| |

অরুণ লাল

১ আগস্ট, ১৯৫৫ তারিখে উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে তাঁর জন্ম। ‘পিগ্গি’ ডাকনামে পরিচিতি পান। পিতা, কাকা, কাকাতো ভাই – সকলেই তাঁর পূর্বে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। আজমিরের মেয়ো কলেজে ভর্তি হন। এরপর, দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজে পড়াশুনো করেন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা ও দিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৬ বছর দিল্লি দলের পক্ষে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হন। ফলশ্রুতিতে, বাংলা দলে চলে যান। সেখানেই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের বাঁক ঘুরে যায়।

রঞ্জী ট্রফিতে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪৭ গড়ে ১০৪২১ রান পেলেও রঞ্জী ট্রফিতে এ গড়কে ছাঁপিয়ে যান। ৫৪.০৯ গড়ে ৬৭৬২ রান পেয়েছেন। বাংলা দলের পক্ষে ৬৭ গড়ে ৫৫৯১ রান করেছেন। চল্লিশের অধিক অর্ধ-শতকের বিশটিকেই শতকে রূপান্তর করতে পেরেছেন। এ পর্যায়ে ইডেন গার্ডেন্সে ৭১ গড়ে ৩৬৪৫টি প্রথম-শ্রেণীর রান সংগ্রহ করেন। তুলনান্তে অন্যান্য মাঠে ৪০ গড়ে ৬৭৭৬ রান তুলেছেন।

৫১ বছর পর ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে বাংলা দল প্রথমবারের মতো রঞ্জী ট্রফির শিরোপা লাভ করে। ১০৮ গড়ে ৬৪৫ রান তুলেন। কোয়ার্টার-ফাইনালে বোম্বের বিপক্ষে ১৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এরপর, সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে যথাক্রমে ৯৩ ও অপরাজিত ৫২ রান সংগ্রহ করেন।

১৯৮২ থেকে ১৯৮৯ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ১৬ টেস্ট ও ১৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২৭ জানুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে কটকে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে নিজ দেশে বান্দুলা বর্ণাপুরা’র নেতৃত্বাধীন সফররত শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। রাকেশ শুক্লা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্টে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৬৩ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, দিলীপ মেন্ডিসের জোড়া শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়।

১৯৮২-৮৩ মৌসুমে নড়বড়ে সূচনায় পাকিস্তানী ও ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলারদের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। প্রকৃত অর্থে তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তিন বছর দলের বাইরে ছিলেন। ১৯৮৭ সালে ইডেন গার্ডেন্সে সুনীল গাভাস্কার খেলতে অস্বীকৃতি জানালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। দায়িত্বশীলতার সাথে ৫২ ও ৭০ রান তুলতে পেরেছেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। এরপর দল থেকে বাদ পড়েন। পরের মৌসুমে উভয় ধরনের খেলায় তিনটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন।

২ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে ব্যাঙ্গালোর টেস্টে রিচার্ড হ্যাডলি’র বিশ্বরেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়ান। ইয়ান বোথামের সর্বাধিক উইকেট লাভের বিশ্বরেকর্ডকে পাশ কাটিয়ে হ্যাডলি’র ৩৭৪তম উইকেটে পরিণত হন। ১৯৮৯ সালের মধ্যেই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হয়ে যায়।

১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে দিলীপ বেঙ্গসরকারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৮ এপ্রিল, ১৯৮৯ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৭ ও ২৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ মুঠোয় পুড়েন। তবে, কোর্টনি ওয়ালশের দূরন্ত বোলিংয়ে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পায় ও ৩-০ ব্যবধানে রাবার জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের আসরে তারকা ক্রিকেটার ছিলেন। ঘরোয়া আসরে দূর্দান্ত খেললেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একই ধারায় নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। আশির দশক থেকে শুরু করে নব্বুইয়ের দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত বাংলা ও পূর্বাঞ্চলের উত্থানে জোড়ালো ভূমিকার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

সুনীল গাভাস্কারের যোগ্য সহচর হতে ভারতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী বেশ কয়েকজন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে মাঠে নামায়; অরুণ লাল তাঁদেরই একজন ছিলেন। মাঝে-মধ্যে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ৬ বছরের অধিক সময় নিয়ে টেস্টগুলোয় ২৬ গড়ে ৭২৯ রান ও ওডিআইয়ে ৯ গড়ে ১২২ রান তুলতে পেরেছিলেন। লক্ষ্যণীয় যে, ইডেন গার্ডেন্সে ৬৭ গড়ে ২৬৬ রান তুললেও অন্যান্য মাঠে মাত্র ১৬ গড়ে ৫৮৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইস্ট বেঙ্গলের পক্ষে সর্বশেষ ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেন।

২০০১ সালে প্রতিযোগিতাধর্মী ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তী বছরগুলো বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিজেকে জড়ান। কলকাতাভিত্তিক বোর্নভিটা ক্রিকেট একাডেমি পরিচালনা করছেন। সর্বোপরী, ১৯৮৮ সালে ভারতের সর্বাধিক চলচ্চিত্র বহির্ভূত সঙ্গীত ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’য় অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত খেলেন। এরপর, ধারাভাষ্যকার ও কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে চোয়ালের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। তবে, আরোগ্য লাভের এক বছর পর পুণরায় টেলিভিশন ধারাভাষ্য কর্মে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়াও, সংবাদপত্র ও ইন্টারনেটে ক্রিকেটবিষয়ক প্রতিবেদন লিখেন।

Similar Posts

  • | |

    সিড পেগলার

    ২৮ জুলাই, ১৮৮৮ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অসাধারণ স্পিন বোলার হিসেবে তিনি সুনাম কুড়িয়েছিলেন। দীর্ঘকায় ও শক্ত-মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। ১৯০৮-০৯ মৌসুম থেকে ১৯৩০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    ফিল এমরি

    ২৫ জুন, ১৯৬৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সেন্ট ইভস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯৯০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ফিল্থি’, ‘স্লিঙ্ক’ কিংবা ‘ফ্যাটি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে দূর্দান্ত খেলতেন। প্রায়শঃই দলের আপদকালীন নিচেরসারিতে নেমে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ…

  • |

    কলিন ম্যাককুল

    ৯ ডিসেম্বর, ১৯১৬ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্যাডিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও লেখক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, স্লিপ অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে ১৯৬০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ…

  • |

    বিলি জাল্ক

    ২ জানুয়ারি, ১৮৮৬ তারিখে ট্রান্সভালের লিডেনবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কেপটাউনভিত্তিক গ্রীন এন্ড সী পয়েন্ট হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেন। প্রিটোরিয়ার সদস্যরূপে পচেফস্টুমের বিপক্ষে ১৮০ রানের ইনিংস খেলে প্রথমবারের মতো সকলের দৃষ্টিগোচরে পড়েন। শক্ত…

  • | |

    মহিন্দার অমরনাথ

    ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৫০ তারিখে পাঞ্জাবের পাতিয়ালায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। খেলায় অল-রাউন্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রায়শঃই সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত হতেন; আবার খুব সহজেই সবচেয়ে বাজে ব্যাটসম্যানেরও তকমা পেয়েছেন। দলের সঙ্কটকালে ব্যাট হাতে প্রতিরক্ষা ব্যূহ গড়ে তুলতেন। পাশাপাশি…

  • |

    ডানকান শার্প

    ৩ আগস্ট, ১৯৩৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্মগ্রহণকারী অ্যাংলো-পাকিস্তানী ক্রিকেটার। কার্যকর ও আগ্রাসী ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি, বিশ্বস্ত উইকেট-রক্ষক হিসেবে খ্যাতি কুড়ান। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে লাহোর,…