২৩ মার্চ, ১৯০৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার অবার্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
মেলবোর্নের স্কচ কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯২৭ সালে বিদ্যালয় দল থেকে সোজা হথর্ন ইস্ট মেলবোর্নের প্রথম একাদশে যোগ দেন। শুরুতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ধীরলয়ের বোলিং করতেন। তবে, উইকেট-রক্ষণের দিকে অগ্রসর হন। দুই বছরের মধ্যে ভিক্টোরিয়া দলে চলে যান।
১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৬১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মাইনর কাউন্টিজ, বাকিংহামশায়ার ও মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ভিক্টোরিয়ার পক্ষে খেলাকালীন চমৎকার উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়ান। ১৯২৯ সালে তাসমানিয়ার বিপক্ষে ১৩১ রান তুলেন। এ বছর জে. এল. এলিসের পরিবর্তে দলের নিয়মিত উইকেট-রক্ষক হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৩৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। ১৯৩৮ সালে ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। এর পূর্বে ১৯৩৪ সালে ইংল্যান্ড গমনের দেড় বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করলেও কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। কেবলমাত্র বার্ট ওল্ডফিল্ডের অবসর গ্রহণের পরই অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ উইকেট-রক্ষক হিসেবে যুক্ত হন। ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। কেবলমাত্র ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে খেলার পর বার্ট ওল্ডফিল্ড অবসর গ্রহণ করলে তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।
১০ জুন, ১৯৩৮ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। লিন্ডসে হ্যাসেটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২২ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০ আগস্ট, ১৯৩৮ তারিখে ওভালে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন। ঐ টেস্টে লেন হাটন ৩৬৪ রানের নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। এ পর্যায়ে স্বাগতিক দল চূড়ান্ত টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে বিজয়ী হয়। প্রথম দিন মধ্যাহ্নভোজনের পর ইংল্যান্ড দলের সংগ্রহ ৯১ থাকাকালে চাক ফ্লিটউড-স্মিথের বলে তিনি গ্লাভসবন্দী করতে পারেননি। ৩৯ রানে সমূহ বিদেয় থেকে রক্ষা পাবার পর লেন হাটন এ রেকর্ডের অধিকারী হন। এরফলে অস্ট্রেলিয়া দলকে বিরাট খেসারত গুণতে হয় ও সকল ধরনের ক্রিকেটে ৩২৪ রানের সেরা ব্যয়বহুল রানের ক্ষেত্র যুক্ত হয়। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৭৯ রানে জয়লাভ করলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ করতে সক্ষম হয়। এ সফরে তিনি স্বীয় দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারেননি। তবে, ধীরগতির বোলিংয়ে নিজেকে বেশ মানিয়ে নিয়েছিলেন। বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তাঁকে আর কোন টেস্ট খেলতে দেখা যায়নি। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসন জগতের দিকে ধাবিত হন। সৈনিক বন্ধুর সাথে স্বাক্ষাতের পর ২৯ জুন, ১৯৭৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নিউক্যাসল এলাকায় আকস্মিকভাবে ৭১ বছর ৯৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
