| |

অস্টিন ম্যাথুজ

৩ মে, ১৯০৪ তারিখে ওয়েলসের পেনার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

প্রায় অনবদ্য খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ল্যামপিটারভিত্তিক সেন্ট ডেভিডস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। দারুণ ক্রীড়াবিদ হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি ফরোয়ার্ড হিসেবে নর্দাম্পটন আরএফইউ, ইস্ট মিডল্যান্ডস ও পরবর্তীতে পেনার্থের পক্ষে খেলেন। ফাইনাল ওয়েলস ট্রায়াল ক্যাপে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। এছাড়াও, ওয়েলসের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টেবিল টেনিসে অংশ নেন। তবে, ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন অদ্ভূতভাবে পাড় করেছেন।

১৯২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ওয়েলস কাউন্টির পক্ষে খেলেন। কিছু দূর্দান্ত ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শনের কারণে কার্ডিফ ক্লাবে তরুণ এই অল-রাউন্ডারকে যুক্ত করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়। ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন ও নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

দশ বছর ইস্ট মিডল্যান্ড কাউন্টির পক্ষে বোলিং উদ্বোধন করেন। পূর্ববর্তী গ্রীষ্মে নর্দাম্পটনশায়ার ত্যাগ করার পর ৩৩ বছর বয়সী সিম বোলারের স্মরণীয় উত্থান ঘটে। ঐ সময়ে তাঁর ধারনা ছিল যে, কাউন্টি খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করেছেন। এরফলে, স্টো স্কুল ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোচের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। জুলাই, ১৯৩৭ সালে পরিবারকে নিয়ে পেনারিথে ফিরে আসেন।

গ্ল্যামারগনের অধিনায়ক মরিস টার্নবুলের সাথে তাঁর সু-সম্পর্ক ছিল। তাঁকে সাউথ ওয়েলসে ফিরিয়ে আনেন ও স্বীয় প্রভাব বিস্তার করে গ্ল্যামারগনে যুক্ত করেন। দীর্ঘদিনের উদ্বোধনী বোলার জ্যাক মার্শারের আঘাতপ্রাপ্তি ও অন্যান্য সিমারের ছন্দপতন কিংবা আঘাতের কবলে পড়ায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি ঘটে। জুলাইয়ের শেষদিকে সোয়ানশীতে সফররত নিউজিল্যান্ডীয় একাদশের বিপক্ষে তিনি প্রথম খেলেন। কিউই ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন ও ক্ষীপ্র গতিসম্পন্ন আউট সুইঙ্গার করতেন। পরের খেলায় হ্যাস্টিংসে সাসেক্সের বিপক্ষে ব্যাটিং উপযোগী পিচে ১৩২ রান খরচায় ১৪ উইকেট দখল করেন। এরফলে, ইংরেজ দল নির্বাচকমণ্ডলী ওভালে সিরিজের তৃতীয় টেস্টের জন্যে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে।

১৯৩৭ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ লাভ করেছিলেন। গ্ল্যামারগনে অভিষেকের এক পক্ষকাল পরই ঐ বছর নিজ দেশে কার্লি পেজের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৪ আগস্ট, ১৯৩৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। সিরিল ওয়াশব্রুক ও ডেনিস কম্পটনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। তন্মধ্যে, উভয় ইনিংসেই ওয়াল্টার হ্যাডলিকে বিদেয় করেছিলেন। ১/৫২ ও ১/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ মুঠোয় পুড়েছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত গ্ল্যামারগনের পক্ষে খেলা চলমান রাখেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন।

২৯ জুলাই, ১৯৭৭ তারিখে ওয়ালসের পেনরিন বে এলাকার হাসপাতালে ৭৩ বছর ৮৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    কেন বিলজোয়েন

    ১৪ মে, ১৯১০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের উইন্ডসরটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ব্যাটিংয়ে নেমে পূর্ণাঙ্গ সাহস ও দৃঢ় প্রত্যয়ী মনোভাবের অধিকারী ছিলেন। অন-সাইডে বলকে ঠেলে দিতে ও কাট করতে ভালোবাসতেন। বেশ…

  • |

    কঙ্কি কনিংহাম

    ১০ মে, ১৮৯৭ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল, ট্রান্সভাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২১-২২ মৌসুম থেকে ১৯৩০-৩১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    রেগ পার্কস

    ৪ অক্টোবর, ১৯১১ তারিখে হিয়ারফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকই তাঁকে সর্বাপেক্ষা উপেক্ষিত বোলার হিসেবে চিত্রিত করেছেন। অথচ, ১৯৩০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত ওরচেস্টারশায়ারের প্রধান বোলিং চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। ক্রিকেটপ্রেমী…

  • |

    মার্ক গ্রেটব্যাচ

    ১১ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ও উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বেশ দেরীতে খেলার জগতে অংশ নেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব…

  • | |

    জনি ডগলাস

    ৩ সেপ্টেম্বর, ১৮৮২ তারিখে লন্ডনের ক্ল্যাপটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও মুষ্টিযোদ্ধা ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ১৯০৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকের মিডলওয়েট বক্সিং বিভাগে স্বর্ণপদক লাভ করেন। অনেকের কাছে উজ্জ্বীবিত প্রাণের অধিকারী না হলেও তাঁর অসম্ভব সাহসী ভূমিকাকে অস্বীকার করা যাবে না।…

  • |

    পিটার ফন ডার বিল

    ২১ অক্টোবর, ১৯০৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেনিলওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের শুরুরদিকের অন্যতম তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। বেশ দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। রন্ডেবশের ডিওসিসান কলেজ থেকে রোডস বৃত্তি লাভ করে অক্সফোর্ডের ব্রাসনোস কলেজে চলে…