২৮ জানুয়ারি, ১৮৮০ তারিখে সারের মিচাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ছাত্র অবস্থায় মধ্যাহ্নভোজনকালীন মিচামে ক্রিকেট দেখতে যেতেন। এছাড়াও, অন্যান্য বালকের সাথে ক্রিকেট খেলতেন। মিস উইলসন তাঁকে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হবার জন্যে উদ্বুদ্ধ করেন। দ্রুততার সাথে পদ সঞ্চালন ঘটাতেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ব্যাট হাতে তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে না পারলেও পরবর্তীতে বেশ উত্তরণ ঘটে। উইকেট-রক্ষণে দূর্দান্ত ভূমিকার কারণে এবং খেলোয়াড়ী সুলভ আচরণের কারণে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন। ১৯০২ থেকে ১৯২৭ পর্যন্ত সিকি শতাব্দীকাল প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সারের তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছেন। অবসর গ্রহণকালীন সর্বাধিকসংখ্যক ডিসমিসাল ঘটিয়ে বিশ্বরেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়ান। ৫৫৪টি খেলা থেকে ১২২২টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ১৮৭টি স্ট্যাম্পিং ও ১০৩৫টি ক্যাচ ছিল।
১৯১০ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে ২৮ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯০৩-০৪ মৌসুমের শীতকালে ডিক লিলি’র সহকারী হিসেবে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। তবে, কোন টেস্টে তাঁকে খেলানো হয়নি। পরবর্তীতে, ওয়ারউইকশায়ারের উইকেট-রক্ষক ই. জে. স্মিথের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে।
১৯০৯-১০ মৌসুমে হেনরি লেভসন-গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হেনরি লেভসন-গাওয়ার, ক্লড বাকেনহাম, জিএইচটি সিম্পসন-হেওয়ার্ড ও মরিস বার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৭ ও ১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। সফরকারীরা ১৯ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯২৬ সালে নিজ দেশে হার্বি কলিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ আগস্ট, ১৯২৬ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪* ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণের সাথে নিজেকে জড়ান। ২৮৯ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
চারবার অস্ট্রেলিয়া ও দুইবার এমসিসি দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেন। এছাড়াও, নিয়মিতভাবে প্লেয়ার্সের সদস্যরূপে জেন্টলম্যানের বিপক্ষে খেলেন। সব মিলিয়ে ৬৭৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে বব টেলর ও জন মারে’র পর ক্রিকেটের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বাধিক ডিসমিসালের সাথে নিজেকে জড়ান।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচ ও পরবর্তীতে সারের স্কোরারের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, আম্পায়ার হিসেবে দুইটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছিলেন। মিচাম গ্রীনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখেন। মিচাম ক্লাবের সহঃসভাপতি ও আজীবন সদস্য ছিলেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে সাসেক্সের শোরহাম-বাই-সী এলাকায় আকস্মিকভাবে ৯০ বছর ১৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ওভালের লং রুমে তাঁর অঙ্কিত প্রতিকৃতি ঝোলানো রয়েছে।
