১৬ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন।
‘অ্যানা’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। ডেল স্টেইনকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিদ্যালয় দলে খেলেছেন। দলে প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনাসহ খেলায় ফিরিয়ে আনতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তিনি স্থির থাকা মানেই প্রত্যেকেই থেমে থাকা। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার সাথে বাড়ীর পিছনের মাঠে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। যদি তিনি ক্রিকেট না খেলতেন, তাহলে তিনি বিকম ডিগ্রীধারী ও স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমাধারী হিসেবে আর্থিক পরিকল্পনাবিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন।
২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্স ও ওয়ারিয়র্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেপটাউন ব্লিটজ, দিল্লি ক্যাপিটালস, নেলসন মান্ডেলা মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে উইন্ডহোকে নামিবিয়া বনাম ইস্টার্ন প্রভিন্সের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০১৬ সালের আফ্রিকান টি২০ কাপে ইস্টার্ন প্রভিন্স দলের সদস্যরূপে যুক্ত হন। প্রথম দুই খেলায় অংশ নিয়ে ৬ ওভারে ৫০ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। এরফলে, প্রতিযোগিতার বাদ-বাকী খেলাগুলো থেকে বাদ পড়েন। ঐ প্রতিযোগিতায় অবশ্য ইস্টার্ন প্রভিন্স দল শিরোপা জয় করেছিল। পরবর্তীতে, ওয়ারিয়র্স দলের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অন্যতম ভীতিদায়ক বোলারে পরিণত হয়েছেন। সানফয়েল সিরিজে টাইটান্সের বিপক্ষে খেলাকালীন শেষ দুই বল থেকে ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক জন-জন স্মাটস দুই ক্যাচ তালুবন্দী করে দলকে বিজয়ী করার মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রেখেছেন।
২০১৯ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২৫ বছর বয়সে ৩ মার্চ, ২০১৯ তারিখে জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। খেলায় তিনি ৭ ওভারে ১/৩৩ পান। কুইন্টন ডি কক (৮১) ও ফাফ ডু প্লিসি’র (১১২*) ১৩৬ রানের জুটির কল্যাণে স্বাগতিক দল খুব সহজেই ৮ উইকেটে জয় পায়।
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকল্পে এপ্রিল, ২০১৯ সালে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সাথে যুক্ত করা হয়। তবে, ৭ মে, ২০১৯ তারিখে হাতের আঘাতের কারণে তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে চলে আসতে হয় ও ক্রিস মরিসকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
২০১৯-২০ মৌসুমে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ভারত গমন করেন। ১০ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে পুনেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০/১০০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে জেসি আর্চারকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৪৭। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৪৭ ও ৩/৫৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। কুইন্টন ডি ককের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০৭ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে এসএম কারেনকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৫৬। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৫/১১০ ও ২/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৬ ও ৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে মার্ক উডের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় মার্ক উডের অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ১৯১ রানে পরাভূত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২১ সালে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১০ জুন, ২০২১ তারিখে গ্রোস আইলেটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৩৫ ও ৩/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলের একমাত্র ইনিংসে ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কুইন্টন ডি ককের অসাধারণ অপরাজিত শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৬৩ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৩৬ ও ১/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৪ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, এইডেন মার্করামের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮৭ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০২০ সালে আইপিএলের আসরে ১৫৬.২২ কিলোমিটার গতিবেগে দ্রুততম বোলিং করেন।
