২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫ তারিখে পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে এগিয়ে আসতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
মানসিক দৃঢ়তায় উজ্জ্বীবিত অবস্থায় অল-রাউন্ডার ও যুদ্ধংদেহী মনোভাবের অধিকারী ব্যাটসম্যান ছিলেন। তিনটি শতকের সবকটিই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করার মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। একদিনের ক্রিকেটে মাঝারিসারিতে নিচেরদিকে নামতেন। লেগ-সাইড ও শর্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে বেশ ভালো খেলতেন। তবে, রক্ষণাত্মক ভঙ্গীমায় বলকে আলতো ঠেলে দিতেন ও লেগ-স্পিনের বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরতে পারতেন না। দলে তিনিই একমাত্র ইংরেজদের ন্যায় রিভার্স-সুইঙ্গার সিমার ছিলেন। লক্ষ্য ও নিশানা বরাবর বোলিং করতেন। কাছাকাছি এলাকায় ফিল্ডিং করতেন। খুব কমই তিনি ক্যাচ হাতছাড়া করতেন।
কিশোর বয়সে সাবেক পাকিস্তানী ক্রিকেটার ইরফান ভাট্টি’র কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০১২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ইসলামাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স, রাওয়ালপিন্ডি ও ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড, নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস, বরিশাল বার্নার্স, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, কলকাতা নাইট রাইডার্স, লাহোর বাদশাহ ও মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে ইসলামাবাদের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। একই মৌসুমে লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। সুন্দর ফলাফলের কারণে জাতীয় দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন।
১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট ও ১৪৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। বোলার হিসেবে পাকিস্তান দলে যুক্ত হবার পর থেকে ব্যাট হাতে নিয়েও চমৎকার ভূমিকা পালন করতে থাকেন। প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভুত হলেও নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই পর্দার অন্তরালে চলে যান। চমৎকার পেস সহযোগে ডানহাতে বলকে সুইং করাতে পারতেন। এছাড়াও, কার্যকর মাঝারিসারির ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তবে, নিজেকে কখনো পাকিস্তান দলের নিয়মিত সদস্য হিসেবে অবস্থান করতে পারেননি।
১৯৯৬ সাল থেকে দলে আসা-যাবার পালায় অবস্থান করতেন। ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে টরন্টোয় ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনে প্রবেশ করেন। খেলায় তিনি কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৮ উইকেটে পরাজিত হয়।
টেস্ট ক্রিকেটের সাথে তুলনান্তে ওডিআই খেলোয়াড়ী জীবন অধিক দীর্ঘস্থায়ী ও ফলপ্রসূ ছিল। দলের নিয়মিত সদস্য থেকে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলকে চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে গিয়েছিলেন। এছাড়াও, ২০০৩ ও ২০০৭ সালের প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। তবে, তেমন কোন সফলতা পাননি। তবে, ১৯৯৯ সালে শারজায় অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে উপর্যুপরী দুইবার পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছিলেন।
টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা দূর্দান্তভাবে ঘটিয়েছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ অক্টোবর, ১৯৯৭ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। আলী নাকভী ও মোহাম্মদ রমজানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক টেস্টেই শতক হাঁকিয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ রুখে দিয়ে ১২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ রান সংগ্রহসহ খেলায় ২ উইকেট দখল করেন। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এক বছরের মধ্যেই আরও দুইটি শতরান করেন। কিন্তু, অর্ধ-শতকের চেয়ে অধিক শতক নিয়েই খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটান।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে রশীদ লতিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ৬ মার্চ, ১৯৯৮ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৭ ও ৪১ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৭ ও ৩/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মার্ক বাউচারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৫৯ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। এ সিরিজে ৩২৭ রান সংগ্রহসহ ৪ উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
২০০১ সালে ওয়াকার ইউনুসের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৩১ মে, ২০০১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৩৭ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, ইনজামাম-উল-হকের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১০৮ রানে জয় পেলে সিরিজটি ড্র করতে সমর্থ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজের পূর্বেই দল থেকে বাদ পড়েন। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায়ও তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়নি। তবে, আব্দুল রাজ্জাকের হাঁটুর আঘাতের কারণে তাঁকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু, পাকিস্তানের পক্ষে কোন খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি। প্রথম পর্ব শেষেই দলকে বিদেয় নিতে হয়।
২০০২ সালে সারে দলে এক মাস অবস্থান করেন। বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ৮/৬১ পান। পরবর্তীতে পাকিস্তান দলে খেলার বিষয়ে আস্থা হারিয়ে এ দলটির পক্ষে দুই মৌসুম খেলেন। ২০০৫ সালে আবারও সারে দলের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত এ ক্লাবে খেলেন। টি২০ ক্রিকেটের সূচনার পর নিজেকে এ খেলার সাথে বেশ মানিয়ে নিয়েছেন। বিশ্বের প্রায় সকল লীগেই অংশ নিয়েছেন। অন্যান্যদের ন্যায় তিনিও অনুমোদনবিহীন আইসিএলে যোগ দেন। তবে, এ প্রতিযোগিতা থেকে চলে এসে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলতে থাকেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এক ব্রিটিশ রমণীকে বিয়ে করে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদন করেন ও ২০১১ সালে নাগরিকত্ব লাভ করেন। ২০০৭ সালের শেষদিকে কেন্টে চলে যান। কেন্টের পক্ষে ২০১১ সাল পর্যন্ত দুই বছর চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করেন।
টি২০ ক্রিকেটে মারমুখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হবার কারণে অকল্যান্ড দলে খেলার সুযোগ পান। ২০১১-১২ মৌসুমের এইচআরভি কাপে বিদেশী পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে দলটিতে খেলেন। ২০১২ সালে আইপিএলে কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০১৫ সালে জেমস নিশামের পরিবর্তে কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষে খেলেছিলেন। এছাড়াও, ২০১৩ সালে বিগ ব্যাশ লীগে সিডনি থান্ডারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
