জুন, ১৯১৫ তারিখে কেন্টের চার্দাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং উদ্বোধন করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে ও কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩২ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। প্রায় সিকি শতাব্দী কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের প্রধান খুঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫৮ শতক সহযোগে ৩৬.০৫ গড়ে ২৭২৯১ রান তুলেছেন।
১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটের সফলতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবাহিত করতে পারেননি। ত্রিশের মাঝামাঝি বয়সে এসে সাটক্লিফকে দলের বাইরে রাখা হলে দল নির্বাচকমণ্ডলী নতুন উদ্বোধনী জুটির সন্ধান করতে এসে ফাগ ও হাটনকে মনোনীত করে। এক বছরের বড় ও কিছু ক্ষেত্রে তাঁর মাঝে ভালোমানের সম্ভাবনা থাকায় তিনি প্রথম সুযোগ পান। ১৯৩৬ সালে নিজ দেশে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন ও দুই টেস্টে অংশ নেন। ২১ বছর বয়সে ২৫ জুলাই, ১৯৩৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। আল্ফ গোভার ও লরি ফিশলকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৩৬-৩৭ মৌসুমের শরৎকালে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে তাঁকে দলে রাখা হয়। কিন্তু, সফরের মাঝামাঝি সময়ে বাতজ্বরে আক্রান্ত হলে তাঁকে দেশে ফেরৎ পাঠিয়ে দেয়া হয়।
৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ২৭ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৩২২ রানের ব্যবধানে বিশাল জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৩৭ মৌসুমের পুরোটা সময় খেলার জগতের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। ১৯৩৮ সালে দূর্দান্ত মৌসুম অতিবাহিত করার পরও তাঁকে খেলানো হয়নি। ঐ মৌসুমের শীতকালে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে তাঁকে দলে রাখা হলেও প্রত্যাখ্যান করেন।
১৯৩৯ সালে নিজ দেশে রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুলাই, ১৯৩৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৭ ও ৩২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্ট ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন অযোগ্য ঘোষিত হন। এরফলে, চেল্টেনহামের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিং জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৫৯ থেকে মৃত্যু পূর্ব পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনার সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। এছাড়াও, ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৬ সময়কালে টেস্ট আম্পায়ারদের তালিকায় যুক্ত ছিলেন। সব মিলিয়ে ১৮টি টেস্ট, ৭টি ওডিআই, ২৮টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও ৬৪টি লিস্ট-এ ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেন।
১৯৭৩ সালে বার্মিংহামের এজবাস্টন টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্টে সফরকারী দলের খেলোয়াড়েরা তাঁকে ঘেরাও করলে স্বীয় সিদ্ধান্তে অনড় থেকে দ্বিতীয় দিন মাঠে নামেননি। তৃতীয় দিন সকালে দ্বিতীয় ওভার পর্যন্ত ওয়ারউইকশায়ারের কোচ অ্যালান ওকম্যান খেলোয়াড় তাঁর পরিবর্তে খেলা পরিচালনা করেছিলেন।
১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে কেন্টের টানব্রিজ ওয়েলসে ৬২ বছর ৮৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
