| |

বলবিন্দর সাঁধু

৩ আগস্ট, ১৯৫৬ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সুপরিচিত কবি হরনাম সিং নাজের সন্তান ছিলেন। কপিল দেবকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮০ সালে বোম্বের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। দুই বছর পরই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ পান।

১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ সময়কালে ভারতের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্ট ও ২২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ৩ ডিসেম্বর, ১৯৮২ তারিখে গুজরানওয়ালায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেন।

একই সফরের ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে সিন্ধুর হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্ট অভিষেকে প্রথম ইনিংসে ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। স্বাগতিকদের একমাত্র ইনিংসে হারুন রশীদকে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। শুরুতেই দুই উইকেট পেলেও মুদাসসর নজরজাভেদ মিয়াঁদাদের ৪৫১ রানের জুটি বেশ দাপট দেখায়। দলের সংগ্রহ ৭২/৭ থাকাকালীন মাঠে নামেন ও ৭১ রান তুলেন। নয় নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে অভিষেক টেস্টে এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহরূপে ছিল। পরবর্তীতে, ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার মিলন রত্নায়েকে ৭২ রান সংগ্রহ করলে তাঁর এ রেকর্ড ম্লান হয়ে পড়ে। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ১১৯ রানে জয় পেয়ে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

কয়েক মাস পর কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে গমন করেন। প্রবল শক্তিধর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আরও একটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। এবার তিনি ৬৮ রান তুলেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। চারজন পেসারের বল মোকাবেলার পূর্বে দলীয় সংগ্রহ ছিল ১২৭/৭। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, অ্যান্ডি রবার্টসের দূর্দান্ত বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিক দল ৪ উইকেটে জয় তুলে নেয়।

এর পরপরই বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান গর্ডন গ্রীনিজের বিপক্ষে অবমুক্ত করা বলই তাঁর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বাধিক সাফল্য ছিল। গর্ডন গ্রীনিজ ব্যাটকে সঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন ও বোল্ড হলে দলের স্বল্প সংগ্রহের পুঁজি নিয়েও ভারতকে খেলায় টিকে রাখতে বিরাট ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, ফোয়াদ বাক্কাসের উইকেট পেয়েছিলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় ৩৭ গড়ে ও ওভার প্রতি ৩.৫৭ গড়ে রান খরচ করে ৮ উইকেট দখল করেন।

মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। কিন্তু, ব্যাট হাতে বেশ সফল ছিলেন। সব মিলিয়ে ওডিআইগুলো থেকে ৪৮ গড়ে ১৬ উইকেট লাভ করেছিলেন। প্রতি ওভারে ৪.১২ রান খরচ করেন। টেস্টে এ সংখ্যাটি আরও কম ছিল। ৫৮ গড়ে ১০ উইকেট দখল করেছিলেন। তবে, ব্যাট হাতে নিয়ে দারুণ ভূমিকার স্বাক্ষর রাখেন। ৩১ গড়ে ২১৪ রান তুলেছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে তৎকালীন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের চেয়েও নিজেকে এগিয়ে রেখেছিলেন। তাসত্ত্বেও, তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন মাত্র দুই বছর চলমান ছিল। ৩১ অক্টোবর, ১৯৮৪ তারিখে শিয়ালকোটে অনুষ্ঠিত ভারতের পক্ষে সর্বশেষ ওডিআই খেলেন।

১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ নভেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৭* ও ১ রান সংগ্রহের পাশাপাশি খেলায় ৭৮ রান খরচায় এক উইকেট পান। তবে, মাইকেল হোল্ডিংয়ের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলায় তাঁর দল ১৩৮ রানে পরাজিত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার পর হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ৩/২৭ পান। এরপর থেকেই তাঁর খেলার মান পড়তির দিকে যেতে থাকে। এ পর্যায়ে তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে ২৫ গড়ে ১৫ উইকেট পান ও একটি অর্ধ-শতক হাঁকান। পরের মৌসুমে তাঁকে বোম্বে দল থেকে বাদ দেয়া হয়। অন্য কোন দলে খেলার আগ্রহ না থাকায় অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

অবসর গ্রহণের পর রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী মুম্বই ও পাঞ্জাব দলে কোচের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও, ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে যুক্ত ছিলেন। একটি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনা করেছেন।

Similar Posts

  • | | |

    ওয়েন জেমস

    ২৭ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাতাবেলেল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৮ ঊর্ধ্ব গড়ে রান…

  • | | |

    উইলিস কাটেল

    ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৮৬৩ তারিখে ইয়র্কশায়ারের শেফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে স্লো বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ইয়র্কশায়ারের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশগ্রহণকারী উইলিয়াম কাটেলের সন্তান ছিলেন। আঁটোসাঁটো নিখুঁতমানের বোলিংয়ের পাশাপাশি উভয় দিক দিয়েই বলকে বাঁক…

  • |

    চার্লি ম্যাকলিওড

    ২৪ অক্টোবর, ১৮৬৯ তারিখে ভিক্টোরিয়ার স্যান্ডব্রিজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ব্যাটিংয়ে অসম্ভব ধৈর্য্যশীলতার পরিচয় দিতে ও নিখুঁতমানের বোলার হিসেবে সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। তবে, শ্রবণেন্দ্রিয়ের সমস্যার কারণে ফিল্ডিং ও উইকেটের প্রান্ত বদলে বিরূপ প্রভাব ফেলতেন। ১৮৯৩-৯৪ মৌসুম…

  • | |

    ভার্নন ফিল্যান্ডার

    ২৪ জুন, ১৯৮৫ তারিখে বেলভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘প্রো’ কিংবা ‘দ্য সার্জন’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। দ্রুততম বোলার না হলেও উপযোগী পরিবেশে সর্বাপেক্ষা বিপজ্জ্বনক বোলারে পরিণত হতেন। বলে নিখুঁতভাব…

  • |

    রবি রত্নায়েকে

    ২ মে, ১৯৬০ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯৮৯-৯০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ব্যাট ও বল…

  • | | |

    ডেভিড বুন

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে তাসমানিয়ার লঞ্চেস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, রেফারি ও প্রশাসক। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। হাল ছেড়ে না দেয়ার মানসিকতাসম্পন্ন। সকল ধরনের শট খেলতে পটু ছিলেন। তাঁর বিপক্ষে বোলিং করা বেশ দুষ্কর ছিল। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম…