১৭ এপ্রিল, ১৯৮০ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০১০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০০২-০৩ মৌসুম থেকে ২০১৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ক্লাব ক্রিকেটে কারোরি দলের সদস্য ছিলেন।
নিখুঁত মানসম্পন্ন বামহাতি বোলার ছিলেন। নতুন বল নিয়ে অগ্রসর হতেন। চমৎকার পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে মারকুটে ভঙ্গীমায় ব্যাটিং করতেন। ২০০৯-১০ মৌসুমে ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডসের অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়েছিলেন। পাঁচ মৌসুম খেলার পর ২৯ বছর বয়সে অকল্যান্ড থেকে ওয়েলিংটনে চলে আসেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে অভিষেক ঘটার পর ১৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৫৪ উইকেট দখল করেন। আঘাত তাঁর নিত্যসঙ্গী ছিল ও পুরো মৌসুম খেলতে পারেননি। ২০০৭-০৮ মৌসুমে দারুণ ছন্দে ছিলেন। ২৪টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট দখল করেন। পরের মৌসুমেও এ ধারা অব্যাহত রাখেন। ওয়েলিংটনে থাকাকালে প্রথম মৌসুমে একদিনের প্রতিযোগিতায় যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। এরফলে, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। নিজ দেশে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআই দলে তাঁকে ঠাই দেয়া হয়।
২০১০ থেকে ২০১২ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ১৯টি ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ৩০ বছর বয়সে ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। পেস বোলিংয়ের কল্যাণে অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে বিমোহিত করেন।
২০১০-১১ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে ভারত গমন করেন। ২০ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এর পূর্বে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে সিরিজে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে, পায়ের আঘাতের কারণে আর তা হয়ে উঠেনি। শচীন তেন্ডুলকরকে জি হপকিন্সের কটে পরিণত করে বিদেয় করেন। এ পর্যায়ে শচীন তেন্ডুলকর নিজস্ব ৫০তম টেস্ট শতক থেকে মাত্র ৩৯ রান দূরে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘প্রকৃতপক্ষে ঐ ওভার শেষে উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে ক্ষমা চাইতে চেয়েছিলাম।’ খেলায় তিনি ৫ ও ২০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রাহুল দ্রাবিড়ের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৯৮ রানে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
৮ জুন, ২০১৫ তারিখে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ক্রিকেটের বাইরে পেশাগত জীবনে তিনি ফিজিওথেরাপিস্ট।
