|

অসীম কামাল

৩১ মে, ১৯৭৬ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে বিচক্ষণতা প্রদর্শনের তুলনায় একগুঁয়েমীপূর্ণ মনোভাবেই নিজেকে অধিক পরিচিতি ঘটিয়েছেন। মাঝারিসারিতে ভিত এনে দিতেন ও তাঁকে ঘিরে দলের সংগ্রহ গড়ে উঠতো। অনাড়ম্বর অবস্থানে থেকে কভার ড্রাইভের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, এক কিংবা দুই রান সংগ্রহসহ ধৈর্য্যশীল ব্যাটিংয়ের প্রতিচিত্র ছিলেন। ক্রিজের এক প্রান্তে অবস্থান করে অপর প্রান্তের ব্যাটসম্যানদের খেলার সুযোগ দিতেন।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১৫-১৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান কাস্টমস ও পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২১ বছর বয়সে ১৯৯৭ সালে করাচীর সদস্যরূপে খেলতে শুরু করেন। কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে নিজস্ব প্রথম খেলায় ৮১ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস উপহার দেন। পাঁচ মৌসুম ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পর অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান।

২০০৩ থেকে ২০০৫ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। তুলনামূলকভাবে বেশ বয়স নিয়ে ২৭ বছর বয়সে টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ১৭ অক্টোবর, ২০০৩ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম খেলাতেই দূর্দান্তভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। মাত্র এক রানের জন্যে শতক হাঁকানো থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। তবে, দানিশ কানেরিয়া ও তৌফিক ওমরের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলার মাধ্যমে পুণরায় দলে ফিরে আসেন ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছিলেন। অধিকাংশ পাকিস্তানী ব্যাটসম্যান হিমশিম খেলেও তিনি ধৈর্য্যশীলতার অপূর্ব স্বাক্ষর রেখে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন।

২০০৫ সালে ভারত সফরে যান ও দলের অন্যতম সফল খেলোয়াড়ে পরিণত হন। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯১ রান তুলেন। একই সফরে বেশ কয়েকবার গালি অঞ্চলে ক্যাচ তালুবন্দীকরণে বিশ্বস্ত ভূমিকা রাখেন। তবে, পরের মাসগুলোয় তাঁর এ সফলতা ক্রমশঃ নিচেরদিকে যেতে থাকেন।

২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৯ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। একমাত্র ইনিংসে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মোহাম্মদ ইউসুফের দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১০০ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

তিন বছর দলের বাইরে চলে যান। বেশ কয়েকবার নির্বাচকমণ্ডলী ও অধিনায়কদের কাছে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অবশেষে, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ তারিখে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্ব-দেশে অনুষ্ঠিত সিরিজ খেলার জন্যে পুণরায় তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

Similar Posts

  • | | |

    বব ওয়াট

    ২ মে, ১৯০১ তারিখে সারের মিলফোর্ড হিদ হাউজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ও বিখ্যাত ক্রিকেটার এবং প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কভেন্ট্রিভিত্তিক রাজা অষ্টম হেনরি স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন রয়্যাল এয়ার ফোর্সের পাইলট অফিসার হিসেবে…

  • |

    ব্লেসিং মুজারাবানি

    ২ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে হারারের হাইফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘ ৬ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। সহজাত পেস ও বাউন্স সহযোগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হন এবং মরনে মরকেলের চেয়েও নিজেকে এগিয়েছিলেন। ২০১০-এর…

  • | |

    বেঙ্কটেশ প্রসাদ

    ৫ আগস্ট, ১৯৬৯ তারিখে কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটক দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভারতের জ্যেষ্ঠ দলীয়…

  • | |

    আজহার মাহমুদ

    ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫ তারিখে পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে এগিয়ে আসতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মানসিক দৃঢ়তায় উজ্জ্বীবিত অবস্থায় অল-রাউন্ডার ও যুদ্ধংদেহী মনোভাবের অধিকারী ব্যাটসম্যান ছিলেন। তিনটি শতকের সবকটিই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করার মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবন…

  • |

    পিটার ফন ডার বিল

    ২১ অক্টোবর, ১৯০৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেনিলওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের শুরুরদিকের অন্যতম তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। বেশ দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। রন্ডেবশের ডিওসিসান কলেজ থেকে রোডস বৃত্তি লাভ করে অক্সফোর্ডের ব্রাসনোস কলেজে চলে…

  • | | |

    ডেনিস ব্রুকস

    ২৯ অক্টোবর, ১৯১৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের কিপাক্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৩৩ সালে কিশোর অবস্থায় নর্দাম্পটনশায়ারে যোগ দেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৫৯ সময়কালে ২৫ বছর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া…