২০ জুলাই, ১৯১১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
৬ ফুট উচ্চতার দীর্ঘদেহের অধিকারী ছিলেন। লেগ-ব্রেক ও মিডিয়াম-পেস লেগ-কাটার সহযোগে বোলিং করতেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মুসলিম ও নর্দার্ন ইন্ডিয়ার পক্ষে খেলেছেন। প্রথম-শ্রেণীর অভিষেক খেলায় অন্যতম সেরা ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে অভিষেক ঘটা ঐ খেলায় নর্দার্ন ইন্ডিয়ার সদস্যরূপে সিন্ধুর বিপক্ষে ৭/৩৭ ও ৫/৫০ পান। এরফলে প্রতিপক্ষ দল ১১৪ ও ১৫৫ রানে গুটিয়ে যায়। পরের মাসে বোম্বে কোয়াড্রাঙ্গুলার প্রতিযোগিতায় পার্সিদের বিপক্ষে ৪/৩০ ও ৩/৫৫ পান। এরফলে, মুসলিম দল ইনিংস ব্যবধানে জয় পায়। এছাড়াও, নর্দার্ন ইন্ডিয়ার প্রধান বোলিং চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। সাউদার্ন পাঞ্জাবের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪/৪৬ পান ও দলকে ১১ রানে এগিয়ে নেন। এরপর দেব পুরি ও আমির ইলাহী’র সহযোগিতায় পাঁচ টেস্ট ক্রিকেটারের অংশগ্রহণে প্রতিপক্ষকে ২২ রানে গুটিয়ে দিয়ে রঞ্জী ট্রফিতে দলীয় সর্বনিম্ন রান সংগ্রহ করতে বাধ্য করেন ও ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত টিকে থাকে। ঐ ইনিংসে তিনি ৫/৭ পান। এছাড়াও, এ ইনিংসেই রঞ্জী ট্রফির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন।
১৯৩৬ সালে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফর করেন। এ সফরে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সিকে নায়ড়ু ও ভিজ্জি’র মধ্যকার দ্বন্দ্বের বিতর্কিত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সদ্ব্যবহার করে টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ১৫ আগস্ট, ১৯৩৬ তারিখে ওভাল টেস্ট শুরুর পূর্বে নাস্তার টেবিলে সিকে নায়ড়ুকে অপদস্ত করেন। এরফলে, ভিজ্জি অসন্তুষ্ট হয়ে শুঁটে ব্যানার্জীকে প্রথম একাদশ থেকে বাদ দেন ও তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করেন। ঐ টেস্টে তিনি কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। স্বাগতিক দল ৯ উইকেটে জয়লাভ করে ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়ী হয়।
বিতর্কিতভাবে টেস্ট খেললেও মানসম্পন্ন বোলার ছিলেন। অংশগ্রহণকৃত ৩১টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় ১৯.৯৩ গড়ে ৮৮ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, তিনবার পাঁচ-উইকেট ও একবার দশ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। এছাড়াও, ১৮.৫৬ গড়ে ৯২৮ রান পেয়েছেন। লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে একমাত্র শতক হাঁকান। ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের প্রাথমিক পর্বে খেলেছিলেন।
দূর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৩৬ সালে ব্যর্থতায় পর্যবসিত ইংল্যান্ড সফরের পর থেকে তাঁর স্বাস্থ্যের ব্যাপক অবনতি ঘটতে থাকে। তাঁর শ্যালক জাহাঙ্গীর খান ক্রিকেটে বেশ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ডেভিড ফ্রিদ লিখেছেন যে, তাঁর খেলার মান সম্পর্কে কোন সন্দেহের কারণ ছিল না। অপরদিকে চার্লি ম্যাকার্টনি মন্তব্য করেছেন যে, তিনি চ্যাম্পিয়ন। সমগ্র জীবনে এমনকি মৃত্যুর পরও বিতর্কিত হিসেবে পরিচিতি পান। ভারতে ক্রিকেট খেলা শুরু হলেও তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ও বারান্দা থেকে পড়ে যান। কিছু কারণ থাকলেও ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। জলন্ধরে অতিরিক্ত সহকারী কমিশনারের দায়িত্ব পালন করতেন। ১৯৪১ সালে মৃগীরোগে আক্রান্ত হন। নিজ গৃহের বারান্দা থেকে পড়ে যান। ৩০তম জন্মদিন উদযাপনের আঠারো দিন পূর্বে ২ জুলাই, ১৯৪১ তারিখে পাঞ্জাবের জলন্ধরে মাত্র ২৯ বছর ৩৪৭ দিন বয়সে তাঁর মৃত্যু ঘটে। এরফলে, অমর সিংয়ের পর দ্বিতীয় ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে মৃত্যুমুখে পতিত হন। ২৯ বছর বয়সে অমর সিংয়ের দেহাবসানের পর তিনি দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে মারা যান। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে তাঁর মৃত্যুর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে, বিস্ময়করভাবে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি মানসিক অবসাদজনিত কারণে আত্মহনন করেন।
