| | |

অংশুমান গায়কোয়াড়

২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৫২ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে স্ট্রোকপ্লে ও দৃষ্টিনন্দনের মধ্যেই তিনি সীমাবদ্ধ ছিলেন। দূরন্তগতিপণার পেস আক্রমণের বিপক্ষে দারুণ খেলতেন। তিনি যে সর্বদাই রান সংগ্রহ পেতেন তা নয়। তবে, মাথায় বল লাগলেও তিনি লড়াই চালিয়ে যাবার স্পৃহা পেতেন।

ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারে তাঁর জন্ম। ১৯৬৯-৭০ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বরোদার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২২ মৌসুম বরোদার পক্ষে খেলেছেন।

১৯৭৫ থেকে ১৯৮৭ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ৪০ টেস্ট ও ১৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে নেন। কর্ষন গাভ্রী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩৬ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৮৫ রানে জয় পেলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর, ৭ জুন, ১৯৭৫ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোর ২২টিই ছিল ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকের শক্তিধর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে ম্যালকম মার্শালের ন্যায় বোলারের বিপক্ষে ৬ টেস্টে অংশ নিয়ে ১৬ গড়ে ১৭৪ রান তুলেছিলেন। সচরাচর এর পূর্বে দলটির বিপক্ষে ভালো খেলেছেন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে মাইকেল হোল্ডিং ও ওয়েন ড্যানিয়েলের বডিলাইনের কাছাকাছি পর্যায়ের বল দৃঢ়তার সাথে সাহসীচিত্তে মোকাবেলা করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। তন্মধ্যে, মাইকেল হোল্ডিংয়ের বলে কানে আঘাত পান ও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে। পরবর্তীতে মাঠে ফিরে সাহসী ভূমিকায় ৮১ রান তুলেন।

১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে নিজ দেশে গ্লেন টার্নারের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৮ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৪৩ ও ৭৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায়।

সব মিলিয়ে টেস্টে দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। প্রথমটি ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে দ্বিতীয়সারির ক্যারিবীয় দলের বিপক্ষে ভারতের ৬৪৪ রানের সর্বোচ্চ সংগ্রহকালীন করেন। দ্বিতীয়টি ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে জহির আব্বাসের নেতৃত্বে পাকিস্তানী দলের বিপক্ষে করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে জলন্ধরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। সাধারণমানের পাকিস্তানী বোলিং আক্রমণ প্রতিহত করে ৬৭১ মিনিট ক্রিজ আঁকড়ে দ্বি-শতক হাঁকান। দ্বি-শতক হাঁকানোকালে ৬৫২ মিনিট সময় ক্রিজে অবস্থান করেন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি তৎকালীন মন্থরতম ইনিংসরূপে বিবেচিত হয়েছিল ও বর্তমানে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের ইনিংসের কারণেই ক্রিকেট দর্শকেরা টেস্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে ওডিআইয়ের দিকে ধাবিত হতে থাকে। তবে, তাঁর অসম্ভব ধৈর্য্যশক্তির বিষয়টি বেশ প্রশংসনীয় ছিল। তবে, ওয়াসিম রাজা’র অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।

এ দ্বি-শতরানের ইনিংস খেলার পর থেকে বাদ-বাকী খেলোয়াড়ী জীবনে তাঁকে রান খরায় ভুগতে হয়েছিল। পরবর্তী ১২ টেস্টে অংশ নিয়ে ইনিংস প্রতি ১৯ রান তুলেছিলেন তিনি। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে ডেভিড গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তী, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ঐ একই টেস্টে অপর বিখ্যাত ক্রিকেটার মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়েছিল।

অনেকটা বিস্ময়করভাবে ইন্ডিয়ান ভেটেরান্সের সদস্যরূপে পাকিস্তানী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে জাতীয় দলে পুণরায় তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দুইটি ওডিআইয়ে অংশ নেন। তবে, ক্ষুদ্রতর সংস্করণের খেলায় তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননি। প্যাট্রিক প্যাটারসন ও উইনস্টন বেঞ্জামিনের দূর্দান্ত গতির বলে ব্যর্থ হন। ০ ও ১২ রান তুলেছিলেন। এভাবেই তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে।

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর জাতীয় দল নির্বাচক হিসেবে মনোনীত হন। অক্টোবর, ১৯৯৭ থেকে সেপ্টেম্বর, ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদকাল দুই বছরের কম ছিল। মদন লাল তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ও ভারত দল এ পর্যায়ে কঠিন সময় অতিক্রম করে। এরপর, কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ভারত দলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। কোচ হিসেবে তিনি কিছুটা মিশ্র সফলতা পান। ওডিআই দলে বেশ সাড়া জাগান। তবে, ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে শোচনীয় ফলাফলের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলের ব্যর্থতায় তাঁকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ২০০০ সালে কপিল দেব ভারতের কোচ থেকে পদত্যাগ করলে পুণরায় তিনি এ দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। এবারও তাঁর অংশগ্রহণ সংক্ষিপ্ত ছিল। আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের কোচ হন ও জন রাইট তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। এসএ গায়কোয়াড় নামীয় সন্তানের জনক। ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে গুজরাতের বরোদরায় ৭১ বছর ৩১২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    ডেভিড ওয়ার্নার

    ২৭ অক্টোবর, ১৯৮৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্যাডিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে লেগ-ব্রেক কিংবা ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। অসাধারণ ফিল্ডিং করে থাকেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিধ্বংসী ও ক্ষীপ্রতা সহকারে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হয়ে থাকেন। হাওয়ার্ড ওয়ার্নার…

  • |

    ফ্রেড মার্টিন

    ১২ অক্টোবর, ১৮৬১ তারিখে কেন্টের ডার্টফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘নাটি’ ডাকনামে পরিচিত ফ্রেডরিক মার্টিনকে ‘নাটি মার্টিন’রূপে পরিচিতি ঘটানো হয়েছে। ১৮৮৫ থেকে ১৯০০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি…

  • | | |

    মুশতাক মোহাম্মদ

    ২২ নভেম্বর, ১৯৪৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাটের জুনাগড় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাকিস্তানের সেরা অধিনায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।…

  • |

    জিয়া-উর-রেহমান

    ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে খোস্তে জন্মগ্রহণকারী আফগান ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অ্যামো রিজিওন, মিস আইনাক নাইটস, বুস্ট ডিফেন্ডার্স, কাবুল ঈগলস, মাইওয়ান্দ ডিফেন্ডার্স, হিন্দুকুশ স্ট্রাইকার্স, পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স,…

  • |

    গ্যারি ক্রোকার

    ১৬ মে, ১৯৬২ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। হ্যামিল্টন হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। প্রকৃত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডার হিসেবে তাঁর মাঝে সম্ভাবনা ছিল। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটের উপযোগী হলেও মোটেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপযোগী ছিলেন না। বামহাতে পেস বোলিং…

  • | |

    শিখর ধবন

    ৫ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।…