| | |

আর্থার জিলিগান

২৩ ডিসেম্বর, ১৮৯৪ তারিখে লন্ডনের ডেনমার্ক হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

অনেক গুণে গুণান্বিত ছিলেন। পর্যাপ্ত পেস ও দম নিয়ে ফাস্ট বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯১৯ থেকে ১৯৩২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে ও সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় দলের পক্ষে খেলেছেন। মরিস টেটের সাথে অবিস্মরণীয় জুটি গড়ে সাসেক্স ও ইংল্যান্ডের পক্ষে একত্রে ভূমিকা রেখেছেন। কাউন্টি দলটির পক্ষে ১৯২০-এর দশকের শুরুরদিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলেছেন। ১৯২২ সালে দলের অধিনায়কত্ব লাভ করেন। ১৯২৩ সালে ‘ডাবল’ লাভের অধিকারী হন।

১৯২২ থেকে ১৯২৫ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২২-২৩ মৌসুমে ফ্রাঙ্ক মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন ও ইংল্যান্ড দলের সহঃঅধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯২২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অ্যালেক কেনেডি, আর্থার কার, ফ্রাঙ্ক মান ও গ্রিভিল স্টিভেন্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৮ ও ৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, ০/২৩ ও ৩/৬৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১৬৮ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪ ও ২৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৬৯। বল হাতে নিয়ে ৩/৩৫ ও ৩/৭৮ লাভ করেন। সফরকারীরা ১০৯ রানে জয়লাভ করলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয় পায়।

এক পর্যায়ে দলের অধিনায়কত্ব লাভ করেন। নিজ দেশে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে ইংল্যান্ড দলকে পরিচালনা করেন। এরপর, ১৯২৪-২৫ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নেন। ১৯২৪ সালে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ বছর হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৪ জুন, ১৯২৪ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ইপি নুপেনকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৩৫। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। বল হাতে নিয়ে ৬/৭ ও ৫/৮৩ পান। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৮ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

তবে, ১৯২৪ সালে ব্যাটিংকালে বুকে আঘাত পাবার পর থেকে বোলার হিসেবে তিনি আর কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ৫ টেস্ট থেকে ৫১.৯০ গড়ে ১০ উইকেট পান। এভাবেই তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। ১৯২৪-২৫ মৌসুমে এমসিসি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৯ ডিসেম্বর, ১৯২৪ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে ১ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯২ ও ২/১১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৯৩ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৪৬ ও ১/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩০৭ রানে জয়লাভ করলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া সফরে তাঁর ফ্যাসিবাদের স্ব-পক্ষে গুণগান মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উপনীত হয়। এরপর, ১৯২৬-২৭ মৌসুমে এমসিসি দলের নেতৃত্বে থেকে ভারত সফরে যান ও ইম্পেরিয়াল ক্রিকেট কনফারেন্সে স্বীয় প্রভাব ফেলে ভারত দলকে টেস্টভুক্ত দলে পরিণতকরণে সহায়ক ভূমিকা পালনে অগ্রসর হন।

সাসেক্স দলে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। তবে, বোলারের চেয়ে ব্যাটিংয়ের দিকে অধিক ধাবিত হন। অবশেষে, ১৯৩২ মৌসুমে শেষে ক্রিকেট জগৎকে বিদেয় জানান। এরপর তিনি সাংবাদিকতা ও ধারাভাষ্যকর্মে মনোনিবেশ ঘটান। সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক ভিক রিচার্ডসনের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তুলেন। জীবনের শেষদিকে ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে এমসিসি’র প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়েই ১৯৬৮ সালের ব্যাসিল ডি’অলিভেইরার ন্যায় বিতর্কিত ঘটনা অবলোকন করেন। ১৯৭১ সালে তাঁর সম্মানার্থে হোভের সাসেক্স কাউন্টি ক্রিকেট মাঠের একটি নতুন স্ট্যান্ডের নামকরণ করা হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ৬ এপ্রিল, ১৯২১ তারিখে হেনরি নোবেল ম্যাথুজের একমাত্র কন্যা সেসিলিয়া মেরি’র সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ইংরেজ অধিনায়ক ও বিখ্যাত ব্যাটসম্যান পিটার মে’র সাথে স্বীয় কন্যাকে বিয়ে দেন। তাঁর ভ্রাতা হ্যারল্ড জিলিগান ১৯৩০ সালে দ্বিতীয়সারির ইংল্যান্ড দলের নেতৃত্বে থেকে নিউজিল্যান্ড সফর করেছিলেন। ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে সাসেক্সের মেয়ার হিল এলাকায় অবস্থিত নিজ গৃহে ৮১ বছর ২৫৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। সাসেক্সের স্টপহাম এলাকায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।

Similar Posts

  • |

    গাই ডি অলউইস

    ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিছুটা দীর্ঘদেহী ও চটপটে উইকেট-রক্ষক হিসেবে স্ট্যাম্পের…

  • |

    ডেনিস স্মিথ

    ৮ জানুয়ারি, ১৯১৩ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের টুউম্বা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি ও ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, ছয়বার ওতাগো ও চারবার ক্যান্টারবারির…

  • | |

    মোহসিন খান

    ১৫ মার্চ, ১৯৫৫ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭০-৭১ মৌসুম থেকে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, করাচী,…

  • | |

    শান মাসুদ

    ১৪ অক্টোবর, ১৯৮৯ তারিখে কুয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘শানি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। অভিজাত পরিবারে জন্ম। পিতা পিসিবি’র পরিচালনা পরিষদের সদস্য। খাঁটিমানসম্পন্ন ও কৌশলগতভাবে দক্ষ বামহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। কিশোর পর্যায়ের ক্রিকেটে…

  • |

    কায়সার আব্বাস

    ৭ মে, ১৯৮২ তারিখে পাঞ্জাবের মুরিদকে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, কার্যকর স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ২০০০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১৮-১৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক, পাকিস্তান…

  • | |

    হ্যারি বাট

    ২৭ ডিসেম্বর, ১৮৬৫ তারিখে মিডলসেক্সের স্যান্ডস এন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ছোটখাটো গড়নের অধিকারী হলেও পদচারণা ব্যতিব্যস্ত থাকতেন। স্ট্যাম্পিংয়ের চেয়ে গ্লাভসবন্দীকরণেই অধিক সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ভীতিহীন চিত্তে খেলায় অংশ নিতেন। ১৮৯০ থেকে ১৯১২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…