২৬ এপ্রিল, ১৮৭৪ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিম্বার্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

মারকুটে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ১৯০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯০৩-০৪ মৌসুমের কারি কাপের সেমি-ফাইনালে ব্যক্তিগত একমাত্র শতরানের সন্ধান পান। দলের সংগ্রহ ১৭৪/৭ থাকাকালে মাঠে নেমে ১০৯ রান তুলে দলের সংগ্রহকে ৩৪৩ রানে নিয়ে যান। এ পর্যায়ে অ্যালান রিডের সাথে ১৬৫ রান যুক্ত করেছিলেন ও শেষ তিন ব্যাটসম্যান শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। প্রতিপক্ষীয় বর্ডার দল ৫৫ ও ৫২ রান তুললে তাঁর সংগৃহীত রানের চেয়ে দুই রান কম তুলে পরাজিত হয়।

১৯০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯০২-০৩ মৌসুমে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৮ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। যোহানেস কোৎজের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরফলে, পাঁচজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে একমাত্র টেস্টে অংশ নিয়ে দলের অধিনায়কত্ব করার গৌরব অর্জন করেন। বেশ ভালো খেলে ৩২ ও ১১ রান তুলেন। তবে, রহস্যজনকভাবে প্রথম ইনিংসে নয় নম্বর অবস্থানে মাঠে নামেন। ঐ খেলায় তাঁর দল বিরাট ব্যবধানে পরাজিত হয়। ১৫৯ রানে জয়লাভ করে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

দলের একমাত্র সদস্যরূপে পরের টেস্টে অংশগ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত হন ও তাঁর পরিবর্তে পার্সি টোয়েন্টিম্যান-জোন্সকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

তেরো বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে কেবলমাত্র ১৪টি খেলা প্রথম-শ্রেণীর মর্যাদা পেয়েছিল। ২৩.২২ গড়ে ৫১১ রান তুলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার অসাধারণ ক্রীড়াবিদের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি খেলোয়াড় হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছিলেন। অক্সফোর্ড, রভিগো, সেন্ট-ক্লড, বুলোন-বিলানকোট, ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সসহ দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে তিনটি রাগবি ইউনিয়ন টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। এরফলে, ছয়জন দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে টেস্ট ও রাগবি – উভয় ধরনের ক্রীড়ায় অংশ নিয়েছেন। ১৮৯৬ সালে কিম্বার্লীতে অনুষ্ঠিত রাগবি ইউনিয়ন টেস্টে গ্রেট ব্রিটেনের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ৯-৩ ব্যবধানের পরাজয়ে অংশ নিয়েছিলেন। তবে, নিউল্যান্ডসে ৫-০ ব্যবধানের জয়ে বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তীকালে রাগবি রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

১১ মার্চ, ১৯২৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের মেল্কামার এলাকায় ৫১ বছর ৩১৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। রাগবি ইউনিয়নের দলীয় সঙ্গী পার্সি টোয়েন্টিম্যান-জোন্স মন্তব্য করেন যে, তিনি ‘সাউথ আফ্রিকান থ্রী-কোয়ার্টার্সের রাজপুত্র’।

Similar Posts

  • |

    পিটার কার্লস্টেইন

    ২৮ অক্টোবর, ১৯৩৮ তারিখে ট্রান্সভালের ক্লার্কসডর্প এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকের আগে-পিছে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া, নাটাল, অরেঞ্জ…

  • |

    বব ক্রিস্প

    ২৮ মে, ১৯১১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ও ১৪ স্টোন (প্রায় ৯০ কেজি) ওজনধারী ছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৩৮ সময়কালে…

  • |

    জেসন ক্রেজা

    ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নিউটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘ক্রেজি’ ডাকনামে ভূষিত জেসন ক্রেজা ১.৮৪ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের…

  • | |

    রজার বিনি

    ১৯ জুলাই, ১৯৫৫ তারিখে কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ইঙ্গ-ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে গোয়া ও কর্ণাটকের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • |

    প্রকাশ ভাণ্ডারী

    ২৭ নভেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরে তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার একটি খেলায় দ্বি-শতকসহ নয় উইকেট দখল করেছিলেন। অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে ভাস্বর ছিল তাঁর জীবন। সর্বদাই…

  • |

    আবিদ আলী

    ১৬ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানে পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০৭ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে বালুচিস্তান, ফেডারেলি এডমিনিস্টার্ড ট্রাইবাল এরিয়াজ, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামাবাদ, নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স-বালুচিস্তান, পাকিস্তান স্টেট ব্যাংক,…