১২ অক্টোবর, ১৯৪৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘কাকা’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। একই ডাকনামে পরিচিত অভিনেতা রাজেশ খান্না’র একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। প্রায় অচিন্ত্যনীয় কিছু করার প্রয়াস চালান। বিনু মানকড়ের ছত্রচ্ছায়া থেকে চলে আসেন। তাঁর অপর ভ্রাতৃদ্বয় রাহুল ও অতুল প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৬৯ থেকে ১৯৭৮ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ২২ টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২২ বছর বয়সে ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে বোম্বের বিএসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। চেতন চৌহান ও অজিত পাইয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৯* ও ২৯ রান সংগ্রহের পাশাপাশি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ৬০ রানে জয়লাভ করে ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজে অংশ নিয়ে বেশ ভালোমানের খেলা উপহার দিয়েছিলেন। পাঁচ ইনিংসের চারটিতেই ৬০ ঊর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেন। কুইন্স পার্ক ওভালে ভারতের জয়ে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ৪৪ ও ২৯ রান তুলেন। অভিষেক ঘটা সুনীল গাভাস্কারের সাথে ৬৮ ও ৭৪ রানের জুটি গড়েন। বোর্দার পরবর্তী টেস্টে ৪০ ও অপরাজিত ৫৩ রান তুলেন।
প্রথম ৯ টেস্টে ৩৭ গড়ে ৫৮৮ রান তুলেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে অপর ১৩ টেস্ট থেকে মাত্র ১৮ গড়ে ৪০৩ রান তুলতে সক্ষম হন। ১৯৭১ সালে ইংল্যান্ড সফর করেন। তবে, আশানুরূপ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে পুণরায় তাঁকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর, আর এক বছর ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাথে যুক্ত ছিলেন।
১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে বিষেন বেদী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১৬ রানের ব্যবধানে নাটকীয়ভাবে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৭ জানুয়ারি, ১৯৭৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। একমাত্র টেস্টে ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ২ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতায় আসে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ভিন্নতর ধারা উপস্থাপন করেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় ২৬৫ রান তুলেন। এরপূর্বে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে শক্তিধর হায়দ্রাবাদ দলের বিপক্ষে ৬৯ ও ১৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে বেশ সুনাম কুড়ান। এছাড়াও, ২১৮টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৭২ উইকেট দখল করেছিলেন।
১৫ জুলাই, ১৯৭৪ তারিখে ওভালে নিজের একমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নেন। এ পর্যায়ে বোলিং অল-রাউন্ডার হিসেবে তাঁকে খেলানো হয়। ৪৪ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন ও পরবর্তীতে মাইক ডেনিসকে বিদেয় করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেমন সাফল্য না পেলেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দারুণ খেলেছেন। ৫১ গড়ে ১২৯৮০ রান তুলে নিজেকে ঘরোয়া ক্রিকেট তারকা খেলোয়াড়ে পরিণত করেন। ব্যাটিং তাঁর প্রধান কাজ ছিল না। মাইক ব্রিয়ার্লি’র ন্যায় তিনি খেলোয়াড়দের দেখে বুঝতে পারতেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ তাঁকে ভারত দলের নেতৃত্বের সুযোগ দেয়া হয়নি। ২৫ গড়ে ৯৯১ রান তুলেছিলেন। প্রায়শঃই তাঁকে ‘ভারতের মাইক ব্রিয়ারলিরূপে’ আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এশীয় টেনিস চ্যাম্পিয়ন ও উইম্বলেডনে অংশগ্রহণকারী নিরূপমা বসন্তের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। মিহির ও হর্ষ নামীয় দুই পুত্র সন্তান টেনিস খেলোয়াড়। তন্মধ্যে, মিহির ডেভিস কাপে অংশ নিয়েছিল। ক্রিকেট ছেড়ে আসার পর গল্ফের দিকে মনোনিবেশ ঘটান। ১ আগস্ট, ২০০৮ তারিখে ৬১ বছর ২৯৪ দিন বয়সে সেন্ট্রাল মুম্বইয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর দেহাবসান ঘটে।
