|

আজিম হাফিজ

২৯ জুলাই, ১৯৬৩ তারিখে পাঞ্জাবের ঝিলাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে অ্যালাইড ব্যাংক, করাচী, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স ও পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

দীর্ঘকায় গড়নের সবল বামহাতি ফাস্ট বোলার ছিলেন। স্বল্প কয়েকটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অভিজ্ঞতাপুষ্ট অবস্থাতেই টেস্ট ক্রিকেট অঙ্গনে আবির্ভাব ঘটে তাঁর। পায়ের আঘাতের কারণে ইমরান খানের অনুপস্থিতির কারণে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ডানহাতে দুই আঙ্গুল কম নিয়ে ভূমিষ্ঠ হন। আঙ্গুলের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও টেস্ট অঙ্গনে বেশ সফলতা পেয়েছিলেন।

১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্ট ও ১৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে জহির আব্বাসের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে হায়দ্রাবাদের ডেকানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেন। অল্প কয়েকদিন পর একই সফরের ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/১০২ ও ০/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে শূন্য রানে কপিল দেবের বলে বোল্ড হন। তবে, বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটিতে মদন লালের অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে ড্রয়ের দিকে গড়ায়। প্রথম টেস্ট খেলার পর তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১১ উইকেট দখল করেছিলেন।

ফলশ্রুতিতে তিনি অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। সেখানে তিনি অবিরাম বোলিং করে গেছেন। ঐ সফরে ১৯ উইকেট পান তিনি। তন্মধ্যে অ্যাডিলেড ও পার্থ টেস্টে পাঁচ-উইকেট পান। পার্থে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ৫/১০০ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান।

নিজ দেশে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে লাহোরের নিষ্প্রাণ পিচে ৬/৪৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এটিই পরবর্তীতে তাঁর সেরা বোলিং হিসেবে চিত্রিত হয়ে যায়। এরপর, কিউইদের বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে ছয় টেস্টে অংশ নিয়ে ২২ উইকেট পান।

১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১০ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে জেজি ব্রেসওয়েলের তৃতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৪/১৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে স্টিফেন বুকের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। সেলিম মালিকের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

একই মৌসুমে জাভেদ মিয়াঁদাদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে ফিরতি সফরে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। তবে, ওয়াসিম আকরামের অসাধারণ বোলিংশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও স্বাগতিকরা ২ উইকেটের নাটকীয় জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। বামহাতি উদীয়মান পেসার ওয়াসিম আকরামের কাছে স্থানচ্যূতি ঘটে তার। সবমিলিয়ে টেস্টগুলো থেকে ৬৩ উইকেট পেয়েছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট