২৮ মার্চ, ১৯৭৩ তারিখে মনিকাল্যান্ডের আমতালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বেশ দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ও ‘স্ট্রাকচার’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। অবিচলিত চিত্তে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন ও বলে নিখুঁততার স্বাক্ষর রাখতে সচেষ্ট হতেন। কিন্তু, সেরা ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে খুব কমই প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন। ফলে, একদিনের ক্রিকেটে শেষদিকে দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার সুযোগ পেতেন। সীমানা বরাবর ফিল্ডিং করে সুনাম কুড়িয়েছেন।
পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী শহর আমতালিতে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবকালের অধিকাংশ সময়ই চিরেদজি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরবর্তী লোভেল্ডের শহরতলী হিউমানি র্যাঞ্চে অতিবাহিত করতেন। এক বছরের বড় ও তুলনামূলকভাবে অধিক জনপ্রিয় গাই হুইটলের কাকাতো ভাই ছিলেন। উভয়েই ঐ খামারে শুরুতে পিতামহ ও পরবর্তীতে পিতার কাছে থাকতেন।
ক্রিকেটের প্রতি তাঁর পিতার ব্যক্তিগত আগ্রহ না থাকলেও তাঁকে সাহস যোগাতেন। সৌভাগ্যবশতঃ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে খেলা দেখার সুযোগ পেতেন এবং খেলার প্রতি তাঁর আগ্রহ ও প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ এনে দেয়। রুয়াজি নামীয় সুপরিচিত ও আবাসিক ক্রিকেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকার সুবাদে এবং ঐ সময়ের প্রধানশিক্ষক ব্রায়ান কার্টিসের উদ্দীপনায় শুরুরদিকের উত্তরণ ঘটে। এসেক্সভেলে ফ্যালকন কলেজে মাধ্যমিক শিক্ষাকালেও বেশ উন্নতমানের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পান।
নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নকাল থেকেই নিজেকে সর্বদাই অফ-স্পিনার হিসেবে দেখে আসছেন। তবে, জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৫ দল ফনসের পক্ষে মনোনীত হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজেকে খেলার উপযোগী মনে করেননি। এছাড়াও, ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন। ফ্যালকনে থাকাকালীন শেষ দুই বছর বিদ্যালয়ের প্রথম একাদশে প্রতিনিধিত্ব করেন। পাশাপাশি, জিম্বাবুয়ের বিদ্যালয় দলের সদস্য ছিলেন। এ পর্যায়ে হিথ স্ট্রিক, ক্রেগ উইশার্ট ও স্টুয়ার্ট কার্লাইলের ন্যায় তারকা খেলোয়াড়দের পাশে থেকে জাতীয় বিদ্যালয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান।
১৯৯৩ থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সরব ভূমিকা রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মনিকাল্যান্ড ও মাতাবেলেল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেন। ক্লাব পর্যায়ে বুলাওয়েভিত্তিক ম্যাকডোনাল্ড ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত মাতাবেলেল্যান্ড এবং ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে মনিকাল্যান্ডের পক্ষে খেলেছিলেন। ১৪ এপ্রিল, ১৯৯৩ তারিখে কেমব্রিজে অনুষ্ঠিত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় বনাম ডার্বিশায়ারের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
পিটার রোশন, এডো ব্রান্ডেস ও ড্যান রোয়েটের ন্যায় নিজ দেশে কোন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট না খেলেও অপ্রত্যাশিতভাবে জিম্বাবুয়ের পক্ষে বিদেশে খেলার গৌরব অর্জন করেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন। ভর্তি হবার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় দলে নিজের নাম লেখান ও নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। ঐ দলে জন ক্রলিকে অধিনায়ক হিসেবে দেখতে পান ও পরবর্তীতে নিজে অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন বুলাওয়েভিত্তিক ওল্ড মিল্টোনিয়ান্সের পক্ষে ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। কেমব্রিজ থেকে ফিরে আসার পর প্রথমেই এ ক্লাবে যোগ দেন। বিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিষয়ে অধ্যয়নকল্পে জন্যে ইংল্যান্ড গমনের জন্যে নয় মাস অপেক্ষার প্রহর গুণেন। ইংরেজ ক্রিকেট মৌসুম শুরু হবার ছয় মাস পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় দলে যুক্ত হন। এ পর্যায়ে দলের অধিনায়ক জন ক্রলি ও গ্রাহাম স্যাভিল কোচের দায়িত্বে ছিলেন। স্পিন বোলিংয়ে দক্ষ থাকায় দুইজন স্পিনারের অন্যতম হিসেবে খেলেন। ব্যাটিংয়ের বিষয়েও যথেষ্ট বিবেচনায় আসেন। ঐ মৌসুমে ১০ কিংবা ১১ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এ পর্যায়ে গুরুতর ভুল হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলায় কেমব্রিজের দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ উইকেটে ৭০ রান সংগ্রহ করেন। ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করেন ৪০ রান। এরফলে দল ইনিংস পরাজয় এড়ায়। ৫১ গড়ে বোলিং করেন। তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময়ই দূর্বলতর দলের পক্ষে খেলেছেন।
মূলতঃ অফ-স্পিন বোলিং করতেন। তবে, জিম্বাবুয়ে দলে অনেক প্রথিতযশা অল-রাউন্ডারের প্রাচুর্য্যতা থাকায় নিচেরদিকে ব্যাটিংয়ে নামতেন। তবে, ব্যাট হাতে নিয়েও স্বীয় যোগ্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এক সময় ব্যাটিং উদ্বোধনে নামলেও নিজ নামের পার্শ্বে শতক লেখাতে পারেননি। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৯৪ সালে অত্যন্ত দূর্বলতম দলের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। দলকে খেলায় ফিরিয়ে আনতেও বেশ হিমশিম খান। তাসত্ত্বেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলায় অক্সফোর্ডের বিপক্ষে দলের আরেকটি পরাজয় এড়াতে যথোচিত ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট হন। ৪০ রান সংগ্রহ করলেও ফলো-অনের কবলে পড়ে তাঁর দল। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছুটিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ৯১ রানের ইনিংস খেলে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যান। বিদ্যালয় ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সেরা ৮/১১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ফ্যালকনের সদস্যরূপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্লামট্রি স্কুলের বিপক্ষে ঐ খেলায় অর্ধ-শতকও হাঁকিয়েছিলেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ে হকি ও রাগবি খেলায় অংশ নিতেন।
১৯৯৫ সালে কেমব্রিজের অধিনায়ক থাকাকালে দ্বিতীয় বর্ষেও অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন ও সর্বাধিক সফলতম সময় অতিবাহিত করেন। প্রত্যাশার চেয়েও তাঁর দলও বেশ ভালো করে। তবে, প্রথম-শ্রেণীর খেলায় দলের জয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারেননি। এ মৌসুমে ২৯ উইকেট পেয়েছিলেন। নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে পরাজয় রোধ করতে সেরা ব্যাটিং করেন। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলায় দ্বিতীয় ইনিংসে দলের বিপর্যয়ের ফলে কেমব্রিজ দল পরাজিত হয়।
১৯৯৬ থেকে ২০০০ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ১০ টেস্ট ও ৬৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে খেলতে নামেন। অল্প কয়েকদিন পর ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে একই দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ক্রেগ ইভান্সের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ৭৭ রানের ব্যবধানে তাঁর দল পরাজয়বরণ করে।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৮ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ১/১০৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ১০৫.১৪ গড়ে সাত উইকেট পেয়েছিলেন। এছাড়াও, ওডিআইগুলো থেকে ৫০.০২ গড়ে ৪৫ উইকেট দখল করেন। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য ছিলেন। এ প্রতিযোগিতা শেষে খুব শীঘ্রই তাঁকে স্থানচ্যূত হতে হয়। এরপর ক্রীড়াসামগ্রী বাজারজাতকরণের সাথে সফলতম কর্মজীবন অতিবাহিত করছেন।
