|

বিলাওয়াল ভাট্টি

১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরের ৪০ কিলোমিটার দূরবর্তী ছোট্ট শহর মুরিদকে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেন। ২০১০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বিধ্বংসী অল-রাউন্ডার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে শিয়ালকোট, পাকিস্তান স্টেট ব্যাংক ও সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, করাচী কিংস, লাহোর কালান্দার্স, মুলতান সুলতান্স ও শিয়ালকোট স্ট্যালিয়ন্সের পক্ষে খেলেছেন। দূরন্ত প্রতিভাবান বোলার হিসেবে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের অধিক গতিবেগে বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, মাঝারি কিংবা নিচেরসারিতে মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটাতে সচেষ্ট থাকেন। পাকিস্তানের পক্ষে খেলায় অংশগ্রহণের পূর্বেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি।

১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ তারিখে শিয়ালকোটে অনুষ্ঠিত শিয়ালকোট বনাম লাহোর রবি’র মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। শিয়ালকোটের সদস্যরূপে প্রথম মৌসুমে ২০ খেলায় অংশ নিয়ে ২৬ গড়ে ৮৯ উইকেট দখল করেন। সুই গ্যাসের পক্ষে খেলাকালীন অল-রাউন্ড ক্রীড়ানৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ওডিআই অভিষেকের পূর্বে ১৭ খেলা থেকে ১৯.৩৩ গড়ে ৭২ উইকেট দখল করেন। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দুইটি শতক হাঁকান। চমৎকার শতক ও অর্ধ-শতকের কল্যাণে জাতীয় দলের খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। এছাড়াও, ২০১৩-১৪ মৌসুমের প্রেসিডেন্ট ট্রফি প্রতিযোগিতার প্রথম তিন খেলা থেকে নয় উইকেট দখল করেছিলেন।

অন্যান্য কয়েকজন পাকিস্তানী বোলারের ন্যায় তিনিও উচ্চতাকে প্রধান মাপকাঠি নিয়ে খেলার জগতে প্রবেশ করেননি। মাত্র ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে চমৎকার পেস সহযোগে বলকে তীক্ষ্ণভাবে ফেলার গুণাবলীতে ভাস্বর ছিলেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে ৭ কিংবা ৮ নম্বর অবস্থানে নামতেন। স্পিনারদের বিপক্ষে মারকূটে ভঙ্গীমায় অগ্রসর হতেন।

২০১৩ থেকে ২০১৫ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট, ১০টি ওডিআই ও নয়টিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২৪ নভেম্বর, ২০১৩ তারিখে কেপটাউনে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূচনা ঘটান। খেলায় অংশ নিয়েই তাৎক্ষণিক প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হন। ২৫ বল মোকাবেলা করে ৩৯ রান ও ৩/৩৭ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে দলের বিজয়ে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন।

২০১৩-১৪ মৌসুমে পাকিস্তানের টেস্ট দলে যুক্ত হন। ঐ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বে পাকিস্তানী দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। সেখানে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। আহমেদ শেহজাদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। পাঁচ উইকেট দখল করেন। ৩/৬৫ ও ২/১৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় দলনেতার অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর সুবাদে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, একই সফরের ৮ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। মূল্যবান রান সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। খেলায় তিনি ২৪* ও ৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মাহেলা জয়াবর্ধনে’র দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে শ্রীলঙ্কান দল ৯ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের ওডিআই দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। পরবর্তীতে, সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও খেলেন। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষার শিকার হতে থাকেন। তাসত্ত্বেও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তারকা খেলোয়াড় হিসেবে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে থাকেন। ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যের ডার্বিশায়ার লীগে অ্যালফ্রিটন সিসি’র পক্ষে খেলতে শুরু করেন। ৩২ গড়ে ৫৮৪ রান এবং ১১ গড়ে ৬৫ উইকেট পান। ব্যক্তিগত সেরা করেন ৯/৮৬। এছাড়াও, হেম হিদ সিসি ও টডমর্ডেন সিসির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অসাধারণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে নর্থ স্টাফোরশায়ার ও সাউথ চেশায়ার লীগে বাগনল নর্টন সিসিতে যোগ দেন।

Similar Posts

  • | |

    আর্নি হেইস

    ৬ নভেম্বর, ১৮৭৬ তারিখে লন্ডনের পেকহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। স্লিপ অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। ঘরোয়া পর্যায়ের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। নিজের দিনগুলোয়…

  • | |

    লেস অ্যামিস

    ৩ ডিসেম্বর, ১৯০৫ তারিখে কেন্টের এলহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সন্দেহাতীতভাবে ও খুব সহজেই বিংশ শতাব্দীতে ক্রিকেটের সেরা উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছেন। খেলাকালীন তাঁর চেয়েও দক্ষ উইকেট-রক্ষক থাকলেও কেবলমাত্র ব্যাটিংয়ের কল্যাণে ১৯৩০-এর দশকে…

  • | |

    হেনরি উড

    ১৪ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ তারিখে কেন্টের ডার্টফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৭৬ থেকে ১৯০০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, সারে…

  • |

    অপূর্ব সেনগুপ্তা

    ৩ আগস্ট, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাধর্মী অল-রাউন্ডার ছিলেন। তাসত্ত্বেও, টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে অন্যতম বিভ্রান্তিকর খেলোয়াড়ে পরিণত হন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    ডগলাস কার

    ১৭ মার্চ, ১৮৭২ তারিখে কেন্টের ক্রানব্রুক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বার্নার্ড বোসানকুয়েতকে যদি ‘গুগলির রূপকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, তাহলে তাঁকে ‘বাস্তবায়ক’ হিসেবে পরিগণিত করা হবে। সাটন ভ্যালেন্সের পর অক্সফোর্ডের…

  • | | |

    ইয়ান চ্যাপেল

    ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৩ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার আনলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ফার্স্ট স্লিপ অঞ্চলে অবস্থান করে ফিল্ডিং করতেন। পাশাপাশি, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘চ্যাপেলি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ভীতিহীন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি…