৩১ জুলাই, ১৯৯৭ তারিখে কাতুনেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
কাটুনেরিয়াভিত্তিক সেন্ট সেবাস্টিয়ান্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। দৃশ্যতঃ বিভ্রান্তিকর বোলিংশৈলীর অধিকারী। ছন্দোবদ্ধ দৌড়ে বলকে ব্যাটসম্যানের কাছে নিয়ে যান। প্রত্যাশার তুলনায় কিঞ্চিৎ দ্রুতগতির বোলিংয়ের কারণে দলের অন্যতম বোলিং শক্তিতে পরিণত করেছেন। ২০১৬ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে চিল’ ম্যারিয়ান্স ক্রিকেট ক্লাব ও ডাম্বুলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, গালে গ্যাডিয়েটর্সের পক্ষে খেলেছেন। ৩ জুলাই, ২৯১৬ তারিখে লিচেস্টারে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ‘এ’ বনাম শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০১৬ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কার সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহক ছিলেন। ৬ খেলায় ১৬.৪৫ গড়ে ১১ উইকেট নিয়ে দলকে সেমি-ফাইনালে নিয়ে যান। এরপর চূড়ান্ত খেলার চার উইকেট পেলেও ভারতের বিপক্ষে দলের পরাজয় রুখতে পারেননি। খুব দ্রুত জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ২০১৬ সালে অজিদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে দলের সদস্য হন। কিন্তু, কোন খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি।
২০১৭ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট ও টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ৮ জুলাই, ২০১৭ তারিখে হাম্বানতোতায় অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। কিন্তু, দূর্ভাগ্যজনকভাবে খেলাটি বৃষ্টির কবলে পড়ে। ঐ খেলায় তিনি দুই ওভারে ২২ রান খরচ করে ফেলেন ও ডি/এল পদ্ধতিতে শ্রীলঙ্কা দল পরাজয়ের কবলে পড়ে। এরপর, নিদাহাস ট্রফিকে ঘিরে টি২০আই দলে খেলার জন্যে পুণরায় দলের সদস্য হন। কিন্তু, আবারও মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়েছিল।
খেলার বাইরে থেকে তিনি সংবাদ শিরোনামে পরিণত হয়েছেন। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরকালে অনুশীলনীকালে জ্যামাইকার পক্ষে থেকে জুতো জোড়া উপহার পান। ২০২০-২১ মৌসুমে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৩ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। মিনোদ ভানুকা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। ২/৬১ ও ০/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ডিন এলগারের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।
২০২২ সালে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ২৩ মে, ২০২২ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ৪/৯৩ ও ৬/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে ২ রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০২৩-২৪ মৌসুমে ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ গমন করেন। দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের দ্বিতীয়টিতে অংশ নেন। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ৩০ মার্চ, ২০২৪ তারিখের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪/৩৪ লাভ করেন। অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। তাসত্ত্বেও, সফরকারীরা ঐ টেস্টে ১৯২ রানে জয়সহ সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয় করে।
২০২৪ সালে ধনঞ্জয় ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৯ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ৫/১০২ ও ৩/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১* ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, গাস অ্যাটকিনসনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৯০ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০২৪ সালে নিজ দেশে টিম সাউদি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ০/২৫ ও ১/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রভাত জয়সুরিয়া’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬৩ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২৫ সালে নিজ দেশে নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৫১ ও ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে তাইজুল ইসলামের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পথুম নিসাঙ্কা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৭৮ রানে পরাভূত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
