১৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। দৃষ্টিনন্দন শট খেলে সকলের মন জয় করেন। ২০১০-এর দশকের শুরুরদিক থেকে বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বিকেএসপিতে অধ্যয়ন করেছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবসে জন্মগ্রহণ করায় বিদ্যালয়ের জনৈক শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক তাঁকে ‘বিজয়’ ডাকনামে ভূষিত করেন। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে ঢাকা বিভাগ, খুলনা বিভাগ ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, ঢাকা প্লাটুন, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, জেমকন খুলনা ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে খেলেছেন। সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন।
১৬ বছর পূর্তির পূর্বেই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ১ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে খুলনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রিকেটে লীগে ঢাকা বিভাগের সদস্যরূপে রাজশাহী বিভাগের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। বাংলাদেশের সর্বাপেক্ষা বৃহত্তম ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে থাকাকালীন কিছু সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণেই এ সুযোগ পেয়েছিলেন। নভেম্বর, ২০০৯ সালে নিজেকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। ঐ বছর দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। এছাড়াও, ২০০৯-১০ মৌসুমে চট্টগ্রামে একই দলের বিপক্ষে যুবদের টেস্টে অংশ নেন ও ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। খেলায় অর্ধ-শতক হাঁকান ও স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে পাঁচটি ডিসমিসালের সাথে নিজেকে জড়ান। এরপর, ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দুইটি শতরানের ইনিংস সহযোগে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। ৬০.৮৩ গড়ে ৩৬৫ রান তুলেছিলেন।
নভেম্বর, ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেকের পূর্বে তেরোটি শতরানের ইনিংস হাঁকান। একই সময়ে গ্লাভস হাতে নিয়েও দারুণ খেলেন। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ টি২০ প্রতিযোগিতায় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে ব্যাটিং করেন। ঐ শতকগুলো বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দল, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ঢাকা ও খুলনা বিভাগ, আবাহনী ক্লাব ও বিসিবি একাডেমির পক্ষে করেছিলেন।
২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দূর্দান্ত খেলার সুবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআই দলে অন্তর্ভুক্ত হন। ৩০ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে খুলনায় অনুষ্ঠিত সাহারা কাপের প্রথম খেলায় অংশ নেন। অভিষেকে ৪১ রান তুলে ২০০ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এরপর, ২ ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে নিজস্ব দ্বিতীয় ওডিআইয়ে শতক হাঁকান। এ খেলায়ও তাঁর দল জয়লাভ করে। ১২০ রান তুলে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।
২০১২-১৩ মৌসুমে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৮ মার্চ, ২০১৩ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে মমিনুল হকের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৩ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দলনায়কের অসামান্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। এ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৯ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৩ ও ১৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সোহাগ গাজী’র অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সালে নিজ দেশে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে মাত্র একটি অর্ধ-শতকের সন্ধান পেয়েছিলেন। এরপর, ২০১৪ সালে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেন। তন্মধ্যে, ২০১৪ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি শতক ও ভারতের বিপক্ষে অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস অবধি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনবদ্য সিরিজে অংশ নেন। পাঁচ খেলা থেকে দুইটি অর্ধ-শতক সহযোগে ২০০ রান সংগ্রহ করে সিরিজে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন।
২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পূর্বে আরও তিনটি অর্ধ-শতরান করেছিলেন। তাসত্ত্বেও, টেস্ট দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পাননি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের সদস্যরূপে অংশ নিলেও দূর্ভাগ্যজনকভাবে নেলসনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলায় আঘাতের কবলে পড়েন। এরফলে, তাঁকে ৬ সপ্তাহের বিশ্রামে রাখা হয়। জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর উপেক্ষার শিকারে পরিণত হন। বাংলাদেশ দলে ফিরে আসার লক্ষ্যে তাঁকে প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হয়।
২০১৬ সালে বিসিবি কর্তৃপক্ষ তাঁকে ২০১৭-১৮ মৌসুমকে ঘিরে চুক্তির বাইরে রাখে। তবে, ঢাকা বিভাগীয় লীগে ঠিকই নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। খুলনা বিভাগকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আরোহণে যথেষ্ট ভূমিকা রাখেন। ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজকে ঘিরে বোর্ড সভাপতির সুপারিশ প্রত্যাখ্যাত হয়। তবে, বিপিএলের খসড়া তালিকা থেকে চিটাগং ভাইকিংয়ের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।
২০২২ সালে সাকিব আল হাসানের অধিনায়কত্বে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৪ জুন, ২০২২ তারিখে গ্রোস আইলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২৩ ও ৪ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। স্বাগতিক দল ১০ উইকেটে জয় তুলে নেয় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে।
২০২৫ সালে নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে অসিত ফার্নান্দো’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পথুম নিসাঙ্কা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৭৮ রানে পরাভূত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
