|

বার্ট ভগলার

২৮ নভেম্বর, ১৮৭৬ তারিখে কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনের সোয়ার্টওয়াটার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯০৬ সালে ফেনার্সে মিডলসেক্সের সদস্যরূপে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে একটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এ সময়ে লর্ডসের মাঠকর্মী ছিলেন। কাউন্টি দলের পক্ষে খেলার স্বপ্ন নিয়ে অগ্রসর হন। কিন্তু, পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯০৩-০৪ মৌসুম থেকে ১৯০৯-১০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স, নাটাল ও ট্রান্সভাল এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ১৯০৩-০৪ মৌসুমে নাটাল, ১৯০৪-০৫ মৌসুম থেকে ১৯০৯-১০ মৌসুম পর্যন্ত ট্রান্সভাল ও ১৯০৫-০৬ মৌসুম থেকে ১৯০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর বাদ-বাকী খেলাগুলোয় অংশ নেন।

১৯০৬ থেকে ১৯১১ পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট পনেরো টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। ১৯০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে পেলহাম ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৯০৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অব্রে ফকনার, গর্ডন হোয়াইট, পার্সি শারওয়েল, রেজি সোয়ার্জ ও টিপ স্নুকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সারের আর্নি হেইসকে প্রথম বলে বোল্ড করে নিজস্ব প্রথম উইকেট পান। এরপর, সারের আরেক খেলোয়াড় ও অভিষেক ঘটা জ্যাক ক্রফোর্ডের প্রথম বলেই তাঁকে বিদেয় নিতে হয়েছিল। খেলায় তিনি ১/১০ ও ২/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১ উইকেটের নাটকীয় জয় পেয়ে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৩০ মার্চ, ১৯০৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টে ক্রিকেটের ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমে দল ৩৩৩ রানে গুটিয়ে গেলে তিনি অপরাজিত ৬২ রান তুলে শীর্ষ রান সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৬৩ ও ১/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১৬ রানে জয়ী হলে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯০৭ সালে ইংল্যান্ড ও ১৯১০-১১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। তন্মধ্যে, ১৯০৭ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১ জুলাই, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে আরই ফস্টারকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/২৪। এ পর্যায়ে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৭/১২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে হেনরি লেভসন-গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দ্বিতীয় ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৭/১২৮। এরফলে, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম বোলার হিসেবে দুইবার সাত-উইকেট ও প্রথম বোলার হিসেবে লর্ডসে সাত-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৫/৮৭ ও ৭/৯৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে ৭/৯৪ বোলিং বিশ্লেষণটি পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সেরা হিসেবে রয়ে যায়। এছাড়াও, ১০ ও ১৪ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ১৯ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৬২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৬৫ ও ২২  রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৯৮ ও ৪/১০৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তন্মধ্যে, ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ডি ড্যান্টনের তৃতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে পরাজয়বরণ করলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯১০-১১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেছিলেন। ৯ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ১১৪ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯১১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৩০ ও ৩/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৫৩০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ১৭.০০ গড়ে ৩৪০ রান সংগ্রহ করেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেন ৬৫ রান। এছাড়াও, ২২.৭৩ গড়ে ৬৪ উইকেট দখল করেন।

১৯০৬-০৭ মৌসুমে জোহানেসবার্গে ইস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং ১০/২৬ লাভ করেন। ১৯১১-১২ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় এল.জে. ট্যানক্রেড একাদশের সদস্যরূপে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন।

৯ আগস্ট, ১৯৪৬, নাটালের ফোর্ট ন্যাপিয়ার এলাকায় ৬৯ বছর ২৫৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    মুশফিকুর রহিম

    ৯ জুন, ১৯৮৭ তারিখে বগুড়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

  • |

    বিল ও’রিলি

    ২০ ডিসেম্বর, ১৯০৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের হোয়াইট ক্লিফসে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও সাংবাদিক ছিলেন। বিংশ শতাব্দীতে ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা লেগ-স্পিনারের মর্যাদা পেয়েছেন। স্পিন বোলিংয়ের তুলনায় ফাস্ট বোলিংয়ে নিজেকে অধিক সামলিয়ে নিতে পেরেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অস্ট্রেলীয় লেগ-স্পিনার হিসেবে বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে বিরাট প্রভাব ফেলেছিলেন। অর্থোডক্স লেগ-স্পিনার হিসেবে কিছুটা দূরত্ব নিয়ে…

  • |

    আর্নি জোন্স

    ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৮৬৯ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অবার্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাথরখোঁদাইকারক যোসেফ জোন্স ও মেরি দম্পতির পুত্র ছিলেন। স্থানীয় বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন পিতার সাথে চিত্রকর ও রাজমিস্ত্রী হিসেবে কুর্ন ও ব্রোকেন হিল এলাকায় সরকারী কাজে…

  • |

    আলফ্রেড বিন্স

    ২৪ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৬…

  • |

    সালমান আগা

    ২৩ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে বালুচিস্তান, লাহোর, লাহোর ব্লুজ ও সাউদার্ন পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, এডমন্টন রয়্যালস, লাহোর লায়ন্স,…

  • |

    মার্ক ভার্মুলেন

    ২ মার্চ, ১৯৭৯ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। হারারেভিত্তিক প্রিন্স এডওয়ার্ড হাইয়ে অধ্যয়ন করেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। কিন্তু, ২০ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ভিবি সিরিজে ভারতীয় বোলার ইরফান পাঠানের বল মাথায় আঘাত…