৫ জানুয়ারি, ১৯২০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
দর্শনীয় স্ট্রোক খেলার অধিকারী ছিলেন। বিদ্যুৎ গতিবেগে ফিল্ডিং করার কারণেও সবিশেষ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে লেগ-ব্রেক ও গুগলির সমন্বয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে মুসলিম, নর্দার্ন ইন্ডিয়া ও রেলওয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। একটি অনানুষ্ঠানিক টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে টেস্ট মর্যাদা লাভের পূর্বে পাকিস্তানের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে লাহোরের বাগ-ই-জিন্নায় সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান একাদশের মুখোমুখি হন।
১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর ইংল্যান্ড গমনার্থে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দলের সদস্য হন। ঐ সফরে ২৮.০৬ গড়ে ৪২১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তাসত্ত্বেও, ১ জুলাই, ১৯৫৪ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। এব্বু গাজালী ও খালিদ হাসানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত একমাত্র টেস্টে ১৬ ও ১৮ রান তুলতে বেশ হিমশিম খান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১২৯ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর, আর তাঁকে পাকিস্তানের পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিত্বের দিকে ঝুঁকে পড়েন। পাকিস্তানের প্রথম অনানুষ্ঠানিক টেস্টের অধিনায়ক মিয়া মোহাম্মদ সাঈদের সাথে ১৯৭৩ ও ১৯৭৭ সালে পাকিস্তান-ইংল্যান্ডের মধ্যকার তিন টেস্ট পরিচালনা করেছিলেন। লাহোরভিত্তিক এইচসন কলেজে জ্যেষ্ঠ কোচের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও, ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে জাতীয় প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা করেছেন। ২২ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে ৯১ বছর ১৭ দিন বয়সে লাহোরে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যু পূর্বকালীন তিনি পাকিস্তানের বয়োজ্যেষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মাননার অধিকারী ছিলেন।
