|

অ্যান্ডিল ফেহলাকওয়াইও

৩ মার্চ, ১৯৯৬ তারিখে ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলিংয়ের দিকেই অধিক ঝুঁকে পড়েছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘অ্যান্ডি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। খুব ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগ গড়ে উঠে। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম প্রতিভাবান ক্রিকেটার হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটান। ক্রিকেটের পাশাপাশি হকিতেও পারদর্শী ছিলেন। তবে, ক্রিকেটের দিকেই অধিক ঝুঁকে পড়েন। প্রাদেশিক অনূর্ধ্ব-১২ দলে খেলেন। দারুণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ২০১৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। তবে, পুরো প্রতিযোগিতায় তিনি একটিমাত্র খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। চার খেলায় অংশ নিলেও আশানুরূপ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ১৮ বছর বয়সে ডলফিন্স দলে যুক্ত হন। ২০১৪ সালে সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলেও দলের সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। দলটিকে টি২০ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। ১২ উইকেট পেয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ে গমনার্থে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত চারদেশীয় ওডিআই সিরিজে ‘এ’ দলের সর্বাধিক উইকেট লাভ করেন।

২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ডলফিন্স ও কোয়াজুলু-নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২৩ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স বনাম কোয়াজুলু-নাটালের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ঐ খেলায় পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ২৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার জন্যে টেস্ট দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। তবে, জুন, ২০১৬ সালের ঐ ইংল্যান্ড সফরে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের কোন টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। তবে, ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলার সুবাদে জাতীয় দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন।

২০১৬ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০ বছর বয়সে ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে বেনোনিতে অনুষ্ঠিত সফররত আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি ও চার ওভার বোলিং করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। এরপর, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথম অংশ নেন।

নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ খেলার জন্যে মনোনীত হন। পাঁচ-ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজে আট উইকেট দখল করে সর্বাধিক উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। ঐ সিরিজে তাঁর দল ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেন।

২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে পচেফস্ট্রুমে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। এইডেন মার্করামের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি এক উইকেট লাভ করেছিলেন। ১/১৮ ও ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডিন এলগারের অনবদ্য ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৩৩৩ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৬ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে ব্লোমফন্তেইনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে খেলেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে সাব্বির রহমানকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ১/১৮। খেলায় তিনি ০/২৮ ও ৩/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কাগিসো রাবাদা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৫৪ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/২৫ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৯ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ভুবনেশ্বর কুমারের অসাধারণ অল-রাউন্ড কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ৬৩ রানে পরাজিত হলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট