হিসেবে খেলতে হয়েছে। বিশ্বস্ত উইকেট-রক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ব্যাপকভাবে তেমন সফলতার সন্ধান না পেলেও নিচেরসারিতে বেশ খাঁটিমানের প্রতিরক্ষাব্যূহ গড়ে তুলতে…

  • | | |

    হিমু অধিকারী

    ৩১ জুলাই, ১৯১৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী এবং অত্যন্ত সম্মানীয় ভারতীয় ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। এছাড়াও, সেনাবাহিনীতে যুক্ত ছিলেন তিনি। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যতিক্রমধর্মী ফিল্ডার হিসেবে তিনি ফিল্ডিংয়ের গুরুত্বতা সম্পর্কে সতীর্থদেরকে অবহিত করে গেছেন। সামরিক শৃঙ্খলাকে উপজীব্য করে ঐ সময়ের ভারতীয় ক্রিকেটে…

  • | |

    হ্যারি বয়েল

    ১০ ডিসেম্বর, ১৮৪৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১.৮৩ মিটার উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ড্যানিয়েল বয়সে ও শার্লত দম্পতির সন্তান। বোলিংকালে দৃঢ় প্রত্যয়ী মনোভাব পোষণ করতেন। ১৮৭১-৭২ মৌসুম…