৪ নভেম্বর, ১৯৬৭ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড়ী জীবন তেমন দর্শনীয় ছিল না। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী ও পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৮৬ থেকে ১৯৯৭ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ২৫ টেস্ট ও ৬৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৯ বছর বয়সে ৪ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে গুজরানওয়ালায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর মাঝে উজ্জ্বল সম্ভাবনা ধরা পড়ে।
এরপর, একই সফরের ৭ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৮ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ম্যালকম মার্শালের বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১০ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে পার্থে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেন। নিজস্ব চতুর্থ ওডিআইটিতে অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংস খেলে দলকে অপ্রত্যাশিতভাবে এক উইকেটে জয় এনে দিয়েছিলেন। তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে পঞ্চাশোর্ধ্ব গড়ে ব্যাটিং করলেও নিজেকে কখনও শীর্ষস্তরের ক্রিকেটের সাথে তাল মেলাতে পারেননি।
১৯৯২-৯৩ মৌসুমে হোবার্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুণরায় নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। স্টিভ ওয়াহ’র শেষ ওভার থেকে ১৬ রান আদায় করে নেন। তন্মধ্যে, শেষ বল থেকে মিড-উইকেট বরাবর ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। অবশ্য, খেলাটি টাইয়ে পরিণত হয়েছিল।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জাভেদ মিয়াঁদাদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২ জানুয়ারি, ১৯৯৩ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ওয়াসিম আকরামের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩৩ রানে পরাজিত হয়।
১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে সেলিম মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৯ জানুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ২৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ফ্যানি ডি ভিলিয়ার্সের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৪ রানে জয় পায়।
১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে রমিজ রাজা’র নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৬ এপ্রিল, ১৯৯৭ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১/২৩ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪৯ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অরবিন্দ ডি সিলভা’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। টেস্টে মাত্র ২৪ ও ওডিআইয়ে ২৬ গড়ে রান তুলতে পেরেছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে সেন্ট্রাল ওয়েস্ট রিজিওনের কোচ হিসেবে মনোনীত হন।
