|

আন্দ্রে অ্যাডামস

১৭ জুলাই, ১৯৭৫ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘ড্রে’ ডাকনামে ভূষিত আন্দ্রে অ্যাডামস ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বংশোদ্ভূত। মাতা গায়ানীয় ও পিতা সেন্ট ভিনসেন্টের অধিবাসী। অকল্যান্ডভিত্তিক ওয়েস্ট লেক বয়েজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিলান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স, হ্যাম্পশায়ার ও নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, হিয়ারফোর্ডশায়ার, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব, খুলনা রয়্যাল বেঙ্গল ও কলকাতা টাইগার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ওয়ান-ডে কাপ ও টি২০ প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ী অকল্যান্ড এইসেসের পক্ষে খেলেন। সেপ্টেম্বরে ২০১১ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ টি২০ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দলের সাথে ভারত গমন করেন।

দুই মৌসুম এসেক্সের পক্ষে খেলার পর ২০০৭ সালে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন। এ পর্যায়ে এলভি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের চারটি খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ছয় উইকেট দখল করেছিলেন। প্রথম মৌসুমেই নটিংহ্যামশায়ারের কাউন্টি ক্যাপ লাভ করেন। ২০১০ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে দারুণ খেলা উপহার দেন। ৬৮ উইকেট নিয়ে দলের বোলিং বিভাগে শীর্ষ আরোহণ করেন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে মৌসুমের শেষ দিনে শিবনারায়ণ চন্দরপলের উইকেট লাভ করে দলের শিরোপা বিজয় নিশ্চিত করেন। কোলপ্যাক নিয়মের আওতায় ২০১৪ সাল পর্যন্ত কাউন্টিতে খেলেন। কাউন্টিতে অভিষেকের পূর্বে প্রিমিয়ার লীগে কিম্বার্লী ইন্সটিটিউটের পক্ষে খেলেছেন। ২০০০ ও ২০০১ সালে ব্যাটিং ও বোলিং-উভয় বিভাগে পুরস্কৃত হন। ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তারিখে ঘোষণা করেন যে, ২০১৫ সালের শুরুতে মৌসুমের প্রথমার্ধ্ব খেলতে হ্যাম্পশায়ারের সাথে তিন মাসের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন। এরপর তিনি কোচিং জগতে প্রবেশ করবেন।

২০০১ থেকে ২০০৭ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও ৪২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩০ মার্চ, ২০০২ তারিখে অকল্যান্ডে সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৭ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় ছয় উইকেট পেয়েছিলেন। ৩/৪৪ ও ৩/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মাইকেল ভন, নাসের হোসেন, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের ন্যায় তারকা খেলোয়াড় তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, ড্যারিল টাফি’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭৮ রানে পরাজিত হলে অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজটি শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্ট অভিষেকের পূর্বেই ১০ এপ্রিল, ২০০১ তারিখে শারজায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় নিজস্ব সেরা ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪/৪৪ লাভের পর ২৪ বল থেকে ৩৫ রান তুলে ব্ল্যাক ক্যাপসের বিজয়ে স্মরণীয় ভূমিকা রাখেন। এক পর্যায়ে তাঁর খেলার মান দূর্বলতর হতে থাকে ও অল-রাউন্ডার জ্যাকব ওরামের উত্থানে দলের বাইরে চলে যেতে হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট