|

ভুবনেশ্বর কুমার

৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে উত্তরপ্রদেশের মীরাটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সাব-ইন্সপেক্টর পিতা কিরণ পাল সিং ও ইন্দ্রেস সিং দম্পতির সন্তান। জ্যেষ্ঠ ভগ্নী রেখা আধানা’র উদ্দীপনায় ক্রিকেট খেলতে অগ্রসর হন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল ও উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইন্ডিয়ান টোব্যাকো কোম্পানি, পুনে ওয়ারিয়র্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলেছেন। এক পর্যায়ে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরীভূত হন।

১৭ ডিসেম্বর, ২০০৭ তারিখে কলকাতায় বাংলা বনাম উত্তরপ্রদেশের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে শচীন তেন্ডুলকরকে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো শূন্য রানে বিদেয় করে ইতিহাসের পর্দায় ঠাঁই করে নেন। ঐ সময়ে ডানহাতি মিডিয়াম পেসার হিসেবে তিনি মাত্র একাদশ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর থেকে তরতর করে এগিয়ে চলতে থাকেন। ওডিআইয়ে ধারাবাহিকভাবে উইকেট পেতে থাকেন। উভয় দিক দিয়েই বলকে সুইং করানোয় সক্ষমতা দেখিয়েছেন ও ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

২০১২ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ভারতের পক্ষে তাঁর ন্যায় অন্য কোন বোলারের সূচনাপর্ব এতো সুন্দরভাবে শুরু হয়নি। ২০১২ ও ২০১৩ সালে ওডিআই ও টি২০আইয়ে প্রথম ওভারেই সফলতা পেয়েছেন। উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষ দল ছিল পাকিস্তান। ৩০ ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানে বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অঙ্গনে প্রবেশ করেন। কালক্ষেপণ না করে প্রথম বলেই উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৪/৮ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। সম্ভবতঃ তিনি টেস্টে সাত নম্বর অবস্থানে থেকেই অধিক সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারতেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে বোলার হিসেবে দলে যুক্ত হলেও ব্যাটসম্যান হিসেবেও দারুণ ভূমিকা রেখেছেন।

২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বল হাতে নিয়ে ৫২ রান খরচায় কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ব্যাট হাতে ৩৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, দলনায়ক এমএস ধোনি’র মনোরম দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিক দল ৮ উইকেটে জয় পায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

তবে, টেস্ট পর্যায়ে তেমন সুযোগ পাননি। তাসত্ত্বেও, ২০১৪ সালে নটিংহাম টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট পান। লর্ডসে অনুষ্ঠিত পরের টেস্টে আবারও পাঁচ-উইকেট নিয়ে লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে ঠাঁই করে নেন। পাঁচ খেলায় অংশ নিয়ে ১৯ উইকেট দখলসহ তিনটি অর্ধ-শতক সহযোগে ২৪৭ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, জুলাই, ২০১৪ সালে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। এ সফরে রান সংগ্রহের দিক দিয়ে বিরাট কোহলি ও চেতেশ্বর পুজারাকে পাশ কাটিয়ে উপরে অবস্থান করেন। তিনটি অর্ধ-শতক সহযোগে ২৬.২০ গড়ে রান পেয়েছেন।

এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজ নামের পার্শ্বে একটি শতরানের ইনিংস রেখেছেন। ২০১২-১৩ মৌসুমের দিলীপ ট্রফির সেমি-ফাইনালে আট নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে ১২৮ রান সংগ্রহ করেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এটিই তাঁর একমাত্র শতরানের ইনিংস হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশ হিমশিম খেতে থাকেন। তাসত্ত্বেও পরবর্তীতে একই দলের বিপক্ষে ছয়-উইকেট পেয়েছিলেন।

২০১৭-১৮ মৌসুমে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন ও ব্যক্তিগতভাবে সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ১১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যাট হাতে ৩০ ও ৩৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৪৪ ও ১/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ খেলায় তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড কৃতিত্বে সফরকারীরা ৬৩ রানে জয়লাভ করলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এক পর্যায়ে দল থেকে বাদ পড়েন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলতে থাকেন। ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলার পর পুনে দলে খেলেন। প্রথম বোলার হিসেবে ইন্ডিয়ান টি২০ লীগে উপর্যুপরী সর্বোচ্চ উইকেট লাভের অধিকারী হন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ২০১৭ সালে নুপুর নাগর নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

Similar Posts

  • | |

    ক্রিস প্রিঙ্গল

    ২৬ জানুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ও খোলা বক্ষে বোলিং কর্মে অগ্রসর হন। ডিসেম্বর, ১৯৮৭ সালে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্বমূলক খেলায় সকলের দৃষ্টি কাড়েন। অকল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২০ দলের…

  • |

    লেসলি গে

    ২৪ মার্চ, ১৮৭১ তারিখে সাসেক্সের ব্রাইটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার ও সমারসেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯১ থেকে ১৯০৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।…

  • | | |

    কপিল দেব

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে চণ্ডীগড়ে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং ও ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম জীবন্ত কিংবদন্তী। এককথায় অদ্যাবধি ভারতের সেরা ফাস্ট বোলিং অল-রাউন্ডার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন স্ব-মহিমায়। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের সেরা পেস বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ…

  • |

    হেনরি নিকোলস

    ১৫ নভেম্বর, ১৯৯১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান তিনি। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘টোই’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। দীর্ঘ সংস্করণের তুলনায় সাদা-বলের ক্রিকেটেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। পাশাপাশি বিবিএলেও বেশ কিছু স্মরণীয় ইনিংস খেলেছেন। ক্রাইস্টচার্চভিত্তিক সেন্ট অ্যান্ড্রুজ কলেজে পড়াশুনো করেছেন। তাঁর মাঝে…

  • | |

    পিটার ফুলটন

    ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দৃষ্টিনন্দন ও ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ফাস্ট বোলারের উপযোগী দৈহিক গড়ন নিয়ে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরূপে আবির্ভূত হন। দীর্ঘ উচ্চতার কারণে ‘টু মিটার…

  • |

    ফ্রাঙ্ক ওলি

    ২৭ মে, ১৮৮৭ তারিখে কেন্টের টনব্রিজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। প্রচলিত রয়েছে যে, খুবই স্বল্পসংখ্যক ব্যাটসম্যানদের অন্যতম হিসেবে নিজের স্বর্ণালী সময়ে পেস ও স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে উভয়ক্ষেত্রেই পায়ের সমান ব্যবহার করতেন। তড়িৎগতির…